ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

হাসপাতালের বিছানায় সাথী

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ বুঝতে পারি আমার হাতে কেউ কোব দিছে। আমি চিৎকার করতে থাকি। চিৎকার শুনে ঘরের সবাই ছুটে আসে। আমার বোন লাইট জ্বালাইলে দেখতে পাই মোশারি ও বালিশ রক্তে লাল হইয়া গেছে। আমার হাতের একটি আঙ্গুল নেই…. ১০ফেব্রুয়ারী শুক্রবার সন্ধ্যায় ভোলা সদর হাসপাতালের মহিলা বিভাগের ২০৯ নং কেবিনের বিছানায় এসব কথা বলতে গিয়ে এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে সাথী। অমানবিক ওই ঘটনাটি ঘটেছে ৯ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার আনুমানিক রাত ৩টায় ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের দরুন বাজার গ্রামের হাওলাদার বাড়িতে। রাতের আধারে ঘুমন্ত বোরহানউদ্দিন মহিলা কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রী সাথী ইসরাত (১৬) নামের ওই কিশোরীর বাম হাতের একটি আঙ্গুল কেটে নিয়ে গেছে স্থানীয় একদল দুস্কৃতকারীরা। সাথী মৃত মোবারক হোসেনের কন্যা। দুস্কৃতকারীরা শুধু আঙ্গুল কেটেই খ্যান্ত হয়নি, ঘরে থাকা নগদ ১লক্ষ টাকাও নিয়ে গেছে ওই রাতে। সাথী ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছে।

সাথীর মা লুতফা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি তার দুই মেয়ে সাথী ও শান্তাকে নিয়ে প্রতিদিনের মতোন ঘুমান। এর পর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে মেয়ের চিৎকার শুনে ঘুমথেকে উঠার পর দেখতে পায় বিছানায় রক্ত এবং তার মেয়ে সাথী যন্ত্রনায় ছটফট করছে। তিনি দেখতে পান তাদের বিছানার পাশে বটিদা পড়ে আছে। দুস্কৃতকারীরা তার মেয়ের বাম হাতের কেনু আঙ্গুল কেটে নিয়ে গেছে। এসময় তিনি আরো দেখতে পান ঘরে ব্যাগে চট,কাথা ও জামা দিয়ে পেঁচানো প্রায় ১লক্ষ টাকাও নিয়ে গেছে দুস্কৃতকারীরা। মা মেয়েদের চিৎকার শুনে আস-পাশের লোকজন ছুটে আসে। অনেক খুজেও দুস্কৃতকারীর সন্ধান পাওয়া জায়নি। প্রাথমিক ভাবে কে বা কারা এ কাজ করেছে তা তিনি বলতে না পাড়লেও ধারণা করছেন স্থানীয় এক মেম্বারের আশির্বাদপুষ্ট বখাটে রাসেল ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা এ কাজ করতে পারে।

সাথীর চাচা কাশেম হাওলাদার জানান, চিৎকার শুনে ওদের ঘরে ছুটে গিয়ে দেখেন পেছনের একটি দরজা খোলা। সাথীর বিছানার পাশে রক্ত মাখা একটি বটিদা পড়ে আছে। ওই বটিদা সাথীদের রান্না ঘর থেকেই এনেছে দুস্কৃতকারীরা। কেটে নেয়া আঙ্গুলটি অনেক খুজেও পাননি তারা। এরপর রাতেই সাথীকে বোরহানউদ্দিন সাস্থ্য ক্লিনিকে নেয়া হলে ডাক্তার তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। এঘটনায় বোরহানউদ্দিন থানায় একটি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনায়েত হোসেন জানান, এব্যাপারে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।