ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

টেন্ডার সিডিউলের শর্ত লঙ্ঘন করে ত্রুটিযুক্ত উড়োজাহাজ (A-310-300) লিজ নেওয়ায় বাংলাদেশ বিমানের ১,০৪,৩২,০৭০ মার্কিন ডলার বা প্রায় তেষট্টি কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।

বাংলাদেশের ক¤পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল এর ১৯৯৬-৯৭ হতে ২০০৫-০৬ সালের বিশেষ অডিট রিপোর্ট এ তথ্য ফাঁস হয়েছে।

বিশেষ এই অডিট রিপোর্টটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ-১৩২ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট পেশকরা হয়েছে।

ত্রুটিযুক্ত উড়োজাহান লিজ নেয়া হয়েছিলো Crane Aircraft, USA এর কাছ থেকে।

প্রতিবেদনে জানা যায়, বিমানের প্যানেল আইনজীবি জনাব সিগমা হুদার ক্লায়েন্ট হলো লীজদাতা Crane Aircraft|

অডিট রিপোর্টে জানা যায়, বিমান বহরে উড়োজাহাজের লিজ মেয়াদ শেষে উড়োজাহাজ সংকটের কারণে যাতে সিডিউল বিপর্যয় না ঘটে সেজন্য প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যে ১টি A310-300 উড়োজাহাজ লিজ গ্রহণের জন্য ৪র্থ বার ৫-৬ মার্চ, ২০০৩ তারিখে পুনঃ টেন্ডার করে Crane Aircraft, USA এর সাথে লিজ চুক্তি সম্পাদন করা হয়। লিজ কার্যক্রম পর্যালোচনায় নিু বর্ণিত অনিয়ম খুঁজে পাওয়া যায়:

(১) কারিগরী মূল্যায়নের সময় Crane Aircraft- এর অফার কাগজে-কলমে responsive হয়, কিন্তু inspection report অনুযায়ী দেখা যায় যে সিডিউলের শর্তে ২৫টি বিজনেস ও ১৯৬টি ইকোনমি ক্লাস-এর সিট থাকার শর্ত থাকলেও বাস্তবে ২৫৪টি ইকোনমি ক্লাসের সিট, কেবি ক্র সিট ৯টির পরিবর্তে ৮টি, টয়লেট ৬টার পরিবর্তে ৫টি, এরকম প্রায় ১৭৯টি discrepancies ছিল (DCE-Engg. Planning এর ১৫-০৩-২০০৭ তারিখের পত্র ও Acceptance Certificate অনুযায়ী)।

(২) পরিদর্শন কালে উড়োজাহাজের প্রধান ইঞ্জিন, APU, Landing gear পরিদর্শন দল verify করতে পারেনি, কারণ পরিদর্শনের সময় উড়োজাহাজের দরজা-জানালা seal করা ছিল এবং power বন্ধ ছিল। এতে পরিদর্শনের পরিকল্পনা এবং পরিদর্শনের কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

(৩) অফার মূল্যায়নে সবগুলি mandatory requirements পূরণ দেখানো হলেও বাস্তবে ২টি requirements পূরণ করতে Crane Aircraft ব্যর্থ হয়। সে হিসাবে Crane Aircraft এর অফার non-responsive ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও ১৭৯টি discrepancies এর ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩,০০০ মার্কিন ডলার বিমানকে দিবে শর্তে লীজ চুক্তি সম্পাদিত হয় যা নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।

(৪) আলোচ্য টেন্ডার সিডিউল সম্পর্কে বিমানের Legal Consultant ও প্যানেল আইনজীবির মতামত (পর্ষদ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী) চাওয়া হলে জনৈক প্যানেল আইনজীবি টেন্ডার সিডিউল গ্রহণযোগ্য মর্মে মতামত দেন, কিন্তু অন্য লিগ্যাল কনসালটেন্ট সিডিউলে কতিপয় বিষয় সংযোজনের সুপারিশ করলেও তা বিমান কর্তৃপক্ষ আমলে নেয়নি।

(৫) বিমানের প্যানেল আইনজীবি জনাব সিগমা হুদার ১৬-০৩-২০০৫ তারিখের পত্রে দেখা যায় যে, লিজদাতা Crane Aircraft তাঁর ক্লায়েন্ট। ফলে এ ক্ষেত্রে প্রতীয়মান হয় যে, টেন্ডারে অংশ গ্রহণকৃত একটি প্রতিষ্ঠানের আইনজীবিকে দিয়ে টেন্ডার সিডিউলের উপর আইনি ব্যাখ্যা বা মতামত নিয়ে টেন্ডার নোটিশ প্রকাশ করা এবং সেই প্রতিষ্ঠানের সাথে লিজ চুক্তি সম্পাদন করা একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে কাজ দেয়ার আনুকল্য প্রদর্শনের শামিল। ফলে ত্র“টিযুক্ত উড়োজাহাজ লীজ গ্রহণে বিমানের আর্থিক স্বার্থ ক্ষুন্ন হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, টেন্ডার সিডিউলের শর্ত লংঘন করে ত্রুটিযুক্ত উড়োজাহাজ লিজ নেয়ায় বিমানের আর্থিক ক্ষতি সাধন করা হয়েছে।

দায়-দায়িত্ব নির্ধারন করে ক্ষতির টাকা আদায় করারও সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।