ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

বাবার হাত ধরে বেড়াতে এসেছিলো ছোট্ট মৌরি। বয়স বড়জোর দশ/এগার। ছবিরহাটের ছবি দেখে দাড়ালো মেয়েটি। কিছু বুঝলো কিনা জানি না। তবে, বাবা শফিক আহমেদ মন্তব্য খাতায় লিখলেন, “আমি মর্মাহত। আল্লাহ খুনিদের বিচার করুন”

সাগর-রুনির নিশ্চল ছবি দেখে মন্তব্য খাতায় এমন কথা বলেই মেয়ের হাত ধরে দ্রুত চলে গেলেন তিনি।

মেঘ এর বয়স তখন ছয়মাস। সাগর-রুনির কোলে যেনো হাসছে একচিলতে চাঁদ। ছবিরহাটের দেয়ালে ঝুলছিলো তিনজনের হাসিমুখ। পাশাপাশি বেশ ক’টা ছবি। মেঘ এর নানা বয়সের ছবি। সাথে বাবা-মা —- সাগর-রুনি। ছবিতে নিশ্চল। তবে হাসিমুখ। যেনো বিদ্রুপ করছে তথাকথিত আধুনিক এই সমাজকে। মানুষের সুখ-দু:খের নানা কথা যারা তুলে আনতেন টিভির পর্দায়, তাদের ঘাতকরা এখন ঘুরে বেড়াছে মুক্ত বিহঙ্গের মতো।

ছবির হাটের নিশ্চল ছবিতে যেনো ন্যায় বিচারের দাবি জানাচ্ছিলেন এই জুটি।

সকাল ১০টায় শুরু হয়েছিলো তাদের ছবি প্রদর্শনী। চলেছে সন্ধ্যা ৬টার একটু পর পর্যন্ত।

সব দেখে কবি, লেখক প্রত্যয় জসিম লিখেছেন, “ জয় হোক মানবতার”।

ঢাকায় বেড়াতে এসেছিলেন কুমিল্লার সাংবাদিক আবরু আবেদীন। লিখলেন, “আমি কুমিল্লার একজন সংবাদ কর্মী। আমি অপরাধীদের শাস্তি চাই”।

সরকারের সমালোচনা করে মেহেদী হাসান লিখলেন, “এই হত্যার বিচার হোক কিংবা খুনিরা আইনের আওতায় আসুক এটা ক্ষমতাসীন বর্তমান সরকার চায়না”।

বিদ্রুপ করলেন আরেক মন্তব্যকারী, “একজন সাংবাদিক দেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ তাই সাংবাদিকের সাথে একজন অস্ত্রধারী গার্ড থাকা প্রয়োজন।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের মন্তব্য: প্রতিবাদ নয়, প্রতিরোধই হোক মুক্তির রাস্তা।

এম এ মুনঈম লিখলেন: “যতোদিন পর্যন্ত সাগর রুনির হত্যাকারী খুঁজে বের না করা হবে ততদিন পর্যন্ত বাংলাদেশে শান্তি আসবেনা”।

“সত্তর দিনের এই ঘন অন্ধকারে মধ্যে ক্ষীণ আলো জ্বালিয়ে ক্ষমতা দাও। হে সাগর। হে রুনি। সমাজের এ দৈন্যতাকে পরিহাস করো,” মন্তব্য করলেন আজিজ

আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ৪৮ ঘন্টা? এ নিয়েও বিস্তার মন্তব্য করেছেন অনেকে।

একজন লিখলেন: বর্তমান সরকারের ৪৮ ঘন্টা আর কবে ফুরোবে?

“রক্ষক যদি ভক্ষক হয়ে থাকে তাহলে ৪৮ ঘন্টা না ৪৮ যুগ পরেও এই হত্যাকান্ডের বিচার সম্ভব নয়,” হাসিব নামের একজন যোগ করলেন।

হত্যা রহস্য নিয়ে একজনের মন্তব্য: “সরকারের কোন অবৈধ কাহিনী ধরা পড়েছিলো সেইজন্য কেড়ে নেয়া হয়েছে সাগর-রুনির প্রাণ”।

“কত বিচার ও ফাঁসির জন্যইতো মানববন্ধন, বিক্ষোভ করলাম। কোন বিচারই তো পেলাম না। তাই আর কোন বিচার চেয়ে অপমানিত হতে চাই না। আর যাই হোক রক্ত-মাংসের মানুষ তো!” এমন মন্তব্য সুমনের।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও মন্তব্য করেছেন অনেকে।

জহিরুল ইসলামের মন্তব্য: “ …… আজকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কোথায়। সংবাদপত্রে বা সংবাদ কর্মীদের উপর যারা আঘাত করে আমি তাদের বিচার চাই”।

“সাংবাদিক জাতির বিবেক। আর যারা সাংবাদিকদের হত্যা করতে পারে তাদের মতো পশু পৃথিবীতে নেই। আমি এক ক্ষুদ্র মানুষ। অতি দ্রুত সাগর-রুনির হত্যাকান্ডের বিচার চাই,” মন্তব্যকারীর নাম —– প্রিন্স

অতীতের সাংবাদিক নির্যাতনের কথা মনে করিয়ে দিলেন বরিশালের সাংবাদিক অমিয়, “২০০৯ সালে বরিশালে দুটি পত্রিকা অফিসে হামলাসহ ১৩ জন সংবাদ কর্মীর ওপর হামলা করা হয়। এর একটি দৈনিকে সংবাদকর্মী ছিলাম”।

সাংবাদিক পিন্টু চৌধুরী লিখলেন: “বাংলাদেশে সাংবাদিকদের কোন নিরাপত্তা নেই। বিগত ও বর্তমান সরকারের আমলে নির্বিচারে অনেক সাংবাদিক তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজেদের প্রাণ হারাচ্ছে। আর কতকাল এভাবে এসব সাংবাদিকদের অকাতরে প্রাণ দিতে হবে। তাদের নিরাপত্তা চাই। তাদের পরিবারের নিরাপত্তা চাই। অবিলম্বে সাগর-র ুনির হত্যাকারী ঘাতকদের ধরে বিচারের দাবি জানাচ্ছি”।

ব্লগারদের এই আন্দোলনের ঢেউ লেগেছে দেশ ছাড়িয়ে নানা দেশে। অস্ট্রেলিয়া থেকে আন্দোলনে সংহিত জানিয়েছেন আমাদের বড় ভাই মোহাম্মদ তানজিম উদ্দিন খান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এই শিক্ষক (এখন পিএচডি করছেন ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া’য়) ফেইসবুক বার্তায় বলেছেন: “
ব্লগারদের মুভমেন্ট দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছি। আমার সুপারভাইজার বলেন ‘স্পিক ট্রুথ টু পাওয়ার, নট পাওয়ার টু ট্রুথ। লাল সালাম। আর সংহতি। সাবধানে থেকো। অনেক জটিল পথ”।

ছবি প্রদর্শনী নিয়ে সোহেল মাহমুদ এর পোষ্ট পড়ুন: http://blog.bdnews24.com/sohelmahamud/84570