ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

গত ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০১২ রাত আনুমানিক ১.০০টায় ঢাকা জেলার সাভার থানার নবীনগর এলাকা থেকে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৪ (র‌্যাব) ও ডিবি পুলিশ (গোয়েন্দা শাখা) সদস্য পরিচয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকাহ্ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আল মুকাদ্দাস (২২) এবং দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মার্স্টাস পরীক্ষার্থী মোঃ ওয়ালিউল্লাহকে (২৩) ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তাঁদের গুম হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

আদালতের রুল:

গত ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০১২, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি আকরাম হোসেন চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চে হেবিয়ার্স কর্পাস আবেদন করেন। আবেদনটি ১৩ই ও ১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০১২ শুনানি শেষে আদালত তা আমলে নেন। রিট পিটিশন নম্বর ১৫৩৫/২০১২।

গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০১২ আদালত তিন সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজিপি, র‌্যাবের ডিজি, ডিসি ডিবিসহ মোট নয়জনকে কেন আল মুকাদ্দাস ও ওয়ালিউল্লাহকে তিন সপ্তাহের ভিতরে আদালতে হাজির করা হবে না, এই মর্মে জবাব দিতে বলে।

হেবিয়ার্স কর্পাস আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ আদালত তিন সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজিপি, র‌্যাবের ডিজি, ডিসি ডিবিসহ মোট নয়জনকে এ রুলের জবাব দিতে বলে। তিন সপ্তাহ পর উল্লেখিত নয়জনই আদালতে জানান, নিখোঁজদের ব্যাপারে তাঁরা কোন সন্ধান পাননি। আদালত তাঁদের জবাবে সন্তুষ্ট নয় বলে অধিকতর তদন্ত করতে আরো ৭দিন সময় বাড়িয়ে দেন। ৭দিন পর তাঁরা নয়জন আবার আদালতে হাজির হয়ে এই বিষয়ে তাঁদের অপারগতা প্রকাশ করেন। আদালত আবারও ৭দিনের সময় দিয়ে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে মোঃ ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের মোবাইল ফোনের কললিস্ট আদালতে হাজির করতে বলেন। ৭দিন পর তারা নয়জন হাতে লিখে কয়েকটি মোবাইল ফোন নম্বর আদালতে উত্থাপন করলে বিজ্ঞ আদালত অরিজিনাল কললিস্ট নিয়ে ১৪/৪/২০১২ তারিখে হাজির হতে বলেন। ১৪/৪/২০১২ তাঁরা নয়জন অরিজিনাল কললিস্ট আদালতে জমা দিতে ব্যর্থ হন। এরপর আদালত আবার ১৮/৪/২০১২ তারিখে অরিজিনাল কললিস্টসহ তাঁদের নয় জনকে হাজির হতে বলেন। কিন্তু ১৮/৪/২০১২ তারিখে হরতাল থাকায় সেদিন আর শুনানী হয়নি।

কি ঘটেছিলো:

পিরোজপুর জেলার খানা কুনিয়ারী গ্রামের আব্দুল হালিম ও আয়েশা সিদ্দিকার ছেলে আল মুকাদ্দাস এবং ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া থানার পশ্চিম শৈল জালিয়া গ্রামের মোঃ ফজলুর রহমান ও আফিফা রহমানের ছেলে মোঃ ওয়ালিউল্লাহ। আল মুকাদ্দাস এবং মোঃ ওয়ালিউল্লাহ একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং তাঁরা একে অপরের বন্ধু ছিলেন। এছাড়া দুইজনই ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল’ এর ২১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

গুম হওয়া আল মুকাদ্দাসের চাচা মুহাম্মদ আব্দুল হাই (৪১) জানান, তিনি ঢাকার মালিবাগের ৮/২ শান্তিবাগ এলাকায় থাকেন। ২রা ফেব্রুয়ারি ২০১২ তাঁর সঙ্গে আল মুকাদ্দাসের মোবাইল ফোনে কথা হয়। আল মুকাদ্দাস ইসলামী বিশ্ববিদ্যাল ক্যাম্পাস থেকে ঢাকায় আসে। আল মুকাদ্দাস তাঁকে জানায়, একটি দেশাত্ববোধক গানের অ্যালবাম বের করার জন্য ঢাকায় দুইদিন থাকতে হবে। আল মুকাদ্দাস বাংলামোটরে জাফর নামে এক বন্ধুর বাসায় থেকে একটি স্টুডিওতে গান রেকর্ড করতে থাকে। এছাড়া ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০১২ আল মুকাদ্দাসের আরেক বন্ধু মোঃ ওয়ালিউল্লাহ প্রিন্টিং প্রেসের কাজের জন্য ঢাকায় আসে এবং একই সঙ্গে তারা অবস্থান করে।

৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০১২ আল মুকাদ্দাস তাঁর সঙ্গে ঢাকার পল্টন এলাকায় দেখা করে জানায় যে, গানের রেকডিং হয়েছে, পরে এডিট করে বাজারে ছাড়া হবে। আল মুকাদ্দাস এবং মোঃ ওয়ালিউল্লাহ রাতে ক্যাম্পাসে ফিরে যাবে বলে তাঁকে জানায়।

৬ই ফেব্রুয়ারি ২০১২ বিকাল আনুমানিক ৩.০০টায় আল মুকাদ্দাসের ছোট বোন তাঁকে মোবাইল ফোনে জানায়, আল মুকাদ্দাসের মোবাইল বন্ধ এবং বিশ্ববিদ্যালয় বা বাড়ীতে কোথাও তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি তখন পল্টন থানায় যান এবং আল মুকাদ্দাস নিখোঁজ হয়েছে বলে একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন। তিনি আল মুকাদ্দাসের কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। বাংলামোটর থেকে আল মুকাদ্দাসের বন্ধু জাফর তাঁকে মোবাইল ফোনে জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য রাতে আল মুকাদ্দাস ও মোঃ ওয়ালিউল্লাহকে সে কল্যাণপুরগামী বাসে তুলে দিয়েছে। আল মুকাদ্দাসের আরেক বন্ধু সাইয়েদ আহমেদ তাঁকে জানায়, আল মুকাদ্দাস এবং মোঃ ওয়ালিউল্লাহর সঙ্গে রাত ১০.৩২টায় মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে। তখন আল মুকাদ্দাস সাইয়েদকে বলেছিল যে, তারা কল্যানপুর বাস কাউন্টার থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ পরিবহনে রাত ১১.৩০টায় ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। আব্দুল হাই আরো বলেন, সাইয়েদ এর কাছ থেকে এ খবর পেয়ে তিনি ঢাকা মহানগরীর দারুস সালাম থানায় যান এবং সেখানে গিয়ে মোঃ ওয়ালিউল্লাহর ভাই মুহাম্মদ খালিদ সাইফুল্লাহকে দেখতে পান। থানায় বসে আলোচনা করে খালিদ সাইফুল্লাহ দুইজনের নিখোঁজের বিষয়ে একটি জিডি করেন।

৭ই ফেব্রুয়ারি ২০১২ তিনি খালিদ সাইফুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে তিনি হানিফ এন্টারপ্রাইজ পরিবহনের কল্যাণপুর কাউন্টারে যান এবং সুপারভাইজার মোঃ সুমন মিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। সুপারভাইজার সুমন মিয়া তাঁকে জানান, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০১২ রাত আনুমানিক ১১.৩০টায় হানিফ এন্টারপ্রাইজের গাড়ি নম্বর ৩৭৫০ কল্যাণপুর থেকে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। গাড়িটি সাভারের নবীনগর এলাকায় পৌছালে রাত আনুমানিক ১২.৩০ টা থেকে ১.০০টার মধ্যে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে ৭/৮ জন লোক সেই গাড়ির কাছে আসে। কয়েকজন লোকের পরনে ছিল ডিবি পুলিশের জ্যাকেট। বাকীরা র‌্যাবের পোশাক পরা ছিল। ডিবি সদস্যরা গাড়ির ভেতরে ওঠে এবং সি-১ ও সি-২ সিটের যাত্রী মোঃ ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসকে জোর করে নামিয়ে নিয়ে যায়। সুমন মিয়া ডিবি পুলিশ সদস্যদের কাছে জানতে চান, তাঁর যাত্রীদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? এক ডিবি সদস্য তাঁকে বলেন, দুইজনের নামে অভিযোগ আছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়া হবে। এই কথা বলে দুইজনকে সেই সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে চলে যায়।

মুহাম্মদ আব্দুল হাই সুপারভাইজার সুমনের কাছে এ খবর শুনে আশুলিয়া থানায় যান এবং একটি জিডি করেন। যার নম্বর ৫২৫; তারিখ ৮/২/২০১২। পরে তিনি খালিদ সাইফুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে মিরপুর পাইকপাড়ায় র‌্যাব-৪ এর কার্যালয়ে যান। সেখানে কর্মরত একজন র‌্যাব কর্মকর্তা তাঁদের নবীনগর র‌্যাব ক্যাম্পে যেতে বলেন। তিনি নবীনগর র‌্যাব ক্যাম্পে গেলে মিজান নামে এক র‌্যাব কর্মকর্তা তাঁকে জানান, ঐ ক্যাম্পের সদস্যরা সেদিন কাউকে গ্রেপ্তার করেননি।

অবশেষে ১০ই ফেব্রুয়ারি ২০১২ তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০১২ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

ওয়ালিউল্লাহার ভাই মোহাম্মদ খালিদ সাইফুল্লাহ (৩২) জানান, তিনি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে থাকেন। ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০১২ মোঃ ওয়ালিউল্লাহ মোবাইল ফোনে তাঁকে বলেন, সে কুষ্টিয়া থেকে প্রয়োজনীয় কাজে ঢাকায় এসেছে এবং এক বন্ধু আল মুকাদ্দাসের সঙ্গে দেখা হয়েছে। মোঃ ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাস এক সঙ্গে বাংলামোটরে তাঁদের আরেক বন্ধু জাফরের বাসায় থাকবে এবং কাজ শেষে কুষ্টিয়া ফিরে যাবে। ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০১২ বিকাল আনুমানিক ৩.০০টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোঃ ওয়ালিউল্লাহর এক সহপাঠী তাঁকে জানান, মোঃ ওয়ালিউল্লাহর মোবাইল নম্বর বন্ধ এবং ঢাকা থেকে সে ক্যাম্পাসে তখনও ফেরেনি। তিনি তখন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ খবর করেন এবং জাফরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন।

জাফর তাঁকেও জানায় যে, মোঃ ওয়ালিউল্লাহ এবং আল মুকাদ্দাসকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কল্যাণপুরের বাস কাউন্টারে যাওয়ার জন্য বাসে তুলে দেয়। মুহাম্মদ খালিদ সাইফুল্লাহ তখন দারুস সালাম থানায় যান। তিনি সেখানে আল মুকাদ্দাসের চাচা আব্দুল হাই এর দেখা পান। তিনি একটি জিডি করেন।

পরে তিনি আব্দুল হাইকে সঙ্গে নিয়ে আশুলিয়া থানায় যান এবং একটি জিডি করেন।

গুম হওয়া আল মুকাদ্দাসের বন্ধু সাইয়েদ আহমেদ (২৩) জানান, তিনি ঢাকায় সরকারি তিতুমীর কলেজে পড়াশুনা করেন। আল মুকাদ্দাস তাঁর এলাকার ছেলে এবং পরিচিত। আল মুকাদ্দাস একটি গানের এ্যালবাম বের করার জন্য এবং মোঃ ওয়ালিউল্লাহ প্রিন্টিংয়ের কাজ করতে ঢাকায় এসেছিলেন। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে আল মুকাদ্দাস এর গান রেকর্ডিংয়ের সময় তিনি একটি স্টুডিওতে একই সঙ্গে ছিলেন। ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তাঁরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যাওয়ার জন্য সেখান থেকে বেরিয়ে যান। রাত ১০.৩২ মিনিটে আল মুকাদ্দাসের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। আল মুকাদ্দাস তাঁকে জানান যে, তাঁরা কল্যাণপুর থেকে রাত ১১.৩০টার গাড়িতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে রওনা দিবেন। এরপর তাঁর সঙ্গে আর কোন কথা হয়নি।

হানিফ এন্টারপ্রাইজ পরিবহনের সুপারভাইজার সুমন মিয়া (৩২) জানান, গত ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০১২ রাত আনুমানিক ১১.৩০টায় ৩৭৫০ নম্বর গাড়িতে তিনি ডিউটি করছিলেন। তাঁদের গাড়ি কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০১২ রাত আনুমানিক ১২.৩০ থেকে ১.০০টার মধ্যে ঢাকা জেলার সাভার থানার নবীনগর এলাকায় পৌঁছায়। রাস্তায় জ্যাম থাকায় গাড়ি থেমেছিল। এমন সময় একটি সাদা মাইক্রোবাস এসে গাড়ির বামপাশে থামে এবং মাইক্রোবাস থেকে ৭/৮জন লোক নামে। কয়েকজনের পরনে ছিল ডিবি পুলিশের জ্যাকেট এবং বাকি লোকদের পরনে ছিল র‌্যাবের পোশাক। তারা র‌্যাব-৪ ও ডিবি পুলিশের সদস্য বলে পরিচয় দেয়। তল্লাশির নামে তারা কয়েকজন গাড়ির ভেতরে ওঠে এবং একজন লোক সি-১ ও সি-২ সিটের যাত্রী মোঃ ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসকে তাদের সঙ্গে নেমে যেতে বলে। তিনি তখন র‌্যাব ও ডিবি সদস্যদের বলেন, এঁরা তাঁর যাত্রী। এঁদের কোথায় নেয়া হবে? এমন সময় ডিবির এক সদস্য তাঁকে জানায়, মোঃ ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের নামে অভিযোগ আছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়া হবে। তারা যাত্রী ২জনকে নিয়ে সেই সাদা মাইক্রোবাসে তোলে এবং তাঁকে গাড়ি নিয়ে চলে যেতে বলে। তিনি তখন গাড়ি নিয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে চলে যান।

পুলিশের ভাষ্য:

আশুলিয়া থানার সাব ইন্সপেক্টর খায়রুল আলম জানান, ৮ই ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র মোঃ ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের আত্মীয়স্বজনরা থানায় আসেন এবং দুইজনকে র‌্যাব ও ডিবি পুলিশ সদস্যরা ধরে নিয়ে গেছে বলে একটি জিডি করেন। তিনি জানান, জিডির ভিত্তিতে প্রথমে তদন্ত করেন এসআই তৌহিদুল ইসলাম। এসআই তৌহিদুল ইসলাম হঠাৎ বদলি হওয়ায় জিডির তদন্ত কাজ চালান এসআই খায়রুল ইসলাম। এসআই খায়রুল ইসলামও পরে বদলি হওয়ার কারণে জিডি তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই জাকারিয়া।

পরে এসআই জাকারিয়া নিজেই বাদী হয়ে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর-৬১; তারিখঃ ২৩/০২/২০১২। ধারা-৩৬৪/১৭১/৩৪ দ-বিধি। এছাড়া বাদী নিজেই মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে তদন্ত চালিয়ে যান।

দারুস সালাম থানা পুলিশের ভাষ্য:

দারুস সালাম থানার এসআই সারোয়ার আলম জানান, ৬ই ফেব্রুয়ারি ২০১২ নিখোঁজ মোঃ ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের পরিবারের সদস্যরা রাত ১০.৪৫টায় থানায় আসেন এবং ঐ দুইজনের শারীরিক গঠন, গায়ের রঙের বর্ণনা সম্বলিত নিখোঁজ সংবাদ দিয়ে একটি জিডি করেন। যার নম্বর ৩১৭; তারিখঃ ৬/০২/২০১২। তিনি নিজেই জিডিটি তদন্ত করছেন।

র‌্যাব ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অস্বীকার:

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ ওহিদুজ্জামান জানান, ডিবি পুলিশ সদস্যরা ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে নবীনগর এলাকা থেকে মোঃ ওয়ালিউল্লাহ এবং আল মুকাদ্দাস নামে কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।

র‌্যাব-৪ এর লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ্ ইবনে জায়েদ জানান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র মোঃ ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে হেবিয়ার্স কর্পাস দরখাস্ত দাখিল করার পরে আদালত র‌্যাব এবং পুলিশসহ নয়জনকে জবাব দিতে রুল জারি করেছেন। তাই র‌্যাব সদর দপ্তর এ ব্যাপারে জবাব দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ফোনে হুমকি:

নিখোঁজের স্বজনরা জানান, রিট পিটিশন দাখিল করার পর থেকেই ডিবি পুলিশ সদস্যরা গভীর রাতে আব্দুল হাইয়ের বাসায় বার বার অভিযান চালাচ্ছে এবং মোবাইল ফোনে এ বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্যও হুমকি দিচ্ছে। যার ফলে আব্দুল হাই মোবাইল ফোন বন্ধ করে শান্তিবাগের বাসা থেকে অন্য জায়গায় অবস্থান করছেন বলে জানান।

সূত্র: অধিকার