ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

এসআই অলিউল হাসান মোবাইল ডিউটি করা অবস্থায় মৌলভীবাজার শহরে এক নবজাতক ছেলে শিশু অভিভাবকহীন অবস্থায় কুড়িয়ে পান গত ২৪মে। ছেলেটির জীবন বাচাতে এসআই অলিউল হাসান তাকে চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।

উক্ত শিশুটির অভিভাবক বা তার নিকট আত্মীয় শিশুটি হেফাজতে নেওয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা, মৌলভীবাজার মডেল থানা অথবা তত্ত্বাবধায়ক, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল বরাবর যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করেন এবং ২৪মে মৌলভীবাজার মডেল থানায় জিডি করেন। জিডি নং-১৩৫১। শিশুটির অভিভাবক বা তার নিকট আত্মীয় তাকে গ্রহণ করতে না আসলে দত্তক নিতে আগ্রহী ব্যক্তিবর্গ উল্লেখ্য কর্তৃপক্ষের সাথে শিশুটিকে হেফাজতে দত্তক নেওয়া বিষয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়। দত্তক আবেদনের বিষয়ে ৫জুন মৌলভীবাজার জেলা শিশু আদালতে শুনানীর দিন ধার্য করা হয়। শিশুটির অভিভাবক বা তার নিকট আত্মীয় কেউ তাকে গ্রহণ করতে না আসলেও দত্তক নেয়ার আবেদন আসে ৫টি দম্পতির কাছ থেকে।

boishakhi_1497339708

বিগত ৫ জুন ধারাবাহিক শুনানির পর গত কাল ১২ জুন ২০১৭ খ্রি. সোমবার শুনানির চূড়ান্ত আদেশনামা ঘোষণা করেন শিশু আদালত মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত দায়রা জজ বিচারক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

আদেশনামায় বলা হয়, অদ্য প্রকাশ্য আদালতে অভিভাবক হীন ছেলেটি বর্তমানে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যায় এবং তত্ত্বাবধানে আছে। তাকে দত্তক/হেফাজতে নেয়ার প্রকাশ্য আদালতে আবেদন কারী ১. আব্দুল হাদী (৪০) পিতা দিলসাদ উল্ল্যা ও তার স্ত্রী মাসুদা বেগম (২৫) দম্পতি। তাদের ডাক্তারী পরীক্ষা পত্র Microscopic Examination and Semen Analysis Report দাখিল করেন। তাতে No sperm was seen লিখা রয়েছে, যার মানে আব্দুল হাদী সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম। বিধায় হাদী-মাসুদা দম্পতির আবেদনপত্র পর্যালোচনায় প্রতিয়মান হয় তাদের আবেদন সঠিক ও শিশু ছেলেটির অভিভাবক হওয়ার উপযোগী।

অপর চার আবেদনকারীর আবেদন স্বয়ংসম্পূর্ণ না থাকায় এবং অভিভাবকহীন শিশু একটি হওয়াতে মানবিক বিচারে শিশুর ভবিষ্যত বিবেচনা করে উক্ত শিশু ছেলেটিকে হাদী-মাসুদা দম্পতির হাতে তুলে দেয়ার আদেশ প্রদান করেন শিশু আদালত মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত দায়রা জজ বিচারক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, অভিভাবকহীন পাঁচটি বাচ্চা হলে তাদের নেয়া জন্য পাঁচ দম্পতিই আমরা পেয়েছি। সবাই মাতৃত্বের টানে এখানে একটি কুড়িয়ে পাওয়া শিশুকে বুকে তোলে নিতে ছুটে আসেন আদালতে। কিন্তু একটি মাত্র শিশু বলে তাকে পাঁচ দম্পতিকে ভাগ করে দিতে পারিনা। আমরা তার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে উল্লেখিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।

তিনি আদেশনামায় আরো বলেন, উল্লেখ্য যে অভিভাবকহীন ছেলে শিশুটি দত্তক দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের নেই। তবে শিশু আইন ২০১৩ইং এর ধারা ৮৯(গ)(ত), ৯৮,৮৪(৩), ৮৫,৬৮ ধারা বিশ্লেষণ করে শিশুটির হেফাজত ও শিশু কল্যানের জন্য আবেদন কারী হাদী-মাসুদা দম্পতির হেফাজতে প্রদানর জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো।

আদেশনামায় আরো উল্লেখিত আছে উক্ত শিশুটির জন্মদাতা পিতা-মাতা উপযোক্ত প্রমাণাদি সাপেক্ষ আদালতের অনুমতি ব্যতীত হস্তান্তর করিতে পারবে না। এবং শিশুর সার্বিক কল্যাণার্থে হেফাজত গ্রহণ করার ১৫ দিনের মধ্যে দুই লক্ষ টাকার শিক্ষা বীমা করে তার কাগজ পত্র আদালতে দাখিল করতে হবে। আদালত জীবজন্তুর হিংস্র থাবা হতে রক্ষা পাওয়া শিশুটির নাম (মুক্ত) ঠিক রাখিয়া ৭ দিনের মধ্যে ইসলামী কোন নাম রেখে তা আদালতে অবহিত করার জন্য বলা হয়।

শিশু আদালত মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত দায়রা জজ বিচারক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তদন্তকারী কর্মকর্তাকে হেফাজত গ্রহণ কারীর নিকট হতে ৫০ হাজার টাকা ১৫০ টাকার নন জুডিসিয়াল ষ্ট্যাম্পে একটি জিম্মনামা সম্পাদন পূর্বক আদালতে দাখিল করার নির্দেশ প্রদান করেন। এবং উক্ত আদেশ নামার অনুলিপির মৌলভীবাজার মডেল থানা, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল, প্রেস ক্লাব, এমসিএস সহ প্রাসঙ্গিক প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করা হয়।