ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

প্রস্তাবটি পুরনো। পোষ্টও দিয়েছিলাম। আবারো দিলাম। কারণ দাবি চালিয়ে যেতে হবে।

রয়েল হংকং পুলিশ ফোর্স এর কাউলুন এর ডেপুটি ডিস্ট্রিক্ট কমিশনার ছিলেন পিটার গডবার। সেখান থেকে ওনছাই পুলিশ স্টেশনে এবং তারপর কাই টাক এয়ারপোর্ট পুলিশ স্টেশনে যোগ দেন আলোচিত এই পুলিশ কর্মকর্তা। এটা ১৯৭৩ সালের কথা। চৌকশ পুলিশ অফিসার হিসেবে বেশ নামডাক ছিলো ডিপার্টমেন্টের ভেতর।

অবসরগ্রহণের পরও হংকং এ এখনো বেশ আলোচিত নাম পিটার গডবার। তবে, নিষ্ঠা, দক্ষতা, দেশপ্রেম বা সততার জন্য নয়। একজন দূর্নীতিবাজ পুলিশ অফিসার হিসেবে পিটার গডবার এর নাম জানে হংকং এর সাধারণ মানুষ। স্কুল পড়ুয়া শিশুরাও জানে ১৯৭৩ সালে কিভাবে পাকড়াও করা হয় গডবারকে। এবং তার সাজাও অজানা নয়। কারণ গডবারের মতো বড় বড় দূর্নীতিবাজদের নিয়ে হংকং এ করা হয়েছে একটি জাদুঘর! চলুন শুনি সে কথা।

২০১০ সালের ৭ই মে হংকং এর ‍ইন্ডিপেন্ডেন্ট কমিশন অ্যাগেইনস্ট করাপশন বা আইসিএসি এর প্রধান কার্যালয় ঘুরে দেখার সুযোগ মেলে। এশিয়ান হিইম্যান রাইটস কমিশনের আমন্ত্রণে হংকং যাই ২০১০ সালে। তারাই নিয়ে যান জাদুঘরে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট কমিশন অ্যাগেইনস্ট করাপশন বা আইসিএসি’র কর্মকর্তারা জানান, এটি হংকং এর দুর্নীতিবিরোধী স্বাধীন ও শক্তিশালী একটি প্রতিষ্ঠান। জানালেন, হংকং এর প্রধান নির্বাহী ছাড়াও কারো কাছে এই প্রতিষ্ঠান জবাবদিহিতা করে না। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব এনফোর্সমেন্ট উইংও রয়েছে বলে জানান তারা।

কর্মকর্তাদের দাবি, ৭০ এর দশকেও দুর্নীতির চাদরে মোড়া হংকংকে অনেকটাই দুর্নীতিমুক্ত করায় এই স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের অগ্রনী ভুমিকা রয়েছে। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার দূর্নীতি দমন কমিশনও তাদের পরামর্শে গড়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

সুরম্য ও সুরক্ষিত এই ভবনের ভেতরেই আইসিএসি গড়ে তুলেছে তাদের জাদুঘর। ১৯৭৩ সালের পর দুর্নীতি বিরোধী বড় বড় অভিযানের সচিত্র বর্ননা রয়েছে। আছে দলিলপত্র এবং রায়ের কপিও। এই জাদুঘরেই রাখা হয়েছে পিটার গডবার এর চাঞ্চল্যকর সেই মামলাটির বিস্তারিত দলিলপত্র এবং তার ধরা পড়ার ছবি।

১৯৭৩ অবসর গ্রহণের পর ঘুষ নেয়ার মামলায় অভিযুক্ত করা হয় পিটার গডবারকে। বলা হয় বিভিন্ন সময় তিনি ৪.৩ মিলিয়ন হংকং ডলারেরও বেশি (প্রায় ৬০০০০,০০০ ইউএস ডলার) ঘুষ নেন এবং বিদেশের ব্যাংকে জমা করেন।

অবৈধ এ টাকার উৎস সম্পর্কে জানতে চায় এন্টি করাপশন কমিশন। এরপরই পিটার গডবার আর তার স্ত্রী অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে যান।

জনবিক্ষোভের মুখে ১৯৭৫ সালের ৭ই জানুযারি হংকং সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনে। একই বছরের ১৭ই ফেব্রুয়ারি বিচার শুরু হয়। চলে টানা সাত বছর। বিচারে তার চার বছরের সাজা হয়। জরিমানা করা হয় ২৫,০০০ হংকং ডলার।

জাদুঘরে রয়েছে এমন অনেক ঘটনা। বড় বড় রিয়েল এস্টেট কোম্পানীর বহুতল ভবন দুর্নীতির দায়ে ভেঙে ফেলা, জেল জরিমানার অনেক ঘটনা। কর্মকর্তারা জানালেন, ইতিহাস জানুক কিভাবে দুর্নীতি দমন করা হয়েছে তাদের দেশে। কেমন ছিলো দুর্নীতিবাজদের চেহারা।

জাদুঘর ঘুরে দেখার সময় ভাবছিলাম, এমন একটি জাদুঘর যদি করা যেত বাংলাদেশে! দুর্নীতিবাজদের আমলনামা থাকতো। ফলে, দুর্নীতি করে সাজা ভোগের পর বড় গলায় কথা বলার অভ্যাস হয়তোতো একদমই বন্ধ হয়ে যেত এসব দুর্নীতিবাজদের। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে দেখত কিভাবে বাংলাদেশকে কুরে কুরে খেয়েছিলো এসব দুর্নীতিবাজ। কেমন ছিলো তাদের চেহারা। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর কিভাবে দুর্নীতির যাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছে এদেশে।