ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীর-এই দুটি নক্ষত্রের অকাল প্রয়াণে পুরো দেশ আজ কাঁদছে। তোমরা বেঁচে রবে তোমাদের কর্মগুণে, কোটি মানুষ তোমাদের স্বরণ করবে শ্রদ্ধাভরে, অশ্রুসিক্ত নয়নে।

আমরা এবছর হারালাম অনেক মেধাবী মুখ। যে ক্ষতি হলো তা চিরদিনই অপূরণীয় হয়ে থাকবে। সবচেয়ে বড় কথা তাঁরা-এদেশের সম্পদ, আমাদের গর্ব, তরুণ প্রজন্মের আলোর দিশারী, পথ প্রদর্শক। আমি বিতর্কিতদের (মুখোশধারী) কথা বলছি না, বলছি সেই সব মহান ব্যক্তিদের কথা- যাঁরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আঁকড়ে ধরে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন। আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে তাঁদের স্মরণ করি। যারা পরিবর্তন চান, ত্রিশ লক্ষ শহীদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে যাঁরা নতুন নতুন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন- তাঁরা তো এ যুগের মুক্তিযোদ্ধা, বীরযোদ্ধা, সময়ের শ্রেষ্ঠ সন্তান। আমাদের অহংকার, আমাদের এগিয়ে চলার শক্তি। হারালাম। বড় অসময়ে হারালাম। ফিরে আসবে না জানি। মনের মাঝে আজ অজস্র ক্ষোভ দানা বেধে উঠছে। কাঁদতে ইচ্ছে করছে, চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে- আর কতদিন এদেশের মানুষের দাবী পদদলিত হতে থাকবে? আর কতদিন আইনের শাসন থেকে অপরাধীরা মুক্ত থাকবে? আর কতদিন আমরা নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করবো? আর কতদিন আমরা রক্ত বিলিয়ে দিতে থাকবো? নাকি আরো রক্তের প্রয়োজন? অশ্রু ঝরতে ঝরতে আর যে অশ্রু জমে উঠে না। শুকিয়ে গেছে। লাল হয়ে উঠে চোখ জোড়া। উজ্জ্বল নক্ষত্রের অকাল প্রয়াণে ভার্চুয়াল জগতে বিস্তর লেখালেখি হচ্ছে। এমনকি সরকার, যোগাযোগ মন্ত্রীকেও দায়ী করা হচ্ছে এবং প্রকৃত অর্থে ব্যর্থতা তাঁদেরই। ক্ষমতার লোভ বড়ই নিষ্ঠুর, নির্মম। হিসেব করে দেখুন তো, ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে কত প্রাণ ঝরে যায়? কত রক্ত পিচঢালা ব্যস্ত সড়ককে লাল করে তোলে? “নিরাপদ সড়ক চাই” স্লোগানটির জন্ম মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনার পর। দেখতে দেখতে অনেকটা বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু সমাধান? না। কিছুই হয়নি। এই সমাধান আমাদের মতো অভাগা জনগনের জন্য নয়। আমরা যতই আমাদের চাওয়াকে দাবী হিসেবে উত্থাপন করিনা কেন পদদলিত হবেই। আমরা যতই বিচার চাইনা কেন, বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদবেই। চালকের অদক্ষতা কিংবা প্রশাসনের ব্যর্থতায় যতই মৃত্যু হোক না কেন, তাদের কখনই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে না। আপোস রফা করে একটি জীবনের নূন্যতম মূল্য দেওয়া হবে। এমনই হয়, এমনই হবে, এমনই হতে থাকবে। কারণ- আমাদের চাওয়া বা দাবীতে তারা ক্ষমতার লোলুপ গন্ধ খুঁজে পান না। তাঁরা সমাধানের জন্য এগিয়ে এলেও অনেক হিসেব নিকেষ করেন; কতগুলো ভোট পাবার সম্ভাবনা রয়েছে। কমিশন, নিজের অবস্থান, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, জটিল হিসেব, ধোঁকাবাজি, সম্পদের পাহাড় গড়া নিয়ে মহা ব্যস্ত। উন্নয়নের, জনগনের নিরাপত্তা বিষয়ক মুলো ঝুলিয়ে, এদেশের মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সামনে এনে ক্ষমতার মসনদে বসতে এরা ব্যাকুল। ঠিক যেন তীব্র ক্ষুধাতুর দানবের মতো। উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতনে এরা বিচলিত নয়। এই নক্ষত্রের মূল্য যে কত-সেটা অনুধাবন করার ক্ষমতাও তাঁদের নেই। তাঁরা তাদের নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। আবেগী কথার ছলে জনগনের সাথে প্রতারণা করবে। আর আমরা কাঁদবো, আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবো, লিখবো, জানাবো, প্রকাশ করবো- অকালে ঝরে যাওয়া উজ্জ্বল নক্ষত্রদের কথা। আজ সমাধান নেই। আদৌ সমাধান হবে কিনা সন্দেহ আছে। তারপরও আমরা হতাশ নই। আমরা ঘুরে দাঁড়াবো, ঘুরে দাঁড়াতে শিখবো, প্রতিবাদী হয়ে উঠব। আঘাত হানবো এই ঘুনে ধরা সমাজ ব্যবস্থাকে, ভেদ করবো মরচে ধরা নিয়মের বিশাল দেয়ালকে। শোক আর এক এক করে জমে থাকা ক্ষোভের মিশ্রণে জ্বলে উঠবো। প্রলয়ংকর সাইক্লোনের মতো ধেয়ে আসবো দলবদ্ধ হয়ে, যেমনটি এসেছিল ৫২, ৬৯, ৭১, ৯০-এ। না। সম্ভব নয়। এখন এ লেখাগুলো কাল্পনিক। অবাস্তব। উস্কানিমূলক। তবে এটা সত্য- ব্যর্থতা, অপরাধ, দূর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, নক্ষত্রের পতন, নিরাপত্তাহীনতা, কান্না মোট কথায় সব অনিয়মের বিরুদ্ধে ওরা রুখে দাঁড়াবেই। আজ ওরা দলবদ্ধ নয়। ওদের চিন্তাধারায় ভিন্ন ভিন্ন আদর্শ, প্রতিশোধ। ওদের ঘুম একদিন ভাঙবেই, জেগে উঠবেই। ভেদাভেদ ভুলে সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে। সেদিন আর নিজেদের রক্ষার কোন পথ থাকবে না। যুদ্ধ, ধ্বংস, রক্ত, কান্না- আর দেখতে চাই না। চাই- এদেশের উন্নয়ন, শান্তি, নিরাপত্তা।

আজ আমরা কাঁদছি। শোকের সাগরে ঢুবে আছে পুরো বাংলাদেশ। শোককে শক্তিতে পরিণত করে আমরা পথ চলতে চাই, এগিয়ে যেতে চাই।

এই কান্নার শব্দ কি আপনারা শুনতে পাচ্ছেন? এদেশের মানুষের দাবীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শিখুন। কারণ-এদেশের মানুষের সমর্থনে ক্ষমতার পালা বদল হয়।