ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

প্রায় প্রতিদিনই অতিক্রম করি, পায়ে হেঁটে নয়ত রিক্সায় চেপে, ৫২ –এর এক শহীদ জননীর সমাধী। আরো কিছু পথ অতিক্রম করলেই পেয়ে যাই ৭১-এর শহীদ বীরদের নামের তালিকা। মাঝে যদি ৬৯-এর কিছু স্মৃতি চিহ্ন থাকতো, তাহলে বেশ হতো। পূর্ণতা পেত। না। এটা হয়ত এখন মূখ্য বিষয় নয়। বলা যায়- আবেগী। যার কোন মূল্যই নেই। না থাক। পুরোনোগুলো পুরোনো হিসেবেই থেকে যাক। ইতিহাসের অংশ ইতিহাসের মলাট বাধা কাগজেই আটকে থাক। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি- এটাই বা কম কিসের? তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও জরুরী অবস্থার মধ্যে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো যখন কোন ঠাসা, তখন কিছু একটা উপলব্ধি করতে পেরেছিল- এদেশের মানুষ। সেনাবাহিনীর ক্যাম্প গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল কোন এক প্রতিবাদের তোপে পড়ে। না, সেদিন কোন ভেদাভেদ ছিল না। ছিল না দলগত আদর্শের খড়গ। সবাই ছিল এক কাতারে। এক পতাকা তলে। এক দাবীতে। কেঁপে উঠেছিল সেদিনের শাসকেরা। বিজয় ধরা দিয়েছিল। জানিয়ে দিয়েছিল- আজো শেষ হয়নি ছাত্র সমাজের সম্মিলিত প্রতিবাদী ঝড়। দপ করে জ্বলে উঠেই আজ অবধি নিভে আছে। হয়ত থাকবে বহুকাল। নয়ত ওরা জেগে উঠবে অতীতের মতো আরো একটি গৌরবময় ইতিহাসের জন্ম দিতে। স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টিসহ দূর্ণীতিগ্রস্থ মন্ত্রীদের পদত্যাগের দাবীতে আজ প্রতিবাদে মুখর এদেশের কিছু মানুষ। তাঁরা কি তাঁদের স্বার্থে এই প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করছেন? তাঁরা কি তাঁদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য শহীদ মিনারে অবস্থান করছেন? এক এক করে সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পাবে। বরাবরের মতো দাবীগুলো শাসকদের দ্বারা পদদলিত হবে- এটাই স্বাভাবিক।

দাবী পূরণ হবে কি হবে না-সেটা সময়ের উপর ছেড়ে দিলাম। সরকারের টনক নড়বে না। মনে হয় সড়ক দূর্ঘটনায় তাঁদের স্বজন হারানোর বেদনা; বেদনা হয়ে ধরা দেয়নি। দলাদলির আক্রোশে তাঁদের কেউ নিহত হন না। তাঁরা সহি সালামতেই থাকেন। আর তাই হয়ত এসব নিয়ে মাথা ব্যথা নেই। তাঁদের মাথা ব্যথা; কিভাবে সুপ্ত আগ্নেয়গিরিকে সবসময়ের জন্য কৌশলে দমিয়া রাখা যাবে। তাঁরা ভাল করেই জানেন- এই আগ্নেয়গিরি থেকে যদি অগ্নুৎপাত শুরু হয়, তাহলে উত্তপ্ত লাভায় তারা চাপা পড়ে যাবেন। তাই এতো মিথ্যাচার, ভুল পথের জন্ম দেয়া, লোভ দেখানো।

ছয় ছাত্রের করুণ মৃত্যু। প্রথমে প্রকাশ পেল- ডাকাত হিসেবে। তারপর প্রকাশ পেল- নেশা করতে যেয়ে। এখন শুনছি অন্য কথা। তদন্তে বেরিয়ে আসছে সব সত্য। গাড়ী ছিনতাই, গণপিটুনি, মামলা। তদন্তে কোথাও কাদেরকে দোষী প্রমাণিত করা যায়নি। নেশাগ্রস্থ পুলিশ কর্মকর্তার চাপাতির আঘাতে আহত সে। এখনো মন থেকে সে ভয় কাটেনি। নেশাখোর, চাঁদাবাজ, অপরাধীদের সাথে থাকতে থাকতে তারাই আজ নেশাগ্রস্থ, চাঁদাবাজ, অপরাধী। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান নেই বলেই- দিনের পর দিন তাদের অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একজন ছাত্রকে পুলিশ বিনাদোষে পেটালো, মিথ্যে মামলায় জড়ালো, ফোনে পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিলো। আমরা পড়ছি, শুনছি। হাতে গোনা কয়েকজন কাদেরের পক্ষে রাস্তায় নেমেছিল। তাও তারা কাদেরের সহপাঠি। অবাক করা বিষয়। যেখানে পুরো ছাত্রসমাজের হুংকার দিয়ে রাজপথ কাঁপানোর কথা, সেখানে হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন রাজপথে নেমে পড়েছিল। জরুরী অবস্থার মধ্যে বুলেটের আঘাত নিশ্চিত জেনেও যে ছাত্র সমাজ একসাথে হুংকার ছেড়ে ছিল, মাত্র কটা বছরের ব্যবধানে সে ছাত্র সমাজ কেন কাদেরের ঘটনা নিযে এখনো চুপ করে বসে আছে? এখনতো আর বুলেটের ভয় নেই, গণতান্ত্রিক সরকার। জনগণের নির্বাচিত সরকার। তবে কেন এই নিরবতা? তাই আক্ষেপের স্বরে বলতে হচ্ছে-“ কাদের তুমি কাদের- ছাত্র সমাজের নাকি সুশিল সমাজের?”