ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকাণ্ডের চার দিনেও কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিষয়ে পুলিশ বলছে, শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম বুধবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই কথা বলেন।

তিনি জানান, সাধারণত কোনো মামলার তদন্তে পুলিশের একটি দল কাজ করলেও এই ক্ষেত্রে কাজ করছে একাধিক দল।

গত শনিবার ভোররাতে নিজ বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি।

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ থাকলেও পুলিশ তা পারেনি।

সহকারী কমিশনার মনিরুল বলেন, তারা সর্বশক্তি নিয়ে কাজ করছেন।

হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে ‘মোটিভ ডিসক্লোজ’ করা হবে না।

“ঘটনার পর আমরা নিহতদের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশীসহ অনেকের সাক্ষাতকার নিয়েছি। তবে এগুলোকে জিজ্ঞাসাবাদ বলব না।”

প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকলে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত হতে পারে কি না- প্রশ্ন করা হলে মনিরুল বলেন, “প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যে কেউ হোক গ্রেপ্তার করা হবে। আইনে প্রভাবশালীর সংজ্ঞা নেই। জড়িত যেই হোক আসামি হিসেবেই তাকে বা তাদের বিবেচনা করা হবে।”

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা রক্তমাখা বটিতে লেগে থাকা হাতের ছাপের সঙ্গে, যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তাদের হাতের ছাপের মিল পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে এ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান তিনি।

হত্যাকাণ্ডে সাগর-রুনির ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিরোধ, পেশাগত বিরোধ এবং লেনদেন ও সম্পত্তি বিষয়ক বিরোধ এবং তাদের ওপর কোনো ব্যক্তি বা মহল ক্ষুব্ধ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

“এমনকি এটা ডাকাতি বা চুরির মতো ঘটনা কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে,” যোগ করেন তিনি।

সাগর-রুনির পাঁচ বছরের ছেলে মাহিন সরওয়ার মেঘকে কোনো ছবি বা ভিডিও দেখানো হয়েছে কি না- জানতে চাইলে মনিরুল সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেন, “আমরা সব ধরনের কলাকৌশল প্রয়োগ করেছি।”

ঘটনা তদন্তে গঠিত কয়েকটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দলের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা রয়েছে কি না- প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “সমন্বয়হীনতা আছে বলতে রাজি নই। গ্রেপ্তারে এখতিয়ার তদন্তকারী কর্মকর্তার। কোনো সাহায্য দরকার হলে তিনি অন্যের সাহায্য চাইতে পারেন। এর বাইরে অন্য কারো গ্রেপ্তারের সুযোগ নেই।”

তদন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন কিছু প্রকাশে গণমাধ্যমকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশের মুখপাত্র বলেন, “নিহত সাংবাদিক দম্পতির প্রতি ন্যূনতম অসম্মানবোধ ও শ্রদ্ধাহীনতা প্রদর্শন হয়, এমন কিছু যেন না লেখা হয়।”