ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

ভোলা সরকারী উচ্চ বালক ও বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে টিউশনী ও কোচিং বানিজ্য চালাচ্ছেন কিছু শিক্ষক। অতীতের সকল টিউশনীর পরিমান ছাড়িয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে তাদের এ বানিজ্য। এদের বাসা মনে হয় যেন এক একটি মিনি স্কুল। ব্যাচের পর ব্যাচ পড়াতে নেই তোদের কোন ক্লান্তি, শুধু স্কুলে পড়াতেই তাদের যত অনীহা। তাই স্কুলে যাবার পরই অপেক্ষার পালা কখন পড়বে ছুটির ঘন্টা। স্কুলে যাবার আগে ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে টিউশনীর পালা। শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে ও পরীক্ষায় কম নাম্বার পাওয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের টিউশনী ও আলাদা কোচিং করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী অভিভাবকরা। বছরের পর বছর এরা ভোলাতে নির্বিঘেœ লাখ লাখ টাকার এই বানিজ্য করে যাচ্ছে কর ফাঁকি দিয়ে এবং পৌরসভার কোন রকম ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি ব্যাচে ২০ থেকে ৩০ জন ছাত্র-ছাত্রী পড়ানো হচ্ছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, এসব শিক্ষকরা ছাত্র ছাত্রীদের তাদের কাছে প্রাইভেট পড়তে একরকম বাধ্য করছেন। তবে সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয়। শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, কোন কোন শিক্ষকের বাসায় ২শ’র বেশী শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়ে। নাম গোপন রাখার শর্তে শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিটি বিষয়ের সংশ্লিষ্ঠ শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় তার নম্বর কমিয়ে দেয়া হয়। বাধ্য হয়ে সে ঐ শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ে। অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, এ ব্যাপারে দুটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করেও কোন সুফল পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, ভোলা সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের ইংরেজী,গনিত,শরীরচর্চা ও ধর্ম বিষয়ের শিক্ষকসহ বেশ কয়েকজন টিউশন বানিজ্যের শীর্ষে আছেন। এছাড়াও বিগত কয়েক বছর ধরে প্রতিভা এন্ড রেদোয়ান নামে একটি কোচিং সেন্টার সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষিকা দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। শুধু তাই নয় প্রতি বছরই সরকারী স্কুল গুলোর ভর্তি পরীক্ষাকে পূঁজি করে স্কুল গুলোর কিছু শিক্ষক ১০০% নিশ্চিত ভর্তির আশ্বাস দিয়ে কোচিং বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভোলা সরকারী বালক বিদ্যালয়ের বাংলা, ইংরেজী, কৃষি ও চারুকলা বিষয়ের শিক্ষকসহ বেশ কিছু শিক্ষক এ বানিজ্যের সাথে জড়িত বলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানায়। এমনকি প্রতি ক্লাসের ক্লাস টিচারের কাছে প্রাইভেট পড়লেই তার বিষয়ে অধিক নম্বর পাওয়াসহ ফেল করা ছাত্রকে সংশিষ্ট বিষয়ে পাস করিয়ে দেয়া হয় বলে জানান তারা। কেউ কেউ পরীক্ষায় ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে ছাত্রদের প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করেন। প্রাইভেট টিউশনী চলাকালে এসব শিক্ষকদের বাসায় গেলে মনে হবে এ যেন এক একটি মিনি স্কুল। এরা গড়ে ৫শ/১হাজার টাকা হারে বেতন নিলেও সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন পড়ান। এভাবে মাসে শুধু টিউশনী বানিজ্যের মাধ্যমে একজন শিক্ষক আয় করেন হাজার হাজার টাকা।

এদের মাঝে দুটি স্কুলেরই কিছু কিছু শিক্ষক-শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে বাসায় গিয়ে ছাত্র-ছাত্রী পড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। তবে সরকারী বালক বিদ্যালয়ের চারুকলা ও সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা বিষয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে জিন্মি করে প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগ রয়েছে সবচেয়ে বেশি। জেলার গুরুত্বর্পূন দুটি সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের এ টিউশনী বানিজ্য বন্ধে মোবাইল কোর্টসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী অভিভাবক মহল।

এছাড়াও এসব শিক্ষকদের সাথে নিয়ে ভোলার আনাচে কানাচে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু কোচিং সেন্টার। এর মধ্যে রয়েছে আইডিয়াল এন্ড সোহেল কোচিং সেন্টার, স্ট্যাডিকেয়ার, জিনিয়াস এন্ড সোহেল নাইট কোচিং, প্রতিভা এন্ড রেদোয়ান কোচিং, পরানগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পরিচালিত কামরুল আহসান ছিদ্দিকি কোচিং সেন্টারসহ নাম বিহীন বেশ কিছু কোচিং সেন্টার।

এ ব্যাপারে ভোলা সরকারী বালক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ জাকিরুল হক বলেন, “শিক্ষকদের জিন্মি করে প্রাইভেট পড়ানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ অবিভাবকরা করেননি। তবে কারা কোচিং করান এটা আমার চেয়ে আপনারাই ভালো জানেন”।

এ ব্যাপারে ভোলা সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাহনাজ পারভীন লিলি বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের জিন্মি করে কোচিং করতে বাধ্য করা এটা খুব দুঃখ জনক। তবে এমন কোন অভিযোগ আমার কাছে আসেনি।

ভোলা জেলা প্রশাসক মোঃ মেসবাহুল ইসলাম জানান, সরকার কোচিং এর বিপক্ষে। সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

***
লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে: ভোলা নিউজ ২৪ ডটকম, ১২ জানুয়ারি ২০১২