ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ী হরিনাচালায় অবস্থিত ফারসি গ্রুপের সোয়েটার অ্যাপারেলস (পোল্ট্রি) জুন, ১১ ইং মাসের বেতন চলতি মাসের ১৭ তারিখেও অফিস স্টাফদের দেওয়া হয়নি। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বহীনতা নাকি ব্যবসায়িক পুলিশি হিসেবে অফিস স্টাফদের বেতন দেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে, তার সঠিক উত্তর কারো জানা নেই। কয়েকজন স্টাফের সাথে কথা বলে জানা গেল- এই সমস্যা নাকি নিয়মিতই হয়ে থাকে। তবে কর্মরত প্রতিটি স্টাফ ভেবে নিয়েছিলেন যে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটবে। দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে, ১৭ জুলাই বেতন দেবার ঘোষণা দিলেও কোন অফিস স্টাফকে বেতন দেওয়া হয়নি। গার্মেন্টস শিল্পে এমন অসংখ্য অমানবিক ঘটনা স্টাফ শ্রমিকদের আন্দোলন করতে বাধ্য করে। পরবর্তীতে সহিংসতায় রুপ নেয়। এমন সমস্যা সমাধানে বিজিএমইএ -এর কি কিছুই করা নেই?

পোশাক শিল্পকে কেন্দ্র করে অনেক ঘটনার জন্ম নিয়েছে। পত্রিকার পাতাতেও প্রকাশ পেয়েছে। বিস্তর আন্দোলন হয়েছে। দাবী আদায়ের সম্মিলিত আন্দোলনকে ঘিরে রাজনীতির খেলাও নজর কাড়ে। নীট গার্মেন্টসে কর্মরত শ্রমিকরা নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা ভোগ করলেও সোয়েটার-এ কর্মরত শ্রমিকরা বরাবরের মতো এখনো বঞ্চিতই রয়ে গেছে। সিংহভাগ সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকদের অভার টাইম দেওয়া হয়না। নামমাত্র মূল্যে টিফিন দিয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত খেটে নেওয়া হয়। ১২টা পর্যন্ত কাজ করলে শ্রমিকরা বাড়তি নাইট বিল পেয়ে থাকে। সেটার পরিমানও একদম নগন্য। নাইট বিলের টাকাটাও সঠিক সময়ে প্রদান করা হয় না।

একাধিক স্টাফ, শ্রমিকদের সাথে কথা বললে তারা জানান-পোশাক শিল্পকে ধ্বংস করতে শ্রমিক স্টাফরা আন্দোলন করে না, আন্দোলন করে অধিকার আদায়ের জন্য। সারা মাস পরিশ্রম করে যদি মালিক পাওনা টাকা সঠিক সময়ে না দেন, তাহলে পরিবার নিয়ে চলবো ক্যামনে? বাড়ীর মালিক, দোকানদাররা তো মানতে চায়না। অপমান সহ্য করতে হয়।

অনেক আগেই দাস প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে। কিন্তু পোশাক শিল্পে দাস প্রথা আজো বিদ্যমান। পোশাক শিল্পকে বাঁচাতে, সহিংসতা এড়াতে বিজিএমইএসহ প্রত্যেক মালিককে স্টাফ শ্রমিকদের পাওনা সঠিক সময়ে পরিশোধ করতে এগিয়ে আসতে হবে, নইলে ছোট ছোট ক্ষোভ বিক্ষোভে রুপ নিবে। পোশাক শিল্পকে বাঁচাতে অবশ্যই বিজিএমইকে সঠিক পথে চলতে হবে। সকল স্টাফ ও শ্রমিকরা আশা করেন, বিজিএমইএ সমস্যা সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করবে।