ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

প্রতিদিনই একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে প্রকাশিত লেখা পড়ছি। ফিরে যাই- না দেখা সময়ে। যাঁদের নিয়ে এই ধারাবাহিকতা, তাঁরা সত্যিই ভাগ্যবান। আর যাঁরা খেতাবপ্রাপ্ত নন, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা, তাদের নিয়ে কবে লেখা হবে? তাঁরা কি পত্রিকার পাতায় ঠাঁই পাবে? এমনিতেই আমরা জানি- এদেশে এখনো অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেন, যাঁরা আইসক্রিম বিক্রি করে, অন্যের বাড়ীতে শ্রম বিকোয়, চিকিৎসার অভাবে অন্যের সাহায্য পাবার আশায় প্রহর গোনে, তাঁদের খবর আমরা কমবেশী জানি। কিন্তু পাশে দাঁড়াবার মানুষের বড় অভাব। মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা- বরাবরই রাজনৈতিক ইস্যু। ক্ষমতায় যাবার জন্য মোক্ষম একটা স্পর্শকাতর বিষয়। মাঝে মাঝে খবরের কাগজে তাঁদের খবর প্রকাশ পায়। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সংবাদ প্রথম পাতায় স্থান পায় না। এটা বড়ই কষ্টদায়ক। যাই হোক- রাজনৈতিক ইস্যু থেকে এখন এটি ব্যবসায়িক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে (আমার ব্যক্তিগত মতামত)। কারণ হিসেবে বলতে পারি- কদিন আগে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ধারাবাহিকে মন্তব্যের ঘরে কয়েকটা লাইন লিখেছিলাম, আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলাম। বিধিবাম-মডারেটর সাহেব নির্বিঘ্নে কর্তন করেছেন।

সমস্যার কথা বলবেন, পরিবর্তনের কথা বলবেন, বদলে দেবার কথা বলবেন, তাঁদের নিয়ে লিখবেন, কিন্তু আপনারা বদলাবেন না-এটা কি মেনে নেওয়া যায়? বাহবা অথবা ব্যবসায়িক স্বার্থেই খেতাব প্রাপ্তদের নিয়ে এই ধারাবাহিক প্রকাশ করা হচ্ছে- এটা বললে কি ভুল হবে? জীবিত মুক্তিযোদ্ধারা সম্মান চায়। সেই সম্মানটাই আমরা দিতে পারি না। ১৯ এর পাতা থেকে ধারাবাহিকটি প্রকাশ করা হচ্ছে শেষের পাতায়। প্রথম পাতায় কি প্রকাশ করা যেত না? আমরা চাই পরিবর্তন, চাই দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের পুণর্বাসন, চাই যুদ্ধাপরাধীর বিচার, চাই আইনের শাসন, চাই সুন্দর একটা বাংলাদেশ দেখতে। যতই বলি, লিখি-কিছুই হবে না। আগে নিজেকে শুধরে নিতে হবে। নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথে চলতে উৎসাহিত করতে হবে। মেধাবীদের মূল্যায়ন করতে হবে। ভুল পথের পথিককে সঠিক পথে আনতে, দেশ ও দশের জন্য একসাথে কাজ করতে হবে। তবেই না আমরা সুন্দর একটি বাংলাদেশ গড়তে পারবো। আমরা কি পারবো…? উত্তরটা জানা নেই…