ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

সরকারের মেয়াদ তিন বছর পেরিয়ে গেলেও মাত্র দুটি মন্ত্রণালয় ছাড়া বেশিরভাগ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এখনো রয়ে গেছে ইংরেজী ভাষায়।

এর মধ্যে কয়েকটি মন্ত্রণালয় ইংরেজী ও বাংলা উভয় ভাষায় হলেও বেশিরভাগ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটই ইংরেজী ভাষা নির্ভর। কেউ বাংলা দেখতে চাইলে ইংরেজী হোমপেইজ থেকে বাংলায় ক্লিক করে যেতে হবে।

যে দুটি মন্ত্রণালয় এর ওয়েবসাইট খুললেই বাংলা ভাষা ভেসে ওঠে সেগুলো হলো ‘মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ ও ’মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’।

সবচেয় হতাশার ব্যাপার চোখে পড়েছে ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ এর ওয়েবসাইট এ যেয়ে। ‘লেটেস্ট ইভেন্ট’গুলো শুধুমাত্র বাংলায় দেয়া হয়েছে। তাও আবার পিডিএফ ফরমেটে।
একই অবস্থা দেখা গেছে ‘প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়’ এরও।

এছাড়া তথ্য কমিশনের হোমপেইজও সম্পূর্ণ বাংলায় তৈরী করা হয়েছে।

দুই ভাষায় ওয়েবসাইট আছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, খাদ্য বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় এর। তবে হোমপেইজ ইংরেজী নির্ভর। প্রথমে ইংরেজী দেখে পরে বাংলায় যেতে হবে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ও একই অবস্থা। ইংরেজী নির্ভর ওয়েবসাইট এ বাংলায় যাবার অপশন আছে।

সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি জড়িত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এর ওয়েবসাইট এখনো ইংরেজীতেই রয়ে গেছে।

এছাড়াও, বঙ্গভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, অভ্যন্তরীন সম্পদ বিভাগ, অর্থ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট, বাংলাদেশ আইন কমিশন, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন, কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিভাগ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, পরিসংখ্যান বিভাগ, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, জ্বালানী ও খনিজ মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এর ওয়েবসাইট এখনো ইংরেজী ভাষায় রয়ে গেছে। তবে, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এ ‘জাতীয় পানি নীতি’ ও ‘উপক’লীয় অঞ্চল নীতি’র শিরোনাম বাংলায় আছে।

তিন বছরেও ওয়েবসাইটগুলো বাংলাপ্রধান না করাকে ‘দু:খজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক সামসুজ্জামান খান ও কবি-কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক বলেন, এসব মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট বাংলায় করতে তিন বছর সময়ই যথেষ্ট ছিলো। ‘কেনো হয়নি তা খতিয়ে দেখা দরকার,’ মন্তব্য করেন তিনি।

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ১৯৭৫ সালের পর থেকে যারাই দেশ পরিচালনা করেছে তারা কেউই বাংলার উপর গুরুত্ব দেয়নি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিলো সর্বস্তরে বাংলা প্রচলন করায়। আওয়ামী লীগেরও অঙ্গীকার ছিলো একই। কিন্তু অন্যান্য দলের মতো আওয়ামী লীগও সেই চেতনা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। ’

‘সে কারণেই এখনো শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপুর্ণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটগুলো রয়ে গেছে ইংরেজীতে,’ মন্তব্য করেন তিনি।