ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

জানি না জোসনা এখন কেমন আছে!
সাধারণ, পরিবারের জোসনা বাংলাদেশের কোটি নারীর একজন। ন্যায় বিচারের স্বার্থে তাকে এখন অনেক বেশি প্রয়োজন। গত প্রায় এক বছর ধরে কারাগারে আটক ছিলেন তিনি। সর্বশেষ তার অবস্থান কোন কারাগারে তা জানা সম্ভব হয়নি। এক বছর আগে রাজধানীর শুক্রাবাদে ভাড়া থাকতেন তিনি। তারই বাড়িওয়ালার ছেলে সুজন একদিন হঠাৎই গুম হয়ে যায়। গুম হবার একমাত্র স্বাক্ষী জোসনা। এখন সেই স্বাক্ষীকেই থাকতে হচ্ছে কারাগারে।

মামলাটি চলে গেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে — চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে। আর গুম হবার এ ঘটনায় RAB এর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে সাক্ষী দিয়েছিলো জোসনা। তাঁর জবানবন্দি ভিডিও ফুটেজ আমি সংগ্রহ করেছি। এ বিষয়ে আমার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন গত বছরের ৩১শে ডিসেম্বর বিডিনিউজ২৪ডটকম এ প্রকাশিত হয়।

নিখোঁজ’ ওই যুবকের পুরো নাম ইউসুফ আলী সুজন (৩১)। সুজনের ভাই মাহবুব জানান, ২০১০ সালের ২৪শে মার্চ ফার্মগেট এর একটি রেস্তোরার সামনে থকে ধরে নিয়ে যায় RAB-২ এর কয়েকজন সদস্য। তাঁর দাবি, ঘটনাটির একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন জোসনা।

সুজনের পরিবারের অভিযোগ, RAB-২ এর সদস্যরা ওই সময় জোসনাকেও তাদের হেফাজতে নেয়। পরে জোসনাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও খোঁজ মেলেনি সুজনের। এ ঘটনায় একই বছরের ২৯শে মার্চ শেরে বাংলা নগর থানায় এ বিষয়ে মামলা করেন মাহবুব। ঘটনার পর জোসনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। আর পুলিশের কাছে দেয়া জোসনার জবানবন্দিতে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পুলিশের কাছে জোসনা জানান “ফার্মগেটে দেখি RAB-২ এর ইকবালসহ একদল সদস্য সুজনকে তাদের গাড়িতে ওঠার জন্য টানাটানি করছে।” সে সময় তিনি সুজনকে ছেড়ে দিতে RAB সদস্যদের অনুরোধ করলে তারা তাকেও ধরে নিয়ে যান বলে জানান জোসনা। তিনি বলেন, “সুজনকে নিয়ে RAB-২ এর অফিসে ফরহাদ স্যারের হাতে দেওয়া হয়।” পুলিশকে দেওয়া জোসনার জবানবন্দির ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহে রয়েছে।

সুজন গ্রেপ্তার হওয়ার দিন নৌবাহিনী থেকে RAB-২ এ প্রেষণে যোগ দেওয়া লেফটেন্যান্ট ফরহাদ এবং দুজন ডিএডি’র সঙ্গে জোসনার ঘনঘন টেলিফোন সংলাপ এবং সুজনকে ফার্মগেটে ডেকে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

ওইদিন (গত ২৪ মার্চ) বিকেল ৫টা এক মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত লেফটেন্যান্ট ফরহাদসহ RAB এর তিন সদস্যের সঙ্গে ঘনঘন কথা হয় জোসনার। সেদিন লেফটেন্যান্ট ফরহাদ, ডিএডি রফিক ও ডিএডি সামসু তাদের অফিসের মোবাইল নম্বর থেকে ঘনঘন যোগাযোগ করেন জোসনার সঙ্গে। একই সময় জোসনা তার পুরনো মোবাইল ফোন থেকে যোগাযোগ করেন সুজনের মোবাইলে। জোসনার সঙ্গে লেফটেন্যান্ট ফরহাদ ও দুই ডিএডি’র ক’বার টেলিফোন সংলাপ হয়েছে তার বিস্তারিত তথ্যও জানা গেছে। ফরহাদ ১৯ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত জোসনার সঙ্গে মোবাইল ফোনে ২৫ বার, ডিএডি সামসু ১৭ বার ও ডিএডি রফিক তিনবার কথা বলেছেন। সুজনকে “ধরে নেওয়ার’ অভিযোগ ওঠার পর লেফটেন্যান্ট ফরহাদকে RAB-২ থেকে নৌবাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে। আর এ মামলার একমাত্র স্বাক্ষী জোসনাকে তাই নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। ন্যায় বিচারের স্বার্থে তা অত্যন্ত জরুরী। জোসনার কোন ক্ষতি হলে তা ন্যায় বিচারকেই ক্ষতিগ্রস্থ করবে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আর্টিকেল ৩২ এ জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার রক্ষণের কথা বলা হয়েছে।