ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, স্বাধিকার চেতনা

বাংলাদেশে একক পরিবার হিসেবে একাত্তরে সবচেয়ে বেশি নৃশংস অত্যাচার চালিয়েছিলো তখনকার কনভেনশন মুসলমি লীগের সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরীর পরিবার। ফজলুল কাদের চৌধুরী আর তার ছেলে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীই সে সময় পাকবাহিনীর সহায়তায় তার অন্য অনুচরদের নিয়ে সমগ্র রাউজান ও চট্টগ্রাম শহরে ভয়াবহ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।

১৯৮৩ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদশে সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র বইতেও ফজলুল কাদের বা ফকা চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন কাদের বা সাকা চৌধুরীর হত্যা, নির্যাতন, লুটতরাজসহ নানা অপকর্মের বিবররণ দিয়ে তাদেরকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিন্হিত করা হয়েছে। রাউজানে ও চট্টগ্রাম শহরের রহতমগঞ্জের গুডস হিল এ তারা কনসেনট্রেশন ক্যাম্প বসিয়ে গেস্টাপো কায়দায় নির্মমভাবে নির্যাতন চালিয়ে বাঙালিদের খুন করেছে। তাদের হাতে সে সময় শহীদ হয়েছেন অনেক মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সাংবাদিকসহ অনেক সাধারণ মানুষ।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে নানা নাশকতামুলক কাজে জড়িয়ে পড়েন। পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে নিয়ে চট্টগ্রাম শহরের গুডস হিলস্থ নিজ বাসভবনে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী তার পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে এবং ভাই গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সহযোগিতায় গড়ে তোলেন কনসেনট্রেশন ক্যাম্প।

গুডস হিল

১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি দৈনিক বাঙলা পত্রিকায় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী গংদের মুক্তিযুদ্ধকালীন কর্মকান্ড সম্পর্কে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়: সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর গুডস হিলের মরহুম ড. সানাহউল্লার এক ছেলেসেহ চাটগাঁ এর কয়েকশ ছেলেকে ধরে এনে নির্মম অত্যাচার করতো। ১৭ই জুলাই ১৯৭১ এ ছাত্র নেতা ফারুককে ধরে এনে পাক বাহিনীর সহায়তায় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী হত্যা করেন। ২৬ শে মার্চ থেকে আত্মসমর্পনের পূর্ব পর্যন্ত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাসায় পাক বাহিনীর এক প্লাটুন সৈন্য মোতায়েন থাকতো। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, ফজলুল কাদের চৌধুরী সহ তাদের পরিবার প্রায় দেড়মণ সোনাসহ পালানোর সময় মুক্তিবাহিনীর কাছে গত ১৮ই ডিসেম্বর ৭১ ধরা পড়েন।

চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত, সাখাওয়াত হোসেন মজনু লিখিত – একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের শহর চট্টগ্রামের নির্যাতন কেন্দ্র ও বধ্যভুমি- গ্রন্থে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বাঙালী দালালদের নির্যাতন কেন্দ্রগুলোর বর্ণনা দিতে গিয়ে গুডস হিল সম্পর্কে লিখেছেন: মুসলিম লীগের চরমপন্থীরে দ্বারা এ নির্যাতন কেন্দ্র পরিচালিত হতো। এ বাড়িটি ফজলুল কাদের চৌধুরীর বাড়ি। … … … গুডস হিল স্বাধীনতার স্বপক্ষের মানুষের নির্যাতন কেন্দ্রে পরিণত হয়। … … … এ কেন্দ্র পরিচালনার সাথে তার পুত্র সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। শহরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে স্বাধীনতার স্বপক্ষের মানুষজনকে এখানে ধরে এনে লটকিয়ে পেটানো হতো। এ বাড়িতে প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুককে হত্যা করা হয়েছে। আল বদর বাহিনীর একটা বিশেষ গ্রুপ এ বাড়ির নির্যাতনের প্রত্যক্ষ সহযোগী ছিলো।

অত্যাচার, নির্যাতন

চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত মাহবুব-উল-আলম এর বাঙালীর মুক্তিযুদ্ধের ইতিবৃত্ত গ্রন্থের ৬৯ নম্বর পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে: নিজামুদ্দিন ১৮ই নভেম্বর চট্টগ্রাম জেল থেকে মুক্তি পেয়েছে। সে সেখানে পিঠ মোড়া করে বেধে ফজলুল কাদেরের পুত্র সালাহউদ্দিন, অনুচর খোকা, খলিল ও ইউসুফ বড় লাঠি, বেত প্রভৃতি হাতে আমাকে পিটাতে থাকে। পাচ ঘন্টা মারের চোটে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি ৬ই জুলাই রাত্রি সাড়ে ১১ টায় আমাকে স্টেডিয়ামে চালান দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত আমাকে কিছু খেতে দেওয়া হয়নি, পানি পর্যন্ত না। পানি খেতে চাইলেই বলা হয়েছে: তুই শালা হিন্দু হয়ে গেছিস, তোকে পানিও দেওয়া হবে না। ১৩ ই জুলাই আমাকে জেলখানায় সোপর্দ করা হয়। এই সময়টা আমাকে পা উপরের দিকে মাথা নীচের দিকে করে লটকিয়ে মারা হতো। যখন নীচে নামানো হতো তখন সারা দিনে দুখানা রুটি ও পানি দেওয়া হতো বটে, কিন্তু কথায় কথায় লাথি মারা হতো। বিপদে পড়ে আমি আলেমের ছেলে নামাজ পড়া শুরু করেছিলাম। কিন্তু নামাজের জন্য দাড়ালেই সৈন্যরা পেছন থেকে লাথি মারতো, বলতো, তুই শালা হিন্দু হয়ে গেছিস, তোর আবার কিসের নামাজ।

অধ্যক্ষ নূতন চন্দ্র সিংহ হত্যা

নতুন চন্দ্র সিংহ হত্যা মামলা হয়েছিলো ১৯৭২ সালের ১৩ ই এপ্রিল। এর বাদি সত্য রঞ্জন সিংহ। এই মামলায় প্রধান আসামি করা হয় এ কে এম ফজলুল কাদের চৌধুরী, পিতা আলহাজ আবদুল জব্বার চৌধুরী এবঙ দ্বিতীয় আসামি করা হয় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, পিতা এ কে এম ফজলুল কাদের চৌধুরীসহ ১০ জনকে। নূতন চন্দ্রের পুত্র রঞ্জন সিংহসহ মোট ১২ জন সাক্ষী ছিলেন এই মামলায়। মামলার এফ আই আর নং ইউ/এস/৩০২/১২০ (১৩)/২৯৮ বিপিসি।

মামলটি ১৯৭২ সালের ২৯ জানুয়ারি শুরু হয়। মামলার আসামিদের মধ্যে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ পাঁচজন পলাতক ছিলেন। অন্যদিকে তার পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরী ছিলেন জেলহাজতে। চন্দ্র সিংহকে হত্যার সময় দোতালা থেকে লুকিয়ে এ হত্যাকান্ড দেখেন তার কর্মচারী ব্রজহরি কর্মকার।

চার্জশিট

১৯৭২ সালের জানুয়ারি, সব আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়। চার্জশিটে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলা হয়।

যেভাবে ঘটে নৃশংস সে হত্যাকান্ড

নূতন চন্দ্র সিংহের ছেলে প্রফুল্ল রঞ্জন সিংহ বলেন, ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল গহীরা হাই স্কুলের ছাদে কামান বসিয়ে মিলিটারী সকাল থেকে চার ধারে গোলা বর্ষণ করতে থাকে। তার কোন কোনটি এসে কুন্ডেশ্বরী ভবনকে আঘাত করছিল। মিলিটারী আসার আগেই পরিবারের সব সদস্য আর কর্মচারীদের কুন্ডেশ্বরী ভবন থেকে সরিয়ে দেন অধ্যক্ষ নূতন চন্দ্র সিংহ। কিন্তু, নিজে কুন্ডেশ্বরী মন্দিরকে আকড়ে পড়ে ছিলেন। মিলিটারী আসতে পারে অনুমান করে উঠানে তাদের অভ্যর্থনার জন্যে চেয়ার টেবিল সাজিয়ে রেখেছিলেন। মিলিটারী এলো ২ খানি জীপে, একখানির ভেতর ফজলুল কাদের চৌধুরীর বড় ছেলে সালাহউদ্দিন কাদের ছিলেন বলে জানান প্রফুল্ল রঞ্জন সিংহ। কুন্ডেশ্বর ভবনে দেয়া সাক্ষাৎকারে প্রফুল্ল রঞ্জন সিংহ বলেন, হত্যাকান্ডের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন তাদের কর্মচারী ব্রজহরি কর্মকার। ভবনের দোতালা থেকে লুকিয়ে এ হত্যাকান্ড ব্রজহরি কর্মকার দেখেন।

সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করে নূতন চন্দ্র সিংহের ছেলে প্রফুল্ল রঞ্জন বলেন, পেছনে চারখানি ট্যাংক কুন্ডশ্বেরীর রাস্তায় দাড়িয়ে। অধ্যক্ষ মিলিটারীকে অভ্যর্থনা জানালেন। মিলিটারী সন্তুষ্ট হয়ে চলে গেল। কিন্তু সালাহউদ্দিন তাদের ফিরিয়ে আনলেন। তার বাবা ফজলুল কাদের চৌধুরী বলে দিয়েছেন: এই মালাউনকে আস্ত রাখলে চলবে না। প্রফুল্ল রঞ্জন জানান সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী নিজ হাতে তার পিতাকে তিনটি গুলি করে। একটি গুলি চোখের নিচে বিদ্ধ হয়, একটি গুলি তার হাতে লাগে, তৃতীয় গুলি তার বক্ষভেদ করে যায়।

চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত মাহবুব-উল-আলম এর বাঙালীর মুক্তিযুদ্ধের ইতিবৃত্ত গ্রন্থে বলা হয়েছে: নূতন চন্দ্র সিংহের জন্য কেঁদেছে হিন্দু, কেঁদেছে মুসলমান। মুসলমান যখন কেঁদেছে সালাহউদ্দীন বলেছে, প্রবেশ মালাউন মলো, তোমরা শোক কচ্ছ কেন? … ১৩ই এপ্রিল , ১৯৭১ শুধু কুন্ডেশ্বরী ঔষলয়ের অধ্যক্ষ নূনত চন্দ্র সিংহের হত্যার জন্য স্মরণীয় নয়, অন্য দুইটি হত্যার জন্যও স্বরণীয়। ফজলুল কাদের চৌধুরীর পুত্র সালাহউদ্দিন পরিচালনায় গুন্ডা বাহিনী সকাল সাড়ে দশটায় গহীরার বনেদী বিশ্বাস পরিবারে ঢুকে চিত্তরঞ্জন বিশ্বাসের পুত্র কলেজ ছাত্র ও ছাত্র কর্মী হরি বিশ্বাসকে ধরে ফেলে এবং তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে । (পৃষ্ঠা ২৫৪-২৫৫)

১৯৮৭ সালে মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিকাশ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত একাত্তরের ঘাতক ও দালালেরা কে কোথায় বইতে লেখা হয়েছে: রাউজানে গহিরা বিশ্বাস বাড়ি, উত্তর সর্তা, সুলতানপুর জগৎ মল্লাপাড়া এলাকায় কমপক্ষে ৪৭ জনকে নির্মমভাবে খুন করে সাকা ও পাক বাহিনী।

ভাগ্যক্রমে সে গণহত্যায় বেঁচে যান অনেকে। সে গণহত্যায় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর জড়িত থাকার অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শী মাখন চন্দ্র পাল, উর্মিলা পাল, তপতী পাল, মিনতি মহাজন।

শেখ মোজাফফর ও শেখ আলমগীর হত্যা

চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোজাফফর এবং তার ছেলে শেখ আলমগীরকে হত্যা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার সহযোগিরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল হাটহাজারী পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ক্যাম্পের কাছাকাছি সড়ক থেকে ধরে নিয়ে যায় হাটহাজারী ক্যাম্পে। সেখানে তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে তাদের লাশেও খুজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন শহীদ মোজাফফরের ছেলে শেষ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। চট্টগ্রামে নিজ বাসভবনে তিনি বলেন, পাকিস্তানী এক ক্যাপ্টেনের সহায়তায় এ নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালান সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। সে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন তাদেরই আত্মীয় মমতাজ বেগম। তিনি বলেন, একই গাড়িতে করে তারা যাচ্ছিলেন। পথে হাটহাজারি এলাকায় তাদের গাড়ি তল্লাশি করে দুজনকে ধরে নিয়ে যায় পাকিস্তানী সেনাবাহিনী। ঘটনাস্থলে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী তার অনুচর মোসলেমকে তিনি দেখেছেন বলে এই প্রতিবেদককে জানান।

