ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

ক’দিন আগে বিডিব্লগে বিশ্বের চাঞ্চল্যকর ১০টি ‘গুম’ কাহিনী লিখেছিলাম। যার মধ্যে অষ্ট্রেলিয়ার একজন প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন। পরের লেখায় বাংলাদেশের কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ‘গুম’ বা ‘নিখোঁজ’ কাহিনী লেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আজকের লেখায় মাত্র ৫টি ‘গুম’ বা ‘নিখোঁজ’ হয়ে যাবার কথা বলেছি। এর মধ্যে রয়েছেন পাহাড়ি নেত্রী, পুলিশ কনস্টেবল, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং তালিকাভুক্ত ‘সন্ত্রাসী’।

১.কল্পনা চাকমা:
“পুরুষ অবরুদ্ধ আপন দেশে, নারী অবরুদ্ধ নিজ নিবাসে”। এ অবস্থা আর কত দিন চলবে? আর আমাদের জুম্ম নারীদের অবস্থার বর্ণনা করার জন্য আমরা আর কতদিন বলব –
সচল হয়েও অচল সে
যে বস্তার চেয়েও ভারী
মানুষ হয়েও সঙ এর পুতুল
পার্বত্য কোলের নারী

উপরের কথাগুলো আর কবিতার লাইন কল্পনা চাকমার।
হিল উইমেন্স ফেডারেশন নেত্রী কল্পনা চাকমাকে ১৯৯৬ সালের ১২ই জুন ভোর রাতে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি থানার নিউ লাল্যাঘোনা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৭ ঘন্টা আগে ঘটে এটি। অপহরণকারীরা তার দুই ভাই কালিন্দী কুমার চাকমা ও ক্ষুদিরাম চাকমাকেও চোখ বেঁধে নিয়ে যায়। তারা কোনোমতে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পায়।

২. পুলিশ কনস্টেবল নুরুন্নবী
‘আমি মারাত্মক বিপদে আছি,’ স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তারের সাথে এটাই ছিলো তাঁর শেষ কথা।
পুলিশ থেকে প্রেষণে RAB-৩ ব্যাটায়িন এ পোস্টিং হয়েছিলো কনস্টেবল নুরুন্নবীর। ২০০৯ সালের ৩রা মে শেষবার কথা বলেন স্ত্রীর সাথে। তারপর থেকেই নিখোঁজ তিনি। প্রায় দশমাস খোঁজ না পেয়ে ২০১০ সালের ১০ই মার্চ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাংবাদিক সম্মেলন করেন নিখোঁজ কনস্টেবলের স্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন র‌্যাব এর একজন কোম্পানী কমান্ডার, ওয়ারেন্ট অফিসার এবং একজন সার্জেন্ট তার স্বামীকে অপহরণ করে গুম করেছে। ২০০৯ সালের ৩০শে এপ্রিল র‌্যাব-৩ থেকে র‌্যাব সদর দপ্তরে নেয়া হয় নুরুন্নবীকে।

৩. ব্যবসায়ী সুজন:
২০১০ সালের ২৪শে মার্চ ফার্মগেট এর একটি রেস্তোরার সামনে থেকে ব্যবসায়ী ইউসুফ আলী সুজন (৩১) ধরে নিয়ে যাবার অভিযোগ রয়েছে র‌্যাব-২ এর কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একই বছরের ২৯শে মার্চ শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা করেন সুজনের বড় ভাই মাহবুব। এ ঘটনার একমাত্র স্বাক্ষী ছিলেন জোসনা নামের সুজনদের এক ভাড়াটে। জোসনাকে উদ্ধৃত করে নিখোঁজ সুজনের ভাই মাহবুব বলেন, নৌবাহিনী থেকে র‌্যাব-২ এ প্রেষণে যোগ দেওয়া লেফটেন্যান্ট ফরহাদ এবং ডিএডি রফিক ও ডিএডি সামসু এ ঘটনার সাথে জড়িত। মামলাটি চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নেয়া হলেও আর খোঁজ পাওয়া যায়নি সুজনের।

৪. চৌধুরী আলম:
বিএনপি নেতা এবং ঢাকা সিটি করপোরেশন ওয়ার্ড কাউন্সিলর চৌধুরী আলমের খোঁজ পাওয়া যায়নি এক বছরেও। ২০১০ সালের ২৫ শে জুন নিখোঁজ হন তিনি। পরিবারের অভিযোগ রাজধানীর ইন্দিরা রোড এলাকা থেকে তাকে ধরে নিয়ে গেছে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। এ ঘটনায় ৩০শে জুন তার ছেলে আবু সাইদ শেরে বাংলা নগর থানায় একট্ িসাধারণ ডায়রি করেন। পরে একই থানায় পহেলা জুলাই, ২০১০ একটি অপহরণ মামলা করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে।

৫. কালা জাহাঙ্গীর:
মা পিয়ারি বেগম এক সময় দাবি করেছিলেন তার ছেলে মারা গেছে। দেশের প্রথম সারির এক পত্রিকায় পিয়ারি বেগমের সাক্ষাতকারও ছাপা হয়েছিলো। তবে, নিশ্চিত করে এখনো কেউ বলতে পারছেন না তার ছেলে জীবিত না মৃত। আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা মানতে নারাজ তিনি মৃত। তাহলে তিনি কোথায়? এর উত্তরও জানা নেই কারো। কেউ কেউ সন্দেহ করেন মারা যাবার গুজব ছড়িয়ে ভারত বা অন্য কোন দেশে লুকিয়ে আছেন তিনি। আর তাই, বিভিন্ন সময় বারবারই চলে আসেন আলোচনায়। খবরের শিরোনামে। বলছি, কালা জাহাঙ্গীরের কথা।

২০০১ সালের ২৭শে ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় যে ২৩ জন ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীর’ তালিকা প্রকাশ করে তার প্রথম নম্বরে ছিলেন তিনি। তাকে জীবিত বা মৃত ধরার জন্য এক লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়। কালা জাহাঙ্গীরের জন্ম বগুড়ায়। বেড়ে উঠেছেন ঢাকার কাফরুলে।

সূত্র:
১. কল্পনা চাকমার ডায়রি, সম্পাদনা হিল উইমেন্সফেডারেশন
২. (স্বাধিকার: বুলেটি নং-৭, ২০শে আগস্ট, ১৯৯৭)।