ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

দ্বীপ জেলা ভোলার উপকুল গুলোতে হঠাৎ করেই তীব্র শীত জেকে বসেছে। শৈত্য প্রবাহ, শিরশিরে বাতাস আর ঘন কুঁয়াশার কারণে তীব্র শীতে কাঁপছে ভোলার উপকুলীয় চরাঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষগুলো। যেখানে মাছধরা তাদের প্রধান পেশা সেখানে তীব্র শীত ও ঠান্ডা হাওয়ায় গত কয়েক দিন নদীতে যেতে না পারায় মাছ ধরাও সম্ভব হয়নি তাদের। আর রোজগার বন্ধ থাকায় অনেকেরই অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছে। এছাড়াও এসব খেটে খাওয়া মানুষগুলোর সামান্য শীত নিবারণের পোশাকটুকু পর্যন্ত নেই। যা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না কেউ। অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে পর্যাপ্ত পরিমান শীতবস্ত্র বিতরন না করায় চলতি হাঁড়কাপানো শীতে অনেকটা কোনঠাঁসা হয়ে পরেছে ওই সব হতদরিদ্র মানুষগুলো। সরেজমিনে ভোলা সদর ইউনিয়নের চরচটকিমারা গ্রামে ২৪ ডিসেম্বর শনিবার সকালে দেখা গেছে, সারা দেশের ন্যায় গত তিন চারদিন ধরে তীব্র শীত পড়েছে ভোলার সেখানেও। হিমশীতল বাতাসে কাবু হয়ে পড়েছে মানুষ। নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ তীব্র শীতের কারণে কাজে যেতে না পারায় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ঘন কুঁয়াশার কারণে সূর্যের দেখা না মেলায় তারা খড়কুটয় আগুন জেলে শীত নিবারনের চেষ্টা করছে।

এসময় আলাপ হয় মোঃ শাহজাহান নামে এক জেলের সাথে তিনি জানান, ’গেল তিন দিন ধইরা অনেক ঠান্ডা পড়ছে হেরলাই গাঙ্গো যাইত পারি-ন। আর গাঙ্গো না গেলেতো মহাজন আমগো এমনে এমনে টেয়া দিবনা। টেয়া না থাকলে আমাগো খাওনও বন্ধ থায়ে”। একই কথা বলেন স্থানীয় অপর জেলে রহিম, সিরাজ, তাজল ও জলিল মাঝি।

শুধু জেলে নয়, কৃষক, শ্রমিক, রিক্সা চালকসহ যারা দিন আনে দিন খায় এসব খেটে খাওয়া মানুষের খবর রাখেনা কেউ। এমন অজস্র ক্ষোভ আর যন্ত্রনার কথার শেষ নেই চরাঞ্চলের বিচ্ছিন্ন জনপদগুলোতে। যাদের এক দিন রোজগাড়া বন্ধ থাকলে জ্বলেনা চুলোর আগুন। আর যাদের খাওয়ার জোগাড় হয়না, তাদের আবার শীতবস্ত্র! এক সময় দেখা যেত এসব খেটে খাওয়া গরীব অভাবী মানুষগুলো শীত নীবারনে ফুটপাতের অল্প টাকার পুরাতন গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে ছুটে আসতে। কিন্তু এবছর এসব ফুটপাতের পুরাতন গরম কাপড়ের মূল্য গত বছর এর তুলনায় প্রায় দ্বিগুন হওয়ায় তাদের নাগালের বাইরে চলেগেছে বলে জানান তারা। এ অবস্থায় ওই সব চরাঞ্চলের দরিদ্র বাসীন্দারা সমাজের বিত্তবান ও সরকারের সাহায্য কামনা করছে।

ভোলা জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তর জানান, শীতের এই তীব্রতা ও ঘন কুঁয়াশা আরও কয়েকদিন অব্যহত থাকবে৷ গতকাল শনিবার ২৪ ডিসেম্বর ভোলায় সর্বোচ্চ ২৩.০০ ডিগ্রী সেঃ আর সর্বনিন্ম ১৫.০০ ডিগ্রী সেঃ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৷

ভোলা জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এমন আবহাওয়া চলতে থাকলে বোরো চাষের জন্য সদ্য রোপনকৃত বীজতলার ক্ষতির সম্ভাবনা খুব বেশি।

এদিকে সারাদেশের শীতার্ত দরিদ্র মানুষের জন্য সরকার তিন লাখ পিস কম্বল বরাদ্দ দিয়েছে। সেখান থেকে ভোলার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে পাঁচ হাজার ১৬টি কম্বল । প্রয়োজনের তুলনায় সরকারী এ বরাদ্দ যৎসামান্য। ফলে ভোলা উপকুলের চরাঞ্চল ও বেড়িরাধের প্রায় ৩ লক্ষাধিক ছিন্নমূল মানুষের জন্য আরো প্রচুর পরিমানে শীত বস্ত্র প্রয়োজন বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আলী এরশাদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রান ভাণ্ডার হতে ৫হাজার ১৬ পিস কম্বল ভোলা জেলার জন্য বরাদ্দ হয়েছে। ইতিমধ্যে ৪ হাজার ১৬ পিস কম্বল বিতরনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ১হাজার কম্বল বিতরনের প্রক্রিয়া চলছে।