ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

বিশ্বকাপ ফুটবল। শাকিরার সাড়া জাগানো গান ওয়াকা ওয়াকা। যোগ্যদল হিসেবে স্পেনের প্রথম বিশ্বকাপ জয়। অক্টোপাস পলকে নিয়ে পুরো বিশ্বে তুমুল আলোচনা। বিশ্বকাপ ক্রিকেট। মার ঘুরিয়ে। পুরো জাতির প্রত্যাশা। বিশ্বকাপ ফুটবল, বিশ্বকাপ ক্রিকেট-দুটোই শেষ। ক্রীড়াপ্রেমীদের উত্তেজনাও শেষ। হরর ছবির মতো বলা যায় শেষ হয়েও হলো না শেষ। ফুটবল বা ক্রিকেট মাঠের উত্তেজনা আপাতত শেষ হলেও শেষ হয়নি রাজনীতি মাঠের খেলা। টি টোয়েন্টিসহ তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটের টেস্টটা অমিমাংসিত ভাবেই শেষ হলো। টানটান উত্তেজনা কথাবার্তায় দেখা দিলেও মাঠে তার প্রভাব পড়েছি। এটা আমাদের মতো নির্বোধ জনগণের জন্য অবশ্যই মঙ্গলজনক। এখন চলছে ওয়ানডে ফরম্যাটে দল গঠন। ঠিক বিশ্ব একাদশ বনাম এশিয়া একাদশের আদলে। ফলাফল কি হবে, কি হতে পারে-সেটা নিয়ে আমরা নির্বোধ জনগণেরা বড়ই চিন্তিত। ফুটবল, ক্রিকেটে রেফারী অ্যাম্পিয়ার থাকলেও এখানে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে কেউ নেই। নেই ফিফা, আইসিসির মতো অভিভাবক। চলবে শক্তির মহড়া। চলবে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী। এখন আসা যাক টি টোয়েন্টি ম্যাচে। কারণ বিশ্ব একাদশ বনাম এশিয়া একাদশের আদলে রাজনৈতিক ক্রিকেট ম্যাচটা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা থাকলেও যত ভয় টি টোয়েন্টি ম্যাটটাকে ঘিরে। বিভৎস ২৮ অক্টোবরের টি টোয়েন্টি ম্যাচটার কথা মনে পড়লেই গায়ের লোমগুলো খাড়া হয়ে ওঠে। বিভৎস দৃশ্যগুলো আমরা আর দেখতে চাই না। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর জন্য আইনের আশ্রয় নিতেও মনে ভয় জাগে। হয়ত দেখা যাবে গণপিটুনির সাজানো নাটকের খলচরিত্রে নিরীহ ব্যক্তিটি। লাশ পড়ে আছে, ঘিরে আছে উৎসুক মানুষ। নয়ত রিমান্ডের নামে চলবে চাপাতি চালানোর প্রশিক্ষণ। কিংবা সন্ত্রাসী বানাতে আদাজল খেয়ে নেমে পড়বে প্রশাসন। পত্রিকার পাতায় বড় বড় অক্ষরে প্রকাশ করা হবে। শাস্তি হিসেবে সাময়িক বরখাস্ত। তারপর শুরু হবে কচ্ছপ দৌড়। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিষয়টি রহস্যাবৃত্ত থাকায়- আরো উৎসাহিত হয়, বেপরোয়া হয়ে উঠে। উঠবেই। এভাবেই চলবে। চলতে থাকবেই।

জনগণের নিরাপত্তার বিষয়টি মূখ্য নয়, জনগণ প্রদত্ত নির্বাচিত ব্যক্তিটির নিরাপত্তার বিষয়টিই মূখ্য। এমনকি অভিযোগের ক্ষেত্রেও তাই। নির্বাচনের আগে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বলা হয়- সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিন। আমরা নির্বোধ জনগণেরা কি তা করি? আমরা জানি প্রার্থীটি চোর, সন্ত্রাসী, চাপাবাজ। তারপরও তাকেই নির্বাচিত করি। জানি সে লুটেপুটে খাবে। তারপরও ভোট দিই। সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে আমরা বরাবরই ব্যর্থ। পৈতৃক সুবাদে পাওয়া প্রতীকে সিল দিতে ব্যাকুল হয়ে উঠি। নির্বাচনের আগে বা পড়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হই। এদেশের জনগণ প্রধান কয়েকটি দলের সমর্থক হলেও অনেক সচেতন জনগণ নির্দিষ্ট করে কোন দলের সমর্থক নয়। তাঁদের নিয়েই যত বিপত্তি। অনেকটা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক অবস্থার মতো। ডানে বায়ে কোনদিকই যেতে পারে না। আলোচনা সমালোচনায় তারা সহজে জড়ান না। জড়ালেও যুক্তির মাধ্যমে বুঝাতে চেষ্টা করেন। রাজনৈতিক আলোচনাগুলো পাশ কাটিয়ে চলতে অভ্যস্থ। আবার এই নিরব জনগণও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যারা দল সমর্থক, তারা না হয় পক্ষে বিপক্ষে বলে, রাজপথে নেমে, কোন না কোন উপায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু যারা কোন দলের সমর্থক নয়- তারা কিভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করবে?
হজ্বব্রত পালনে হাজীরা সম্মিলিত হয়ে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করে-এটা সবার জানা। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা উচিত। যাতে করে শান্তি প্রিয় জনগণ ঢিল ছুড়ে ক্ষোভ প্রকাশসহ মনকে শান্তনা দিতে পারে। ঢিল গুনে গুণে কতজন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, তার তালিকা তৈরী করে প্রকাশ করার ব্যবস্থা রাখা উচিত। সমস্যার কি শেষ আছে? শেষ নেই। আগেই বলেছি- হরর ছবির মতো বলা যায় শেষ হয়েও হলো না শেষ। দেখা যাবে ঢিলের সংখ্যা অপ্রত্যাশিত ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বিষয়টি নিয়ে একটি দল আরেকটি দলকে দায়ী করবে। ক্ষোভ প্রকাশ নিয়েও শুরু হবে আরেক নতুন খেলা। আর এটাই স্বাভাবিক। প্রিয় পাঠক এখন আপনারাই বলুন… জনগণ যাবে কোথায়? [সংক্ষিপ্ত]