ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

ভোলার মেঘনা-তেতুলিয়া নদীর মৎস অভয়ারন্য গুলোতে প্রতিদিনই প্রকাশ্যে চলছে জাটকা নিধনের মহোৎসব। জেলার প্রতিটি হাট-বাজারে ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে কেজি দরে জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। এক শ্রেনীর অসাধু দাদনদার ও মহাজনরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় নিরিহ জেলেদের দিয়ে নিষিদ্ধ এ জাটকা নিধনের কাজ করাচ্ছে বলে জানা গেছে। এসব জাটকা ইলিশ চাপিলা মাছের নাম করে হরদমে বিক্রি করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তেমন কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। সরেজমিনে ভোলা সদরের শিবপুর ইউনিয়নের মেঘনা ঘাট, ধনিয়ার কোড়ার হাট, তুলাতুলি, নাসির মাঝি, কাচিয়ার মাঝের চর, রামদেবপুর, বারাইপুর, ইলিশার ভাংতির খাল, বিশ্বরোড ও চডার মাথা ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে সেখানকার ঘাটগুলোতে প্রকাশ্যেই শত শত মন জাটকা বেচা-কেনা হচ্ছে।

ইলিশা বিশ্বরোড ঘাটের মাছ বিক্রেতা ইব্রাহীম মাঝি, কুট্টি মাঝি ও আবু সাইদ মিয়ার সাথে কথা হয়। তারা জানান, স্থানীয় তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে জাটকা বিক্রির একটি নির্ধারিত অংশ দিয়েই এ ব্যাবসা চালানো হচ্ছে। তাদের চোখ ফাকি দিয়ে জাটকা ধরা কখনই সম্ভব নয়। অপর জেলে নাসির মাঝি বলেন, ঘাডে চাপলি গুড়া আননের লগে লগেই পুলিশের কেশিয়ার ভাইরে আগে টেয়া দেওন লাগে। আমরা বেচনের আগেই হেইতেরা ছোত ছাত টেয়া লই যায়।

একই দিন সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী শান্তরহাট সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে গিয়েও দেখা যায় একই চিত্র। সেখানে চাপিলা মাছের নামে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ টনের বেশি জাটকা নিধন হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। এলাকাবাসী জানায়, তেতুলিয়া পাড়ে এখন প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকার বেশি জাটকা ইলিশ নিধন করে বিক্রি করা হচ্ছে।

স্থানীয় একাধিক সুত্র জানায় শান্তিরহাট থেকে বাজার খোলা, বেড়িবাধ, হয়ে বালিয়া তেঁতুলিয়ার ৮ /১০ কিলোমিটারের মধ্যে এভাবে জাটকা নিধনের মহোৎসব চলছে। জোয়ার ভাটার সন্ধিক্ষনে এক একটি এক দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ পাই জাল, মশারী জাল ফেলা হচ্ছে। যাদের বিরুদ্বে জাল ফেলে জাটকা নিধনের অভিযোগ রয়েছে তারা হচ্ছে- রতন সর্দার, ফারুক সরদার, সিডু মাঝি, আজিজুল রাঢ়ি, সেলিম খান, সাজু মাঝি, নিরব মিয়া, ফারুক মীর, সফি মালতিয়া, হারুন মালতিয়াসহ ১৫ জন। এরা অবশ্য জাটকা নিধন বিষয়টি অস্বীকার করেন। এদের ভাষায় এগুলো জাটনা নয় চাপিলা মাছ। মৎস্য বিভাগ অবশ্য এ প্রজাতিকে ইলিশের প্রজাতি জাটকা বলে নিশ্চিত করেছে। স্থানীয়রা জানানা প্রতিদিন প্রায় ২০ টন মাঝ নিধন করা হচ্ছে। এসব মাছ লঞ্চ যোগে ঢাকায়ও পাঠানো হয়। অথচ এসব মাছ আর ৩ /৪ মাস পরেই এক একটি এক কেজি ওজন হতো। বিক্রি করা হতো ৪শ থেকে ৬ শ’টাকা দরে। এ হিসেবে প্রতিদিন এখন ৩ /৪ কোটি টাকার ইলিশ নিধন করা হচ্ছে।

জেলেরা জানায়, বর্তমানে ভোলার নদীর পাড়ে ২ঝুড়ি জাটকা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১২’শ টাকায়। তারা আরো জানায়, নিষিদ্ধ পাই জাল , মশারী জাল দিয়ে চিহ্নিত ১৫ থেকে ১৬ জন ব্যাক্তি এ মাছ ধরার সেন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করছে। মাছ কেনা বিক্রি করেন ফখরুল, নাছির, নান্টু, সালেম, মফিজ দালালরা।

এছাড়াও ইলিশা, কাচিয়া ও ধনিয়া সংলগ্ন মেঘনার প্রায় ১৫ কিঃমিঃ এলাকায় জাটকা নিধনে ব্যাস্ত দূর্ধর্ষ জলদস্যু জামাল উদ্দিন চকেট, তার ভাই কামাল, সাজল মাঝিসহ প্রায় ২০ জনের একটি দল। এদের নিজস্ব ঘাট (তবিল) ও আড়ৎ রয়েছে। সেখান থেকে জাটকা মজুদ করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য ট্রলার যোগে চালান করা হয়। এভাবে প্রতিনিয়ত জাটকা নিধন হলেও জাটকা ইলিশ রক্ষায় সংশ্লিস্ট কোন দপ্তরকে ওইসব এলাকায় অদ্যবদি কেউ দেখেননি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রীতিষ কুমার মল্লিক জানান, বিষয়টি তারাও শুনেছেন। তাদের অভিযান অব্যাহত আছে।