ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ব্লগ সংকলন: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

 

হত্যাকাণ্ডের মাস পেরিয়ে গেলেও রহস্যের কুল কিনারা করতে দৃশ্যত ব্যর্থ পুলিশ সাংবাদিক মেহেরুন নাহার রুনির পরিবারকে কিছু স্বর্ণালঙ্কার সনাক্ত করতে দিয়েছেন বলে জানিয়েছে নিহতের এক স্বজন।

হত্যা মামলার বাদি ও রুনির ভাই নওশের রোমান শনিবার বলেন, “পুলিশের দুই জন সদস্য সকালে আমার মাকে এসব স্বর্ণালঙ্কার দেখিয়ে বলেন যে, দেখেন এগুলোর মধ্যে রুনির খোয়া যাওয়া স্বর্ণালঙ্কার আছে কিনা।”

“তবে মা বলেছেন, তিনি সনাক্ত করতে পারছেন না।”

শনিবার সকালে পুলিশের দুই কর্মকর্তা কিছু স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে রুনির মা নুরুন্নাহার মির্জার বাসায় যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কিছু বলতে রাজি হননি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মনিরুল ইসলাম।

বেসরকারি টেলিভিশন মাছরাঙার বার্তা সম্পাদক সাগর এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুনি গত ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় নিজের বাসায় খুন হন। হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় এক মাস হলেও খুনিদের চিহ্নিত কিংবা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। হত্যার ৩৬ ঘণ্টার মাথায় রুনির ভাই শেরেবাংলা থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

পুলিশ বলছে, ঘটনার রাতে ওই বাসা থেকে কিছু স্বর্ণালঙ্কার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসেট ও কিছু নগদ অর্থ খোয়া যায়।

এদিকে আসামিদের সনাক্ত করতে না পারায় মামলা ‘ধামাচাপা’ দেওয়ার আশঙ্কা করে রুনির মা নুরুন্নাহার মির্জা বলেন, “সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে দেরি হলেও প্রকৃত আসামিদের ধরা হোক এই দাবি জানাই আমরা।”

রুনির ভাই নওশের বলেন, “এতোদিনেও আসামি ধরা না পড়ায় আমরা অসহায় বোধ করছি।”

হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে পুলিশের নিশ্চিত না হওয়া এবং সংবাদ মাধ্যমে নানা রকম খবর প্রচারের এক পর্যায়ে গত গত ২৮ ফ্রেব্রুয়ারি পুলিশের প্রতি রুল জারি করে হাইকোর্ট।

সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া তদন্ত বিঘ্নিত হতে পারে, এমন বিবৃতি গণমাধ্যমে দেওয়া থেকে বিরত থাকতেও সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেয় আদালত।

হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নির্ণয় এবং খুনীদের আইনের আওতায় আনতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না সে বিষয়ে নির্দেশ দিয়ে এর জবাব জানাতে পুলিশকে দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। ১৩ মার্চ এ সময় শেষ হবে।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ জমা দেওয়া হবে।

হত্যাকাণ্ডের ২৯ দিন পেরিয়ে যাবার পর তদন্তের অগ্রগতি কতটুকু, হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য, আসামিদের চিহ্নিত করা গেছে কিনা জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, “এসবের উত্তর দেওয়া যাবে না এখন।”

আদালতের নির্দেশনার দিনই (২৮শে ফ্রেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, “সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকারীদের অবশ্যই ধরা পড়তে হবে। আমি যেহেতু আশ্বাস দিয়েছি, এর প্রতিফলন দেখতে পাবেন।”

আর হত্যাকাণ্ডের ১৫ দিনের মাথায় (২৬শে ফ্রেব্রুয়ারি)) ডিএমপি’র মুখপাত্র বলেছিলেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ ‘মোটামুটি’ নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

(http://www.bdnews24.com/bangla/details.php?cid=2&id=188255&hb=5)