স্বাধীনতার পর শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরও বাদী হয়ে একটি মামলা করেছিলেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী গংদের বিরুদ্ধে।

মোহাম্মদ হানিফ হত্যা

নোয়াপাড়া কর্তার দিঘীর পাড়। সোনা মিয়ার বাড়ি। রাউজান থেকে ৮ কি.মি দূরে। এখানেই থাকতেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ হানিফ। একাত্তরে সাকার ক্যাডার মুন্সী ও ফয়েজ ধরে নিয়ে যায় তাকে। নৃশংস সে হত্যাকান্ডের পরই গ্রাম থেকে পালিয়ে যান তার স্ত্রী নুর। কোলে ছোট্ট শিশু তাজউদ্দিন। এখন হাটহাজারী আকবরিয়া মাদ্রাসার পাশেই বাপের বাড়ি থেকেন হানিফের স্ত্রী। ছেলে তাজউদ্দিন বলেন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার অনুচর মোসলেম তার পিতাকে ধরে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। তিনি বলেন, মামলা হলেও এখনও বিচার পাননি।

সাকাকে অ্যাম্বুস:

মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, সাকার মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কাজ ঠেকাতে তাকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন তারা। খবর আসে, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী যাবেন পরিচিত একজনের বাড়ি। এটা মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকের কথা। ঠিক হলো, তাকে অ্যাম্বুস করা হবে। সেদিন প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছিলো। এক গজ দূরের জিনিসও পরিস্কার দেখা যাচ্ছিলো বলে জানান সে অপারেশনে অংশ নেয়া মুক্তিযোদ্ধা নুরূল আবসার। অভিযানে আরো অংশ নেন সৌরিন্দ্র নাথ সেন এবং ফজলুল হক ভুইয়া। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মাহবুব বলেন, খবর ছিলো সাকা গাড়ির সামনের সীটে থাকবেন। পরিকল্পনা মতো প্রস্তুত দুর্ধষ মুক্তিযোদ্ধারা। কিন্তু ধূর্ত সালাহউদ্দিন ছিলেন গাড়ির পেছনের সীটে। মুক্তিযোদ্ধারা তার গাড়িতে গুলি করলে তার ড্রাইভার নিহত হন। পালিয়ে যান সাকা। কিন্তু তার পায়ে গুলি লাগে। আর তারপরই সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে তার পিতা বিলাত পাঠিয়ে দেন।

৬ টি মামলা:
বাংলাদশে স্বাধীন হবার পর রাউজান থানাতেই ফকা চৌধুরী ও সাকা চৌধুরীসহ অন্যদেরকে আসামি করে ৬টি মামলা হয়েছিলো। মামলা নম্বর: ৪১ (১) ৭২, ৪ (৩) ৭২, ৯ (৩) ৭২, ৪ (৪) ৭২, ৫ (৪) ৭২ ও ১৮ (৪) ৭২।

পরবর্তীতে এসব মামলার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একট রীট পিটিশন করা হয় (পিটিশন নম্বর ৩৬৫/৭৩)। মামলাগুলো হাইকোর্টে স্থানান্তর করা হয় সাকা চৌধুরীদের পক্ষ থেকে।

১৯৯৮ সালের ১৫ জুন এসব মামলা পুনরুজ্জীবিত করে পুনতদন্তের আদশে দেয়া হয়েছিলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। কিন্তু নানা কারণে তদন্তকাজ আর আগায়নি।

২০১০ সালের ২৬ জুলাই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের হয়। তাকে গ্রেপ্তারে গত ১৫ ডিসেম্বর ট্রাইবুনালে আবেদন করে যুদ্ধাপরাধ তদন্ত সংস্থা। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাড়ি পুড়িয়ে যাত্রী হত্যার মামলায় এ সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯ ডিসেম্বর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগেও গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাকে।

***
ফিচার ছবি: আন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত