ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

সাংবাদিকের উপর পুলিশের হামলা। দেখুন।

প্রথম আলোর সংবাদে লেখা হয়েছে:

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের শেরেবাংলা নগরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে পুলিশের কিল, ঘুষি ও বেধড়ক লাঠিপেটায় প্রথম আলোর তিন ফটোসাংবাদিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তেজগাঁও অঞ্চলের পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) শহিদুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আহত ফটোসাংবাদিকেরা হলেন খালেদ সরকার, সাজিদ হোসেন ও জাহিদুল করিম। তাঁদের পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মুঠোফোনে পুলিশের লাঠিপেটার ঘটনার ভিডিও করার সময় ঘটনাস্থলে থাকা প্রথম আলোর ফিচার পাতার প্রদায়ক ইমাম হাসানকেও পুলিশ মারধর করে। পরে তাঁর মুঠোফোন সেটটি পুলিশ কেড়ে নেয়। মুঠোফোনের মেমোরি কার্ডটি পুলিশ নিয়ে গেছে। সেখানে ভিডিওর দৃশ্য ধারণ করা ছিল।
হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আহত ফটোসাংবাদিক জাহিদুল করিম বলেন, ‘মহিলা পলিটেকনিক কলেজের ছাত্রীদের অবরোধের ঘটনা শুনে আমি আগারগাঁওয়ের দিকে যাই। সেখানে আমাদের সহকর্মী খালেদ সরকার ছিলেন, তা আগেই জানতাম। কিন্তু যেহেতু উনি ফিচার ফটোগ্রাফার তাই আমি যাই।’
জাহিদুল করিম আরও বলেন, ‘পলিটেকনিক কলেজের সামনে গিয়ে আমি ছবি তুলি। অবরোধ তুলে নিয়ে কলেজের ছাত্রীরা যখন মিছিল নিয়ে ফিরে যাচ্ছিল, তখন আরও ভাঙচুর হয় কি না, তা দেখতে আমি পুলিশ বক্সের সামনে রাখা মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তার বিপরীত পাশে যাই। খবর পেয়ে একই ঘটনা কভার করতে যান ফটোসাংবাদিক সাজিদ হোসেন।’
জাহিদুল করিমের ভাষ্য, এ সময় তেজগাঁও অঞ্চলের পুলিশের এসি শহীদুল ইসলাম তাঁদের কাছে রাস্তার উল্টো পাশে যাওয়ার কারণ জানতে চান। সাজিদ হোসেন ও তিনি পুলিশকে জানান যে তাঁরা সাংবাদিক, অবরোধের ঘটনার ছবি তুলতে গেছেন। জবাবে শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সাংবাদিক অনেক দেখেছি, অনেক সাংবাদিক পেটাইছি’—এই বলে শহীদুল ইসলাম তাঁদের (জাহিদুল করিম ও সাজিদ হোসেন) মা, বাবা তুলে গালি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে সাজিদ হোসেন গালি না দেওয়ার অনুরোধ করলে তিনি আরও ক্ষেপে যান।
জাহিদুল করিম আরও বলেন, ‘এ সময় শহীদুল ইসলাম সঙ্গে থাকা পুলিশ কনস্টেবলদের পিটুনির নির্দেশ দেয়। কনস্টেবলরা সাজিদ হোসেনকে কিল, ঘুষি মারে ও লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে। তাদের পিটুনিতে একপর্যায়ে সাজিদ হোসেন রাস্তায় শুয়ে পড়েন। তাঁর ক্যামেরা কেড়ে নেয় কনস্টেবলরা। আমি (জাহিদুল করিম) তা ঠেকাতে গেলে আমাকেও কিল, ঘুষি মারে তারা। একই সঙ্গে লাঠিপেটাও করে।’
সাংবাদিকদের পেটানোর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান খালেদ সরকার। পুলিশ এ সময় তাঁকেও পেটাতে শুরু করে। এ সময় শহীদুল ইসলাম সাংবাদিকদের থানায় নিয়ে যেতে পুলিশকে নির্দেশ দেন। পুলিশ তিন ফটোসাংবাদিককে পিটুনি দিতে দিতে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় শহীদুল ইসলাম বলতে থাকেন, ‘পেটা শালাদের পেটা, সাংবাদিক পেটা। সাংবাদিক মারলে কিছু হয় না।’
আহত সাংবাদিক জাহিদুল করিম বলেন, ‘থানায় নিয়ে গিয়ে পুলিশ আমাদের মুঠোফোন কেড়ে নেয়। পরে তা বন্ধ করে দেয়। মামলা করার প্রস্তুতিও নিতে থাকে।’
খবর পেয়ে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক গোলাম মর্তুজা শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেনকে নিয়ে থানায় গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন। পরে গুরুতর আহত তিন ফটোসাংবাদিককে পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়।
জাহিদুল করিম বলেন, ‘মারধরের একপর্যায়ে পুলিশ আমাদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। পুলিশকে ক্যামেরা না ভাঙার জন্য আমরা অনুরোধ করি। কিন্তু পুলিশ ক্যামেরা ভাঙচুর করেছে।’
আহত ফটোসাংবাদিক খালেদ সরকার বলেন, আজ সকাল ১০টায় অফিসের দায়িত্ব পালন শেষে ক্যামেরা সার্ভিস করার জন্য তিনি আইডিবি ভবনে যান। সেখান থেকে বের হওয়ার পরে তিনি দেখেন, শেরেবাংলা নগরে মহিলা পলিটেকনিক কলেজের ছাত্রীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে। তখন ছবি তুলতে শুরু করেন তিনি। পরে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেওয়ার সময় তিনি শোনেন, পুলিশ সাংবাদিকদের পেটাচ্ছে। তিনি দৌড়ে কলেজের সামনে গিয়ে দেখেন, তাঁর সহকর্মী জাহিদুল করিম ও সাজিদ হোসেনকে বেধড়ক পেটাচ্ছে পুলিশ। এ ঘটনার ছবি তুলতে গেলে পুলিশ তাঁকেও (খালেদ সরকার) লাঠিপেটা করে ও ক্যামেরা কেড়ে নেয়।
শেরেবাংলা থানার ওসি জাকির হোসেন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক নজরুল ইসলামকে দেখতে তিনি পঙ্গু হাসপাতালে গিয়েছিলেন। খবর পেয়ে সেখান থেকে সাংবাদিক গোলাম মর্তুজাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিভিন্ন স্থানে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় আজ সকাল থেকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে মহিলা পলিটেকনিক কলেজের ছাত্রীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছিলেন। প্রথম আলোর তিন ফটোসাংবাদিক সেখানে ছবি তুলতে গেলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ তাঁদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় ও বেপরোয়া লাঠিপেটা করে। এতে ওই তিন ফটোসাংবাদিক গুরুতর আহত হন।
সাংবাদিকেরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

বন্ধ হোক সাংবাদিক নির্যাতন।