ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, রাজনীতি

শেখ হাসিনার সরকার উৎখাতের কথিত পরিকল্পনাকারী মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক আর তার সাথের লোকজন নিষিদ্ধ উগ্র ইসলামী দল হিযবুত তাহরিরের সাথে জড়িত ছিলেন বলে সেনাবাহিনীর বক্তব্যের পর এই বাহিনীতে উগ্র ইসলামী দলের প্রভাব নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

কেউ বলছেন পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। কেউবা বলছেন না।

কয়েক বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় এবং Carl J. Ciovacco এর যৌথভাবে লিখেছিলেন ‘Stemming the rise of Islamic Extremism in Bangladesh’। আর্টিকেল এর শুরুতে বলা হয়েছিলো:

“Islamic extremism is also on the rise in Bangladesh because of the growing numbers of Islamists in the military. The Islamists cleverly began growing their numbers within the Army by training for the Army Entrance Exams at madrassas.

আর্টিকেল এ বলা হয়েছিলো, only 5 percent of military recruits came from madrasses in 2001. By 2006, at the end of the BNP’s reign, madrassas supplied nearly 35 percent of the Army recruits.

বৃহস্পতিবারের ‘সারপ্রাইজ’ প্রেস ব্রিফিং এ সেনাবাহিনী জানায় উগ্র ইসলামী সংগঠন হিযবুত তাহরিরের সাথে ব্যর্থ অভ্যুত্থানকারীদের জড়িত থাকার কথা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অভ্যুত্থানের এই পরিকল্পনায় ধর্মীয় কট্টর একটি গোষ্ঠী, অতীতের গণতন্ত্র ধ্বংসের বিভিন্ন অপশক্তি জড়িত রয়েছে। আর অপপ্রচারের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে স্বার্থান্বেষী সংবাদপত্র, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম।

তবে সেনাবাহিনীতে উগ্র ইসলামপন্থীরে প্রাধান্য নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

সেনাবাহিনীতে কি জঙ্গি সংগঠনগুলোর প্রাধান্য বাড়ছে এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিস এন্ড কনফ্লিক্ট বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, “বিষয়টি স্পর্শকাতর। আমি মনে করি সেনাবাহিনীতে উগ্র ইসলামী সংগঠনগুলোর প্রাধান্য বাড়ছে”।

তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্ররাই হিযবুত তাহরির এর সাথে জড়িত।

“যেহেতু সেনাবাহিনীতে ব্রিলিয়ান্ট ছাত্রদের রিক্রুট করা হয় তাই এসব উগ্র সংগঠনের ছাত্রদের সেখানে যাওয়া বিচিত্র নয়,” বলেন তিনি।

বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সেনাবাহিনীতে তাদের রিক্রুট করা হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গবেষণা প্রতিবেদনের উল্লেখ করে তিনি বলেন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে দাখিল ও কওমী মাদ্রাসা থেকে অনেকে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে।

“বিষয়টি আতংকের ও উদ্বেগের,” মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, হাইপোথেটিকেলি ও লজিকেলি বলা যায় সেনাবাহিনীতে উগ্র ইসলামীদের প্রাধান্য বেড়েছে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আবদুর রব অবশ্য দ্বিমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, মেজর জিয়ার ব্যর্র্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার মানে এই নয় যে সেনাবাহিনীতে উগ্র ইসলামপন্থীদের আধিপত্য বেড়ে গেছে।

এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, দেশে হিযবুত তাহরিরের কর্মকান্ড বেড়ে গেছে এটা সত্যি। ব্যর্থ অভ্যুত্থানের আগে ও পরে উগ্র ধর্মীয় সংগঠনটি পোস্টার ও লিফলেট বিলি করে হয়তো ফায়দা লুটার চেষ্টা করেছে।

“তার মানে এই নয় যে, সেনাবাহিনীতে হিযবুত তাহরির এর প্রাধান্য বাড়ছে,” মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, হিযবুত তাহরির হয়তো ঘটনাকে উসকে দিয়েছে।

“তবে আমি মনে করি, হিযবুত তাহরির ঘটনার পেছনের অ্যাকটর না,” মন্তব্য করেন এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

কয়েক বছর আগে লেখা সজিব ওয়াজেদ জয় এর আর্টিকেল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা অনেক আগের কথা। সময়ই প্রমাণ করেছে সেনাবাহিনীতে উগ্র ধর্মীয়বাদের প্রাধান্য আছে কিনা।

***
ফিচার ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম সংবাদ প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট