ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

আমার এক বন্ধু বিয়ে করেছিলো ১/১১ এর সময়। একদিন আমরা ‘কৌতুক’ করে তাকে বললাম, দোস্ত শোন ১/১১ এর সময়কার (সামরিক মদদপুষ্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার) সবকিছুকে কেনো অবৈধ ঘোষণা করা হবে না মর্মে ‘রুল’ জারি করতে পারে ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার আদালত’।

বিষয়টিকে বেশ ‘সিরিয়াস’ মনে করে কিছুদিন বেশ ‘চিন্তিত’ ছিলেন ১/১১ এর সময় বিয়ে করা বন্ধুটি।

সে বন্ধুটি কিছুদিনের মধ্যেই গর্বিত পিতা হতে যাচ্ছেন! ভাগ্য ভালো ‘নির্মম কৌতুকটি করা হয়েছিলো অনেক আগে। না হয় ভেবে দেখুন! আদালতের রুল এর ভয়ে কি দশা হত বন্ধুটির।

প্রসঙ্গে আসি।

গত ২৫শে মার্চ ‘তথ্য অধিকার আইন, অমীমাংসিত প্রশ্ন ও সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড’ শিরোনামে একটি লেখা পোষ্ট করেছিলাম। দ্বিতীয় কিস্তির প্রতিশ্রুতিও ছিলো সেখানে।

দ্বিতীয় কিস্তিতে ‘অগোছালোভাবে’ সাগর-রুনি হত্যা মামলায় তথ্য অধিকার আইনের ‘অসহায়’ দশার কথা বলতে চাই।

সবাই জানেন, গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালত পুলিশকে সাগর-রুনি হত্যার ব্যাপারে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ না হলে সাংবাদিকদের সাথে ‘কথা বলতে নিষেধ’ করেছে। রুল জারির পরই অনেকটা যেনো হাফ ছেড়ে বাঁচে পুলিশ। প্রতিদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়া থেকে তো বাঁচা গেলো! তথ্য অধিকার আইনের অধীনে আর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে হবে না। কারণ আদালতই মানা করেছে। কি মজা! মামলা ঠান্ডা।

তাহলে তথ্য অধিকার আইনের কি হবে? রুল এর ফলে কী তথ্য অধিকার আইনের কোন ধারা ‘স্থগিত’ হয়ে গেছে? স্থগিত না হলে তথ্য অধিকার আইনের সাথে কী এই রুল সাংঘর্ষিক হয়ে গেলে না? যদি তাই হয়, গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় এমন সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি কি সুফল বয়ে আনবে?

এ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। এখনো হচ্ছে।

অনেকেই মনে করছেন রুল জারির ফলে অনেকটাই ‘বিকলাঙ্গ’ অবস্থায় পড়ে আছে তথ্য অধিকার আইনটি।

তবে, দুর্ভাগ্য এই রুলকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে যাননি সাংবাদিক নেতারা। ময়দান গরম না করে তা করার সুযোগ ছিলো, এখনো আছে।

আমার লেখায় কি আদালত অবমাননা হয়েছে?

বি. দ্র. আমার লেখাটি ব্যক্তিগতভাবে কেউ আঘাত পেলে দু:খ প্রকাশ করছি। আদালত অবমাননা হলে … জানি না কি হবে আমার। লেখায় আইনগত ত্রুটি থাকলে শুধরে দেবার অনুরোধ করছি।