ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী সংস্থা, সংবাদপত্র ও বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত অপহরন, নিখোঁজ, গুম ও গুপ্তহত্যার ঘটনাবলী সমূহ বিশ্লেষণ আকারে নিম্নে উল্যেখ করা হলোঃ-

অপহরনের পর গুম ও গুপ্তহত্যার বিবরণঃ
(১) নাজমুল ইসলাম (৪৫), অর্থ বিষয়ক সম্পাদক, যশোর জেলা বিএনপি এবং সভাপতি ঝিকরগাছা থানা বিএনপি, পেশাঃ ব্যবসা ও রাজনীতি। গত ১৫-১২-১১ ইং তারিখ ঢাকা ময়মনসিংহ সড়কের দক্ষিন শালনায় সাকুরা এতিম খানার পাশে গলায় ও মাথায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। তার চোখে মলম ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নাজমুল পরিবারসহ বাড়ি নং ৮ ,সড়ক-১২, ধানমন্ডির একটি ফ্লাটে বসবাস করতেন। পরিবারের সদস্যরা জানান ১৪-১২-১১ ইং তারিখ দিবাগত রাতে ঢাকার মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর সেতারা কমিউনিটি সেন্টারে ভায়রা ভাই এর ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাসায় ফেরার পথে নাজমুল ইসলাম মোহাম্মদপুর থানা ও র‌্যাব অফিসের মাঝামাঝি জায়গা থেকে অপহৃত হন। ওই রাতেই মোহাম্মদপুর থানায় একটি জিডি করা হয়। পরিবারের অভিযোগ তাৎক্ষনিক ভাবে র‌্যাব ও পুলিশের নিকট গিয়ে কোন সহযোগিতা পাননি তারা। নাজমুল যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) সংসদীয় আসনে আগামী সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করার কথা ছিল। ২০০৯ সালেও তিনি উক্ত আসনের বিএনপি’র প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু চারদলীয় জোট শরীক জামায়াতে ইসলামকে আসনটি ছাড় দেয়ায় তিনি তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন।

(২) ইসমাইল হোসেন ওরফে আল আমিন (৩২) সভাপতি ৫০ নং ওয়ার্ড ছাত্রদল। গত ২৮-১১-১১ ইং তারিখ হাতিরপুল, ঢাকা থেকে অপহৃত হয়। ৮-১২-১১ ইং তারিখ মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদী থেকে সিমেন্টের বস্তা বাঁধা অবস্থ’ায় ইসমাইলের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। তার সাথে অপহৃত শামীম হাসান ও মাসুম হোসেনের খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি। ইসমাইলের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ র‌্যাব পরিচয়ধারী ব্যাক্তিরা তাকে অপহরন করে হত্যা করে। ইসমাইলের পরিবার র‌্যাব এর বিরুদ্ধে মামলা করবে বলে জানায়। নিখোঁজ হওয়ার আগে হত্যার হুমকির কথা উল্ল্যেখ করে ইসমাইলের মা কলাবাগান থানায় একটি সাধারন ডায়রী করেছিলেন। যারা হুমকি দিয়েছে তারাই র‌্যাবের মাধ্যমে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে ইসমাইলের পরিবার মনে করে। পরিবারের সদস্যরা আরোও অভিযোগ করেন, ঘটনার রাত ১০.৩০টায় যখন শামীম, মাসুম ও ইসমাইল হাতিরপুল সড়কের পাশে কথা বলছিল তখন র‌্যাব এর সোর্স টোন্ডা রহিম সহ অন্যান্যরা ঘোরাফিরা করছিল। সাদা পোশাকে অস্ত্রধারীরা তাদের নিয়ে যাওয়ার পর এদের আর দেখা যায়নি। এরপর টোন্ডা রহিম অপহৃতদের পরিবারকে সাত লাখ টাকার বিনিময়ে ইসমাইলসহ তিন জনের সন্ধান পাইয়ে দিবেন বলে আশ্বাস দেন। এ জন্য টোন্ডা রহিম গত ১৫-১২-১১ ইং তারিখ রাত ১১.০০ টার দিকে মিরপুরের টোলারবাগে একজনের বাসায় নিয়ে যান। র‌্যাব ঘটনা অস্বীকার করে বলেছে টোন্ডা রহিম নামের তাদের কোন সোর্স নেই।

(৩) ব্যবসায়ী মনজুর মুন্সী কাওরান বাজার থেকে নিখোজঁ হওয়ার পর মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদী থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।

(৪) গত ২২শে অক্টোবর ২০১১ পদ্মা নদীর চর থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক শরীফুল ইসলামের ভাই ব্যবসায়ী তৌহিদুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে রাজপাড়া থানা পুলিশ।

(৫) জামাল হোসেন (বালুমহলের কালেক্টর) গত ২৪-১০-১১ ইং তারিখ ধলেশ্বরী-শীতলক্ষা নদীর মোহনার কাছ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

(৬) জাহাঙ্গীর হোসেন, এডভোকেট বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট, উত্তরা থেকে নিখোজঁ হওয়ার পর কেরাণীগঞ্জের ইকুরিয়ায় লাশ উদ্ধার করা হয়। তাকে শ্বাসরোধ ও মাথায় আঘাতের পর হত্যা করা হয় ।

(৭) নুরুজ্জামান (হানিফ পরিবহনের সুপার ভাইজার) এর লাশ যাত্রাবাড়ীর ফাতেমা সি এন জি ফিলিং ষ্টেশনের পার্শ্ববর্তী কেকে টিম্বারের পরিত্যাক্ত ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়।

(৮) মুক্তার হোসেন (২৭) গ্রাম- আলীয়াবাদ, থানা- নবীনগর, জেলা- বি বাড়ীয়া, সে মোটর সাইকেলে ভাড়ায় যাত্রী আনা নেয়া করতেন। গত ১৪-১২-১১ইং তারিখ বি- বাড়ীয়ার নবীনগর থেকে উক্ত যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়।

(৯) গত ৮ই ডিসেম্বর নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জের বাগদের বাজার থেকে অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন আফজাল হোসেন (৩৫) পিতাঃ আক্তার হোসেন নামে এক যুবলীগ নেতাকে অপহরন করে নিয়ে যায়। আফজাল হোসেন রূপগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। ঘটনার প্রথমদিন আফজাল হোসেন এর স্ত্রী পারভীন আক্তার অভিযোগ করেন র‌্যাব সদস্যরা তার স্বামীকে আটক করেছে। গত ৯ ডিসেম্বর নরসিংদী, মদনপুর রেললাইন সংলগ্ন বাঘহাট্টা গ্রামের একাট পুকুরপাড় থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

(১০) গত ১৯শে অক্টোবর রাতে সাভার পৌর এলাকার কাতলাপুরের বাসা থেকে কালো পোষাকধারী লোকজন নুর মোহাম্মদকে তুলে নিয়ে যায়। নুর মোহাম্মদের ভাতিজি শামসুন্নাহারের দাবি আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সাভারের বাসা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় র‌্যাবের গাড়ীও ছিল।

(১১) গত ৩১শে জুলাই গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয় দেয়া সদস্য ব্যক্তিরা দয়াগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে (১) ফ্রিজ ও এসি সারাই কর্মী জুয়েল সরদার (৩০), পিতাঃ- সালাম সরদার, ১৩/১ দয়াগঞ্জ, থানাঃ- গেন্ডারিয়া, ডিএমপি ঢাকা (২) ওয়য়ার্কশপ কমী মিজানুর হোসেন (২৮), পিতাঃ- ফারুক হোসেন, উত্তর কান্দিপাড়া, থানাঃ- যাত্রাবাড়ি, ডিএমপি, ঢাকাদ্বয়কে ধরে নিয়ে যায়। গত ৫ই আগষ্ট ২০১১ খ্রিঃ তারিখ গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানাধীন পুবাইলের নারায়নকুল সাকিনের নাগদা ব্রীজের উত্তর পাশে জুয়েল সরদারের লাশ জয়বেদপুর থানা পুলিশ উদ্ধার করে। তার হাত, পা , মুখ ও গলা গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল, তার চোখের ব্রুর উপর, ডান কানের নীচে ও ডান গালে গুলির ছিদ্র যুক্ত জখম ছিল। এস আই/মোঃ আবদুল করিম ইনচার্জ পূবাই পুলিশ ক্যাম্প, জয়বেদপুর নিজে বাদী হয়ে জয়বেদপুর থানার মামলা নং- ১৩, তারিখ ০৫/০৮/২০১১ খ্রিঃ ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু করেন। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয়বেদপুর থানা মামলাটি তদন্তভার তার উপর ন্যাস্ত করেন। তিনি মামলাটি তদন্ত করে মামলাটির কোন রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় মামলাটি চুড়ান্ত বিরোর্ট সত্য দাখিল করার নিমিত্তে স্বাক্ষর স্মারক লিপি দাখিল করেন।

(১২) গত ২রা জুলাই তেজগাঁ শিল্পাঞ্চল থানা এলাকাধীন ভূমি রেকর্ড (জরিপ) অধিদপ্তরের ২ নং গেইটের উত্তর পাশে ট্রাকষ্ট্যান্ডে ২টি পিকআপ এর মাঝখানে রাস্তার উপর (১) মোঃ আকবর হোসেন, সাং- গাবতলী ৫৩ নং হরিরাম পুর পুরাতন চার তলা, থানা ঃ- দারুস সালাম, ডিএমপি, ঢাকা ও (২) মিজানুর রহমান, পিতাঃ- মৃত সিরাজুল হক, সাং- ৬৬ নং উত্তর কাওরান বাজার, থানাঃ- তেজগাঁ, ডিএমপি, লাশ তেজগাঁ শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে মোহাম্মদ আরমান হোসেন, পিতাঃ- মৃত আকবর হোসেন, সাং- গাবতলী ৫৩ নং হরিরাম পুর পুরাতন চার তলা, থানা ঃ- দারুস সালাম, ডিএমপি, ঢাকা বাদী হয়ে তেজগাঁ শিল্পাঞ্চল থানার মামলা নং ৩ তারিখ ০২/০৭/২০১১ খ্রিঃ, ধারা- ৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু করেন। এস আই/মোঃ মাহবুবুর রহমান মামলাটি তদন্ত করেন। বর্তমানে সিআইডি, বাংলাদেশ, ঢাকা মামলাটি তদন্ত করছেন।

(১৩) ১ ডিসেম্বর রাজধানী ক্যান্টনমেন্ট থানা জাতীয় পার্টির সাধারন সম্পাদক মাহামুদুল হক খান দিপু ফার্মগেট এলাকায় একটি দোকানে ব্যানার লেখাতে গিয়ে অপহৃত হয়। ০২ ডিসেম্বর সাভার মহাসড়কের পাশ থেকে তার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

(১৪) গত ১৭ নভেম্বর রাজধানীর মালিবাগ থেকে অপহৃত হয় মিরাজ (২৬), মোঃ দিদার (২৮), জসিম উদ্দিন (৩৫), মোঃ আকাশ ওরফে বাহার (২৯), শেখ সাদী (৩৮), আরিফ হোসেন (২৮) এবং মোঃ জুয়েল (২২)। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তাদের অপহরণ করার দুই দিন পর অপহৃত মিরাজ ও শেখ সাদীকে গভীর রাতে নির্জন রাস্তায় ছেড়ে দেয়া হয় এবং ৮ দিন পর আশুলিয়া এলাকায় জসিম উদ্দিনের (৩৫) লাশ পাওয়া যায়। এ অবস্থায় অন্যরা বেঁচে আছে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান অপহৃত ব্যক্তিদের স্বজনরা। অপহৃত জুয়েল রাবেয়া এন্টারপ্রাইজ নামের একটি এ্যাডফার্মের অফিস সহকারী। অপহরনের দুইদিন পর জুয়েলের চাচা জহিরুল ইসলাম মতিঝিল থানার মামলা নং-৩৯(১১)১১ রুজু করেন। অপহরনের এই মামলাটি পরে ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু এর তদন্ত বেশীদুর এগোয়নি। এ ঘটনার সঙ্গে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জড়িত বলে অভিযোগ করেন জহিরুল ইসলাম।

(১৫) সজল, পিতাঃ- নাজিবুল ইসলাম, সাং- চর পাথুরিয়া, থানা ঃ- মোহাম্মদ পুর, জেলা ঃ মাগুরা বর্তমানে বাসা নং- ২৭, দয়াগঞ্জ, থানাঃ- গেন্ডারিয়া, ডিএমপি, ঢাকা নামের এক জন নিখোঁজ হন ঢাকার রাজধানী সুপার মার্কেটের নিকট হতে। গত ১২ জুলাই/২০১১ খ্রিঃ এর লাশ গাজী পুর জেলার পূবাইলের সমর সিংহ সাকিনের বাইপাস সড়কের পশ্চিম পাশ হতে জয়বেদ পুর থানা পুলিশ গুলি বৃদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। এস আই/মোঃ আবদুল করিম নিজে বাদী হয়ে জয়বেদ থানার মামলা নং- ৩৪ তারিখ ১২/০৭/২০১১ খ্রিঃ, থারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু করেন। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয়বেদপুর থানা তার উপর তদন্তভার ন্যাস্ত করেন। তিনি তদন্তকালে মামটির রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় জয়বেদপুর থানার চূড়ান্ত রিপোর্ট সত্য নং- ৩১১ তারিখ ১৬/১২/২০১১ খ্রিঃ, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড দাখিল করেন।

(১৬) ইমরান নামে একজন নিখোঁজ হন রাজধানী সুপার মার্কেট হতে। তিনি ৪ জুলাই/২০১১ তারিখে নিখোঁজ হন। পরে অনেক খোজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। সর্বশেষে ঢাকা-মাওয়া সড়কের পাশ থেকে ১২ জুলাই তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

(১৭) গত ৩১ শে জুলাই গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয় দেয়া ব্যক্তিরা দয়াগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে ধরে নিয়ে যায় রাজিব সরদারকে। পাঁচ দিন পর ঢাকা বাইপাশের পাশে গাজীপুরের পুবাইলে পাওয়া যায় রাজিব সরদারের লাশ। তার পা গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

(১৮) ১৭ এপ্রিল ২০১১ বাড্ডার কুড়িল এলাকা থেকে র‌্যাব পরিচয়ে অজ্ঞাতনামা কিছু লোক ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার মিজানুর রহমান মিজান, নাজমুল হক মুরাদ ও ফোরকানকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে মোহাম্মদপুরে ঢাকা উদ্যানের পেছনে তুরাগ নদীর বালিতে ৩ জনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কিছুদিন পর ফোরকান রহস্যজনকভাবে ফিরে আসে। পরে সে র‌্যাবের হাতে আটক হওয়ার বর্ণনা দেয়। কিন্তু কিছুদিন পর সে গ্রামের বাড়ী রাজাপুর ফিরে গেলে সেখান থেকে আবার নিখোঁজ হয় এবং এখন পর্যন্ত তার সন্ধান মেলেনি।

(১৯) কে এম শামীম আক্তার, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও খুলনা জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি। তাকে ২০১১ সালের ২৯ শে সেপ্টেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টন লাইনে বাসার নীচ থেকে মুখে স্কচটেপ মেরে মাইক্রোবাসে ধরে নিয়ে যায় অজ্ঞাত ব্যাক্তিরা। শামীমের মা জোহরা আক্তার অভিযোগ করেন শামীমকে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে সাদা পোশাকের লোকজন ধরে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার খোঁজ নেই।

(২০) চৌধুরী আলম, সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ও বিএনপি নেতা। তিনি ২০০৯ সালের ২৫শে জুন নিখোঁজ হন। পরিবারের অভিযোগ র‌্যাব পরিচয়ে একদল লোক তাকে ধরে নিয়ে যায়। দেড় বছরেও তার খোঁজ নেই। মামলার তদন্তেরও কোন অগ্রগতি নেই।

(২১) লিয়াকত হোসেন (যুবলীগ নেতা) ২০০৮ সালের ২৬শে জুন নিখোঁজ হন। তার পরিবার একাধিকবার সাংবাদিক সম্মেলন করেছে কিন্তু খোঁজ মেলেনি। লিয়াকতের পরিবারের অভিযোগ র‌্যাব পরিচয়ে তাকে ধরে নেয়া হয়েছে।

(২২) তুষার ইসলামকে ২০০৮ সালের ২২শে জুলাই সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়া বেড়া বাজারের গ্রামের বাড়ি থেকে র‌্যাব পরিচয়ে দেওয়া একদল সশস্ত্র ব্যাক্তি ধরে নিয়ে যায়। এর পর থেকেই তিনি নিখোঁজ।

(২৩) শামীম হাসান ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র ও সূর্যসেন হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও গবেষনা সম্পাদক। গত ২৮শে নভেম্বর ২০১১ তারিখ হাতির পুল এলাকা থেকে ইসমাইল হোসেন ওরফে আল আমিন ও মাসুমের সাথে সাদা পোশাকে অস্ত্রধারীদের দ্বারা অপহ্নত হন। ইসমাইলের লাশ পাওয়া গেলেও শামীম ও মাসুম এখনও নিখোঁজ। পরিবারের সদস্যরা র‌্যাব কে অভিযোক্ত করে বিভিন্ন মিডিয়ায় বক্তব্য দিচ্ছে। র‌্যাব অভিযোগ অস্বীকার করছে। পরিবারের অভিযোগ শামীম হাসান গুপ্ত হত্যার শিকার হয়েছে।

(২৪) মাসুম হোসেন (ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী যাত্রাবাড়ী) ২৮শে নভেম্বর ২০১১ তারিখ ইসমাইল ও শামীমের সাথে হাতিরপুলে কথোপকথনের সময় পরিবারের ভাষ্য মতে তাদেরক সহ সাদা পোশাকে অস্ত্রধারীদের হাতে নিখোজঁ হন। ইসমাইলের লাশের সাথে আরো একটি লাশ পাওয়া গেলেও মাসুমের আত্মীয়রা অন্য লাশটি যে মাসুমের তা সনাক্ত করতে পারেনি । সে আজও নিখোজঁ। পরিবারের আশংকা মাসুম গুপ্ত হত্যার শিকার হয়েছেন।

(২৫) যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগ এলাকার ৮৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি এর সভাপতি কাজী আতাউর রহমান লিটু নিখোজঁ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় তাকে র‌্যাব অথবা ডিবি পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে তার স্ত্রী রাশিদা বেগম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন তার স্বামীকে র‌্যাব অপহরন করে গুম করেছে।

(২৬) সাভারের কলমা এলাকায় ব্যবসায়ী হাফিজুন ইসলাম স্বপন এক মাস ধরে নিখোজঁ রয়েছেন। স্বপনের স্ত্রী নাসিমা বেগমের অভিযোগ গত ১৩ নভেম্বর/২০১১ গাজীপুুরের নিজস্ব মুদি দোকানের মালামাল কিনতে যান স্বপন। ১৪ নভেম্বর বিকেলে বাড়ি ফেরার সময় তার স্বামী নিখোজঁ হন। কিশোরগঞ্জ থেকে টেলিফোনে স্বপনের মামা ফারুক জানান ১৪ নভেম্বর স্বপন অপহৃত হওয়ার পরদিন কিশোরগঞ্জ শহরের জুম্মু হল এলাকা থেকে তার দুই ব্যবসায়ী বন্ধু জসিম ও শফিকদ্বয়কেও র‌্যাব এর সদস্যরা একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যান। পরে তাদের স্বজনদের কাছে জনপ্রতি ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

(২৭) সাভার সিটি সেন্টারের কসমেটিক ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ধলুকে র‌্যাব পরিচয়ে ধরে নিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয় ।

(২৮) গত বছরের সেপ্টেম্বরে র‌্যাব সদস্য পরিচয়ে কয়েকজন লোক চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম বাছাইয়াকে ধরে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তার স্ত্রী অভিযোগ করেন, র‌্যাব সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত তার কোন সন্ধান পাওয়া যায় নি।

(২৯) ২০০৯ সালে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকা থেকে ঠিকাদার মোজাফ্ফর আহাম্মদ চৌধুরী নিখোজঁ হন। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় র‌্যাব পরিচয়ে কয়েকজন লোক তাকে ধরে নিয়ে যায়। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ঠিকাদার ছিলেন। সিএমপির কয়েকটি থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ছিল।
(৩০) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ৪১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নূর হাজি (৭৫) গত ২০ অক্টোবর ২০১১ রাতে সাভারের বাসা থেকে নিখেঁাঁজ হন।

(৩১) ৩রা ডিসেম্বর ২০১১ ঢাকার শ্যামলী এলাকার নূর হাজির বড় মেয়ের স্বামী আব্দুল মান্নান নিখোঁজ হন। নুর হাজির মেয়ে স্বপ্নার দাবি আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা তার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায়।

(৩২) ৩রা ডিসেম্বর ঢাকার শ্যামলী এলাকা থেকে ইকবাল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে একই সময়ে নূর হাজির বড় মেয়ের স্বামী আব্দুল মান্নানের সাথে নিয়ে যায়।

(৩৩) গত ২৯শে নভেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঢাকা সিটি করপোরেশন বিভক্তির প্রতিবাদে সমাবেশে গিয়েছিলেন সিটি করপোরেশনের কর্মচারী ও সূত্রাপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহবায়ক মোঃ মাসুম। গত ১৯-১২-১১ইং পর্যন্ত তিনি আর বাসায় ফেরেনি। সমবেশ থেকেই উধাও হয়ে যায় মাসুম। তার আত্মীয় স্বজন এখন দিশেহারা। কোথাও লাশের খবর পেলেই ছুটে চলেন। কিন্তু মাসুমের হদিস মিলছেনা।
কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জে মাসুমের গ্রামের বাড়ি। প্রায় ছয় বছর ধরে সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী কর্মচারী (বিদ্যুৎ) হিসাবে কাজ করেছিলেন তিনি।। গত ৩রা ডিসেম্বর সূত্রাপুর থানায় মাসুমের ভাগিনা শামীম একটি সাধারন ডায়েরী(জিডি) করেছেন মামার নিখোজঁ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে। জিডিসূত্রে আরও জানা যায় ২৯শে নভেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সুশীল সমাজের ব্যানারে ঢাকা সিটি করপোরেশন বিভক্তির প্রতিবাদে একটি সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন মাসুম।

(৩৪) ২০১০সালের ৮ই নভেম্বর চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানা বিএনপির সভাপতি ও করলডেঙ্গ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামকে র‌্যাব সদস্যরা গাজীপুর থেকে তুলে নিয়ে যায় বলে তার পরিবার অভিযোগ করেছে। গাজীপুর-জয়দেবপুর বাইপাস রোডের চৌরাস্তা এলাকা থেকে সাদা পোশাকধারী ৪/৫ জন লোক আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তার গাড়ী থেকে জোর করে তাকে অন্য একটি গাড়ীতে তুলে নেয়। কিন্তু তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করেছে র‌্যাব।

(৩৫) ২০১০ সালের ১৪ই জুলাই গোলাম মুর্তজা (৩০) নামে একজন ছাত্র সংগঠককে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকধারী ৬/৭ জন ব্যক্তি ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর থেকে হাতকড়া লাগিয়ে নিয়ে যায় বলে তার পরিবার অভিযোগ করেছে। গোলাম মর্তুজার আত্মীয় স্বজনরা সিআইডি, র‌্যাব এবং ধানমন্ডি থানায় যোগাযোগ করেও তার কোন সন্ধান পাননি।

(৩৬) ২০১০ সালের ২৭ই এপ্রিল মিজানুর রহমান সুমন নামের এক ব্যবসায়ীকে সাদা পোশাকেধারী র‌্যাব সদস্যরা গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে ঢাকায় নিয়ে আসে। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।

(৩৭) ১৫ই ফেব্্রুয়ারী/২০১১ রাজধানীর ৬২০ উত্তর শাহজাহানপুর থেকে সাদা পোশাকের ও পোশাকধারী র‌্যাব সদস্যরা মুদি দোকান কর্মচারী রফিকুল ইসলাম (৪১) ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে তার পরিবার অভিযোগ করেছেন। রফিকুলকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তারা র‌্যাব -৩ স্থানীয় থানাসহ বিভিন্ন জায়গায় খোজঁ নিয়েছেন কিন্তু তাকে কোথাও পাওয়া যায়নি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান ঘটনার দিন বিকালে র‌্যাবের পোশাকধারী এবং সাদা পোশাকের ১৫/২০ জন লোক দোকান থেকে রফিকুলকে আটক করে নিয়ে যায়। কি অপরাধে তাকে আটক করা হয়েছে এ ব্যাপারে তারা কিছুই জানায়নি। দিন দুপুরে রফিকুলকে আটক করে নেয়ার এ দৃশ্য আশপাশের অন্যান্য দোকানদার, পথচারী ও সাধারন মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে।

(৩৮) ২৬ অক্টোবর/২০১১ রাজধানী ফকিরাপুল এলাকা থেকে অপহরণ করা হয় ফেনীর সোনাগাজী থানা যুবলীগের কর্মী সারোয়ার জাহান বাবুলকে (২৯)। এ ঘটনার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও আজও তার সন্ধান মেলেনি। তাকে জোরপূর্বক গাড়ীতে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় অপহরণকারীরা নিজেদের সরকারী গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য পরিচয় দিলেও র‌্যাব-পুলিশ-ডিবি কেউই তার খোঁজ দিতে পারেনি। বাবুলের পরিবারের সদস্যরা তাকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে এখন তার লাশ চেয়ে ধরনা দিচ্ছেন র‌্যাব-পুলিশের দ্বারে দ্বারে।

(৩৯) গত ৮ই এপ্রিল/১১ পুরান ঢাকার কালার প্লাস নামের একটি তৈরী পোশাক কারখানার মালিক তারিক উদ্দিন আহমেদ নিখোঁজ হন। সূত্রাপুরের ফরাশগঞ্জ ক্লাব কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে সাদা পোশাকের লোক সাদা মাইক্রোবাসে তুলে তাঁকে নিয়ে যায়। পুরান ঢাকার হেমেন্দ্র দাস রোডের বাসায় সরেজমিনে তার বাবার সাথে কথা বলতে গেলে বৃদ্ধ বাবা আহার আলী কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বলেন, তারিক গার্মেন্টসের ব্যবসা করত। সে রাজনীতি করত না। বিয়েও করেনি। তিনি জানান বিভিন্ন পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন, তার ব্যবসায়ী প্রতিপক্ষ র‌্যাবকে ব্যবহার করে তারিককে অপহরণ করেছে। দুই মাস আগে ফোন করে ১০ লাশ টাকা মুক্তিপন দাবি করা হয়। সূত্রাপুর থানার সাধারন ডায়েরী করা হলেও খোঁজ মেলেনি তার। মামলা কেন করেননি জানতে চাইলে আজহার বলেন, কার বিরুদ্ধে মামলা করব? সরকারের বিরুদ্ধে কি মামলা করা যায়।

(৪০) তপন দাস (২৮) নামে একজন ব্যবসায়ী বাজার করতে গেয়ে নিখোঁজ হন। এ ব্যাপারে শ্যামপুর থানায় জিডি করা হয়। তা স্ত্রী সুমী দাস জানান তপনের সাথে কারো কোন বিরোধ নেই। তাঁকে উদ্ধারে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি, আশায় বুক বেঁধে আছি তিনি কবে ফিরে আসবেন। তিনি এখনও নিখোঁজ অবস্থায় আছেন।

(৪১) রফিকুল ইসলাম নামে একজন দোকান কর্মচারীকে গত ১৫ই ফেব্রুয়ারী/২০১১ তারিখে ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকা থেকে সাদা মাাইক্রোবাসে অজ্ঞাতনামা কয়েক জন ব্যক্তি তুলে নিয়ে যায়। তার সন্ধান মেলেনি।

(৪২) আব্দুল করিম হাওলাদার নামে একজন নিখোঁজ হন। তিনি আওয়ামী লীগ নেতা ও ঝুট ব্যবসায়ী। তিনি ২রা অক্টোবর/২০১১ তারিখে মিরপুর এলাকা হতে নিখোঁজ হয়েছেন। তিনি কি অবস্থায় আছেন তা জানা যায়নি।

(৪৩) রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের ৭২ নং আবদুল আজিজ লেনের বাড়িতে ২ বোনের সঙ্গে থাকতেন স্ক্রিনপ্রিন্ট ব্যবসায়ী সুলতান হাওলাদার। পরিবারের অভিযোগ গত ৮ই ডিসেম্বর/২০১১ ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সুলতানকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর তার পরিবার হাসপাতাল, জেলখানাসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়ে কোথাও সন্ধান পায়নি। র‌্যাব পুলিশ কেউই তাকে ধরে নেওয়ার কথা স্বীকার করেনি। তারা মসজিদে মিলাদ পড়াচ্ছেন মাজারে মানতও করছে। কিন্তু সুলতান এখনও ফেরেনি। সুলতানের স্ত্রী বিউটি বলেছেন তারা প্রথমে জানেন সুলতানকে গাউছিয়া মার্কেটের সামনে থেকে ধরে নিয়ে গেছে ডিবি পুলিশ। পরে জানতে পারেন ডিবি নয় তাকে নিয়ে গেছে র‌্যাব-২। তারা র‌্যাব-২ অফিসে গেলে র‌্যাবের অফিসাররা বলেন, তারা সুলতান নামে কাউকে ধরে আনেনি।

(৪৪) রাজধানীর বঙ্গবাজারের কাছে নির্মিত ঢাকা সুপার মার্কেটের মালিক ও ওই মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হাজী মোহাম্মদ ওয়াজিউল্লাহ ৫ মাস ধরে নিখোঁজ। পরিবারের অভিযোগ আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে একটি চক্র তাকে অপহরণ ও গুম করতে পারে। এ ব্যাপারে ওয়াজিউল্লাহের ছেলে ওহিদুর রহমানের দায়ের করা মামলাটি পর্যবেক্ষন করেছেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান হাজী ওয়াজিউল্লাহকে কারা এবং কি কারণে অপহরণ করেছে তার কুল কিনারা হয়নি এখনও। মামলায় যাদের আসামী করা হয়েছে তাদের দখলে রয়েছে সুপার মার্কেট।

(৪৫) গত ২রা অক্টোবর/২০১১ মিরপুর ১০ নং থেকে আব্দুল করিম হওলাদার অপহৃত হন। পরিবারের অভিযোগ প্রশাসনের লোক পরিচয়ে তাকে গাড়ীতে তুলে অপহরণ করা হয়। করিম গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসার পাশাপাশি পল্লবী থানা আওয়ামী লীগের ত্রান বিষয়ক সম্পাদক। করিমের স্ত্রী জানান ঘটনার পর
মিরপুর থানার অপহরনের মামলা করা হয়। কিন্তু পুলিশ কিছুই করতে পারেনি। র‌্যাবের সদর দপ্তরেও যোগাযোগ করে কোন লাভ হয়নি।

সংঘটিত অপহরণ, নিখোঁজ, গুপ্ত হত্যা ও গুমের ঘটনাবলী পর্যবেক্ষন ঃ

(১) জেনারেল ডায়েরী, মামলা ও তদন্তঃঅপহরণের পর নিখোঁজ গুপ্ত হত্যা ও গুমের ঘটনাবলী পর্যবেক্ষনে দেখ যায় যে, গুপ্ত হত্যা ও গুমের ঘটনায় যে সমস্ত লাশ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার করেছে সেসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামল রুজু হওয়ার পর তদন্তাধীন আছে। যাহারা নিখোঁজ রয়েছেন সে সেক্ষেত্রে সংশিষ্ট থানায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণ ডায়েরী এবং কোন কোন ক্ষেত্রে নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে যা তদন্তাধীন। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক উদ্ধারকৃত লাশের জখমের চিহ্ন মাথায় আঘাত, বিকৃত মুখমন্ডল, চোখে মুখে মলম এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত রয়েছে। অপহরন, গুম ও গুপ্তহত্যার বিষয়ে ভুক্তভোগী অধিকাংশ পরিবার র‌্যাবকে দায়ী করেছে।