ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

ভোলা সোনালি ব্যাংক মহাজন পট্রিশাখার অবহেলা ও কারচুপির কারণে দীর্ঘ নয় মাস ধরে বয়স্ক ভাতা থেকে বঞ্চিত হলেন বিধবা সামন্ত বানু। তার বই ব্যাংকের জনৈক স্টাফ আটকে নিজেই কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার ভাতা ফিরে পেতে ব্যাংকের দরজায় ঘুরতে ঘুরতে এখন তিনি ক্লান্ত। সামন্ত বানু তার টাকা ফেরৎ চান। ব্যাংক কর্তৃপক্ষর বিচার চান। তাদের জানানো সত্ত্বেও কোন ব্যাবস্থা নেননি তারা। সামন্ত বানুর স্বজনরা সোনালী ব্যাংকের এহেন আচরণের কথা লিখিত আকারে জানিয়েছেন ভোলা প্রেসক্লাব সভাপতি/সম্পাদক ও সকল সাংবাদিকদের কাছে।

জানা যায়, সামন্ত বানুর বাড়ী ভোলা সদরের দক্ষিণ চরনোয়াবাদ এলাকার ৪নং ওয়ার্ডে। তার স্বামীর নাম মৃত জালাল আহাম্মেদ। ভোলা পৌরসভার একজন অতি দরিদ্র বিধবা বয়স্ক মহিলা। গত সেপ্টেম্বর/অক্টোবর মাসে সোনালী ব্যাংক মহাজনপট্টি শাখা বয়স্ক ভাতার টাকা উত্তোলনের জন্য যান তিনি। তখন ব্যাংকের একজন স্টাফ তার কাছ থেকে জমা দেয়ার কথা বলে বয়স্ক ভাতার বইটি নিয়ে যায়। ওইদিন অন্যান্য বয়স্ক ব্যক্তিদের ভাতা দেয়ার দিন ধার্য্য ছিলো। দীর্ঘক্ষন অপেক্ষার পর যখন বয়স্ক ভাতা দেয়া শেষ হয় তখন শামন্ত বানু যেখান থেকে টাকা দেয়া হয় সেখানে গেলে বই হারানো গিয়েছে বলে জানান। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। এরপর সামন্ত বানু স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন এর শরনাপন্ন হন। তিনি তার সংস্থার সমন্বয়কারী মোঃ আজাদ হোসেন কে দায়িত্ব দেন বিষয়টি দেখার জন্য। এরপর গত ২২ জানুয়ারী তারিখে সোনালী ব্যাংক, মহাজনপট্টি শাখা গেলে ব্যাংকের (ম্যানেজারের অনুপস্থিতিতে) দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাথে কথা বলেন। ব্যাংকের কর্মকর্তা অফিসের আলমারিতে রাখা অন্যান্য বই মিলিয়ে দেখেন। তখন সামন্ত বানুর বইটি পাওয়া যায়নি এবং তিনি তাদের ভাতা বিতরণ রেজিস্টার দেখে বলেন, তার কোন নাম নেই। এরপ ব্যাংক কর্মকর্তা পরামর্শ দেন সমাজ সেবা কর্তৃপক্ষের শরনাপন্ন হওয়ার জন্য। এনজিও কর্মকর্তা মোঃ আজাদ হোসেন সমাজ সেবা কার্যালয়ে যান। সেখানে সমাজ সেবা অফিসের রেজিস্টার দেখে সামন্ত নাম খুঁজে পাওয়া যায়। সমাজ সেবা দপ্তর পরামর্শ দেন থানায় জিডি এন্ট্রি করার জন্য। জিডি এন্ট্রি করার পর সমাজ সেবা কার্যালয়ে উক্ত কপি পৌছানো হয়। এর পর সমাজ সেবা কর্তৃপক্ষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারী সামন্ত বানুকে একটি ডুপ্লি¬কেট বয়স্ক ভাতার বই প্রদানের জন্য জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে প্রেরণ করেন। তার পরি প্রেক্ষিতে ওই অফিস হতে ১২ মার্চ হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আবুল কাশেম স্বাক্ষরিত বয়স্ক ভাতার ডুপ্লি¬কেট বই সামান্ত বানুর নামে ইস্যু করেন। এর পর গত ২২ এপ্রিল সামন্ত বানুর পক্ষে এনজিও কর্মকর্তা মোঃ আজাদ হোসেন সোনালী ব্যাংক, মহাজনপট্টি শাখায় যান। তখন ম্যানেজার সাহেব বলেন, যে এখন আমাদের কাজের চাপ আপনি আগামী বাংলা জৈষ্ঠ্য মাসের ১৫ তারিখের পরে আসেন। এরপর গত ০৫ জুন মোঃ আজাদ হোসেন, সোনালী ব্যাংক, মহাজনপট্টি শাখার ম্যানেজারের সাথে দেখা করলে তিনি বয়স্ক ভাতার বিতরণ রেজিস্টার দেখেন এবং বলেন, ৫ জুন তারিখেও ৯শ’ টাকা সামন্ত বানুর নামে উত্তোলন করা হয়েছে। ব্যাংক ম্যানেজার জানান, বিগত ২০১১ সালের অক্টোবর মাসেও আরো ১ হাজার ৮শ’ টাকাও উত্তোলন করা হয়েছে। এভাবে কে বা কারা এ টাকা নিয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যাথাই নেই।

ব্যাংকের গড়িমসি ও কাজে অবহেলার শিকার হয়েছেন বিধবা সামন্ত বানু। ব্যাংকে অভিযোগ জানানোর পরেও কিভাবে অন্য কেউ টাকা নিয়ে গেল এটাতেই ব্যাংকের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে সেখানে আগত গ্রাহকরা মনে করছেন।

এ ব্যাপারে উক্ত ব্যাংক ম্যানেজার মোঃ ইউনুছ মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন প্রকার সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে সোনালী ব্যাংক জেলা শাখার ব্যাবস্থাপক মো: আবুল কাসেম বলেন, ব্যাপারটি খতিয়ে দেখে সামন্ত বানুর বয়স্ক ভাতা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল কাদের মজনু মোল্লা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার অলিউর রহমান, আঞ্চলিক ব্যাবস্থাপক সোনালি ব্যাংক, সমাজসেবা উপ পরিচালক, ও দুর্নীতি দমন কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সামন্ত বানু।