ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

বিডিনিউজ২৪.কম এ এটা আমার প্রথম লেখা । জানি না পাঠকদের কেমন লাগবে। তারপরও সবাইকে আমন্ত্রন জানাচ্ছি আমার প্রথম লেখাটি পড়ার জন্যে। প্রসঙ্গটি হচ্ছে আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কারিগর বলে দাবীদার সরকারকে নিয়ে। আমাদের দেশের সাম্প্রতিক সরকার যারা অহরহই বলেন যে উনারা নাকি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়বেন কিন্তু আসলেই কি সরকার আমাদেরকে ডিজিটালাইজড করতে পেড়েছে? তা কতটুকুই বা পেড়েছে আসুন দেখি… নাকি অযথাই মুখের বুলি ছড়াচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়বো বলে? আমি এখানে ছোট্ট একটি উদাহরন দিতে চাই যা আমার লেখার মূল বিষয় এবং আশা করি এই বিষয়টাই পরিষ্কার করবে সরকার আসলে কতটুকু সফলতার ছাপ রেখেছে এ্ই সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে। ছোট্ট এই উদাহরনটি হচ্ছে আমাদের রাষ্টীয় চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশন ।অনেকের মাঝে হয়তো ইতিমধ্যেই প্রশ্নের সঞ্চার হয়েছে আসলে ব্যাপারটি কি? যাই হোক সেটাই আমি পরিস্কার করছি সবার কাছে।সেটি হলো আমাদের বাংলাদেশ সরকার এখনো আমাদের রাষ্টীয় টেলিভিশন চ্যানেলকে এখনো ডিজিটাল করতে পারেনি। সাম্প্রতিক সময়ে তথ্য প্রযুক্তি এতটাই এগিয়ে গেছে যে আমাদের সরকারের খুব সম্ভবত খেয়ালই নেই বা খেয়াল করার মতো সময় সরকারের হাতে নেই কিন্তু সরকারের মুখে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার বুলি বন্ধ হয়নি।

এখানে আমি একটু বলে নিতে চাই যে, আমি একজন প্রবাসী বাংলাদেশী। তো প্রবাসে থাকার সুবাদে এখানকার তথ্য প্রযুক্তির সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ ঘটছে প্রতিনিয়তই।আর সেই পরিচিত হওয়ার সুযোগ থেকেই আমার এই লেখা। আমাদের রাষ্টীয় টেলিভিশন এখনো সেই মান্ধাতার আমলের এনালগ টেরিস্ট্রিয়াল তরঙ্গ দিয়েই চলছে। অথচ এই এনালগ তরঙ্গকে ডিজিটাল করার কোন খেয়াল সরকারের মধ্যে আদৌ দেখা যাচ্ছেনা। অনেকের মনে হয়তো প্রশ্ন জাগতে পারে যে, ডিজিটাল টেরিস্ট্রিয়াল এর কি সুবিধা? ডিজিটাল টেরিস্ট্রিয়াল এমন একটি প্রযুক্তি যার মাধ্যমে খুব সহজেই উন্নত ছবি (এইচডি) এবং শব্দ সম্প্রচার করা সম্ভব এমন কি পে চ্যানেলও সম্প্রচার করা সম্ভব । এখন সাম্প্রতিক বিশ্বের অনেক দেশেই এই প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে টেলিভিশন একটি বিরাট গুরুত্ব বহন করে যা এই সরকারের চোখে পড়ছে কিনা জানি না। আর পড়বেই বা কিভাবে এই রাষ্টীয় টেলিভিশন চ্যানেলটি এখন আর কয়জনইবা দেথে! অথচ এই চ্যানেলটি জনপ্রিয় করে তোলার জন্য সরকারের কোন আন্তরিকতাই নেই। অনুষ্ঠান এবং সংবাদের মান উন্নয়ন কোনটার দিকেই কোন খেয়াল নেই। আছে শুধৃ কিভাবে দলীয় লোকদের নিয়োগ দেয়া যায় যারা শুধূ সরকারের গুনগান প্রচারে ব্যস্ত্ থাকবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে। অবশ্য দলীয়করনের এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যটা শুধু এই সরকারের ক্ষেত্রে বললে ভূল বলা হবে, বিগত সরকারগুলোও একই বৈশিষ্ট্য ধারন করে আসছে।

তাই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে অঙ্গীকারাবদ্ধ সরকারের উচিত অনতিবিলম্বে এই এনালগ টেরিস্ট্রেরিয়াল তরঙ্গকে ডিজিটাল টেরিস্ট্রেরিয়াল তরঙ্গে রুপান্তরিত করা এবং অনান্য প্রাইভেট বাংলা কেবল চ্যানেলগুলোকে এই ডিজিটাল টেরিস্ট্রেরিয়াল তরঙ্গের মাধ্যমে অনুষ্ঠান প্রচারের জন্য লাইসেন্স প্রদান করা। এতে সারা দেশের সাধারন মানুষ যেমন উপকৃত হবে অন্য দিকে লাইসেন্স প্রদানের সুবাদে সরকারের কোষাগারেও বেশ মোটা অঙ্কের একটা রেভিনিউ ঢুকবে। সবশেষে আমার একটাই কামনা এই ডিজিটাল সরকারের প্রতি যে, এই বিষয়টা সরকার গুরুত্ব সহকারে দেখবে এবং তাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে সচেষ্ট হবে। আশা করি পাঠকবৃন্দও আমার সাথে একমত হবেন।