ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যধি। আমাদের সমাজে এটি একটি বড় ধরনের সমস্যা। আমাদের দেশের আনাচে কানাচে প্রতিদিন নারী ও শিশুরা ধর্ষিত হচ্ছে। এর কারন ও প্রতিকার খুজতে গেলে অনেকেই অনেক ধরনের মতামত ব্যক্ত করেন। পয়লা বৈশাখের পর থেকে এই একটি বিষয় নিয়ে এত বেশি আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে যা এর পূর্বে কখনো এভাবে হয় নি। বাংলাদেশে ধর্ষণ ১২ নাম্বার মহা বিপদ সংকেতে আছে। এই সমাজে ধর্ষণ একটি লজ্জা জনক অপরাধ। এই ধর্ষণের প্রতিরোধে একটি যুগ উপযোগি সমাধান প্রয়োজন।
ধর্ষণের উপর আই.সি.ডি.ডি’র আরবির একটি জরিপে দেখা গেছে ৪০ শতাংশ পুরুষ তাদের বয়স ১৯ বছর হওয়ার পূর্বেই ধর্ষণ করে, ৫৭-৬৭ শতাংশ পুরুষ শুধূ মাত্র দৈহিক আনন্দের জন্য ধর্ষণ করে, ৪৩-৫১ শতাংশ পুরুষ বলছে নারীদের যৌন হয়রানি করার পর কোন অনুসূচনা হয় নি।


এখন একটু ভিতরে যাই। নারী পুরুষ সকলেরই যৌন আকাংকা বা চাহিদা রয়েছে। এমন কোন মানুষ নেই যার যৌন চাহিদা নেই। অনেক পুরুষরা নারীদের দেখলে ও অনেক নারীরা পুরুষদের দেখলে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অনেকই এই সময় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। যার ফলে এই জগন্য পথে যায়। বাংলাদেশে নারীরাই বেশি যৌন হয়রানির শিকার হয়। বিশ্বের অন্য দেশ গুলোতে নারী পুরুষ উভয়ই যৌন হয়রানির শিকার হয়। অনেক দেশে আবার যৌন চাহিদা মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। ফলে সেই সব দেশে ৬০-৭০ শতাংশ সন্তান জন্ম নিচ্ছে বাবা-মার বিবাহ ছাড়াই। আমাদের মতে এটি অসভ্য ধরনের প্রথম বিশ্ব। আমাদের সমাজে তা সম্ভব নয়। তাই এর প্রতিকার প্রয়োজন।

 

বাংলাদেশে ধর্ষণ প্রতিরোধের জন্য আদালত এবং নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন রয়েছে। আইন প্রয়োগও হচ্ছে, জেল-ফাসীও হচ্ছে। কিন্তু ধর্ষণ তো বন্ধ হচ্ছে না। আমি মনে করি জেল, ফাসী, আদালতের আইন আর গণস্বাক্ষর দিয়ে তার কোন সমাধান আসবেনা, আসছেও না। অপরাধিদের সচেতন না করে ভয় দেখিয়ে স্থায়ী কোন সমাধান আনয়ন করা যায় না। কিছু সময় বা কিছু দিনের জন্য থামীয়ে রাখা যায়।

 

সামাজিক লজ্জা মূলক এই অপরাধ প্রতিরোধ করতে হলে অপরাধীদের সচেতন করতে হবে। আর তা করতে হবে ভালোবাসার মাধ্যমে। আমাদের মানতে হবে ভয় দিয়ে জয় করা যায় না। তাই প্রথমে গুপনীয়তা বজায় রেখে এই সমস্ত অপরাদের সাথে জড়িতদের একটি তালিকা তৈরী করা প্রয়োজন। আর সেই তালিকায় স্থান পাওয়া সদস্যদের যৌন সচেতনতা মূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্তা করা প্রয়োজন। তাদের বুঝানো প্রয়োজন সবারই যৌন চাহিদা আছে। তবে এই চাহিদা যেকানে সেকানে যার তার সাথে পুরন করা যায় না। তা করতে হয় নিদ্রিষ্ট স্থানে ও নিদ্রিষ্ট মানুষের সাথে। কারন অন্য প্রাণীরা যা করে মানুষ তা পারে না। আর মানুষ যদি অন্য প্রাণীদের মানে পশুর মত আচরন করে তবে সে আর মানুষ থাকে না। তাকে পশুর সাথে তুলনা করা যায়। কোন মানুষ নিশ্চই চাইবে না তাকে পশুর সাথে তুলনা করা হোক।

 

এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে শিশু-কাশোরসহ যুবসমাজকে। যারা এই সমস্ত অপরাধ মূলক কাজ করতে পাড়ে তাদের সচেতন করার কোন বিকল্প নেই। এধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা সরকারি ভাবে বা বেসরকারি ভাবে এনজিও’র মাধ্যমে করা যায়। আমি মনে করি ধর্ষণ প্রতিরোধে যৌন সচেতনতা মূলক প্রশিক্ষণ অতিব জরুরি। তাই এই বিষয়ে ব্যবস্তা নেয়ার জন্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।