ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

শিরোনাম পড়ে খানিকটা অবাক হলেন। অবাক হবার কিছু নাই। আসলেই তাই। কৃষক- গার্মেন্টস শ্রমিক আর প্রবাসীদের হাত ধরেই এদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের ইকোনমিস্ট সাময়িকীর ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, দ্য পাথ থ্রু দ্য ফিল্ডস’ একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। তাদের মূল্যায়ণ হলো, আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে গত ২০ বছরে বাংলাদেশ বেশ কিছু ‘বড় অর্জন’ করেছে। এ যে বড়ো অর্জনের কথা হচ্ছে সেই অর্জনটা হলো কি করে? এটা নির্মাতার মধ্যে প্রথমেই আসছে কৃষক, গার্মেন্টস শ্রমিক আর প্রবাসীদের নাম।

এদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি। এ বিরাট সংখ্যক মানুষের দেশ যে কোন কুদরতে টিকে আছে? আহার তুলে দিচ্ছে তারাই। কিন্তু তাদের মূল্যায়ণ হয় না কখনোই। চাষা বলে গাল দেয়া হয় কৃষককে। আর ছেলেরা পায় ‘চাষার পোলা/ছাওয়াল/পুত’ এর তকমা। নগর মানুষ তাদের গাল দেয় গেয়ো ভূত বলে।

অথচ দেশের অর্থনীতির চাকা যারা ঘুরাচ্ছে তাদের মধ্যে কৃষক শ্রেনী আসবে প্রথমেই। কৃখকদের নাম দেয়া হোক বা না হোক তাতে তাদের কোনো যায় আসে না! অমলিন হাসি তাদের ঠোঁটে লেগে থাকে সারাক্ষণ!

জিডিপির ২১ ভাগ আসে কৃষি থেকে। কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের মধ্যে শিক্ষিত মানুষ খোঁজে পাওয়া কঠিন বৈকি! একটু শিক্ষিত হলেই শেকড়ের কথা ভুলে যান, ফিরে যেতে মন চায় না গ্রামে!

পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকের ৭৫ ভাগই নারী। এ শিল্পে কাজ করছেন প্রায় ৭৫ লক্ষ শ্রমিক। আবার রপ্তানী আয়ের ৭৫ ভাগই আসে পোশাক শিল্প থেকে। তার মানে এ দেশের অর্থনৈতিক বিনির্মানে গার্মেন্ট শিল্পের শ্রমিকদের অবদান কত তা নিজেই অনুমান করুন।

এবার খোঁজ করুন কর্মরত শ্রমিকরা কে কতটুকু শিক্ষিত? গ্রাম থেকে আসা অশিক্ষিত- সাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন নারী, বাকী পুরুষ। তারাও ‍কিন্তু অশিক্ষিত কিংবা অল্প শিক্ষিত।

মধ্যপাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসকরী বাংলাদেশীর সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ। কিছু শিক্ষিত জনগোষ্ঠী বাদে বিরাট অংশই অশিক্ষিত। আবার কিছু অর্ধ-শিক্ষিতও আছে। এতগুলো মানুষ বাহিরে থাকার কারণে বাসস্থান ও খাদ্যের উপর চাপ কমেছে।

রেমিট্যান্স ২০১১


প্রবাসী আয়ের ওপর ভর করে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১২ শ’ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। (ঢাকা, অক্টোবর ১৮, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

বাংলাদেশের মানুষ বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করছে, দেশটিতে খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদের তেমন মজুদও নেই।

মোদ্দা কথা: এ সময় অবধি দেশের উন্নয়নে অশিক্ষিত মানুষের অবদানই বেশি বলে মনে হচ্ছে। শিক্ষিত মানুষ গুলো পেট- পকেট করা নিয়ে ব্যস্ত! (অশিক্ষিত চোরও ‍কিন্তু কম নয়!)

যে দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরুতে সংশয় ছিল, সেই দেশটিই নানা ক্ষেত্রে বড় অর্জন করেছে। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু এখন ভারতের চেয়ে বেশি, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি উল্লেখ করার মতো। নারীর ক্ষমতায়ন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আয় কমতে না দিয়ে ধরে রাখা, ধান উৎপাদন একাত্তর সালের তুলনায় তিন গুণ বৃদ্ধি, অপুষ্টির হার আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমা—এসবই দেশটির সফলতার কারণ। (প্রথম আলো)

বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ‘চমৎকার অগ্রগতির’ স্বীকৃতি যখন প্রভাবশালী কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে পাওয়া যায়, তখন তা উদ্যাপন করার মতোই একটি বিষয়। বাংলাদেশ সত্যিই এগিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, এই যে অগ্রগতি, তা দেশটির ‘অকার্যকর’ রাজনীতির বাধাকে উপেক্ষা করেই অর্জিত হয়েছে। আমাদের আফসোস, যদি কার্যকর রাজনীতির আলো-বাতাস দেশটির ভাগ্যে জুটত, তবে এই এগিয়ে চলা আরও কত বেগবান হতো!

ইকোনমিস্ট-এর এই উৎসাহব্যঞ্জক প্রতিবেদন দেশবাসীকে উজ্জীবিত করুক, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। দেশটির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিদ্যমান অকার্যকর রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কার্যকর করা। দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের শুভবুদ্ধি ও শুভবোধের উদয়ই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে পারে। বাংলাদেশের মানুষ এখন এরই প্রতীক্ষা করছে। (প্রথম আলো)

সীমার মধ্যে: লেখালেখির অভ্যেস নেই বললেই চলে। পরীক্ষার খাতায় মুখস্ত বিদ্যে চলে কিন্তু এখানে চলে না! তাই কাট- পেস্ট কিছুটা ব্যবহার করা হয়েছে বেশ। নিজগুণে ক্ষমা করবেন। বিষয়টি নিয়ে ভালো একটি লেখা তৈরি করা যেতো, পারিনি নিজ জ্ঞান স্বল্পতা আর সময় বাঁধায়। আগামী লিখবে। প্রথম লেখা সে দিকটিও বিবেচনা করবেন বলে আশা করি।

আপনাদের (কো-রাইটার ) মন্তব্য- মিথস্ক্রিয়ায় প্রানবন্ত হয়ে ওঠতে পারে লেখাটি…।