ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

কেউ একজন বললেন- উনারা হরতাল ডাকেন, কিন্তু উনারাই হরতাল মানেন না। উনাদের ফ্যাক্টরী বন্ধ হয় না (এই জাতিয় কথা)
উত্তরে কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানানো হলো।
ইহা সত্য যে, যাহারা জনগনের নাম ভাঙ্গাইয়া কর্মসূচী দেন, তাহারাই মানেন না। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। সরকারী ছুটি। সবকিছু বন্ধ থাকার কথা। হায়রে আমাগো সরকারী এমপি, তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কাউরেই সেই প্রাপ্য ছুটি ভোগ করিতে দেন নাই।
-ইহাই সত্য, ইহাই বাস্তবচিত্র।
এমন অনেক চিত্র আমাদের দেখার সৌভাগ্য হয়।
জনগনের দাবী নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নেই। পারলে খাটো করার মতো বিশ্রি কথা বলতে দ্বিধাবোধ করে না। আবার তারাই জনগনের কথা বলে হরতাল ডাকে।

একপক্ষ বলে- জনগনের জন্য এই হরতাল।
আর একপক্ষ বলে- জনগন এই হরতাল প্রত্যাখান করেছে।

একজন বলছে- হরতাল সফল হয়েছে। জনগন জেগে উঠেছে।
অন্যজন বলছে- জনগন এই হরতাল মানেনি। জনগন উচিত জবাব দিয়েছে।

জনগণ বলি আর আমজনতাই বলি- এরা আগেও নাই পিছেও নাই। হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার সেইটা আমজনতার আপাতত জানার বিষয় নয়। আমজনতা কথা বইলা নিজেদের স্বার্থরক্ষায় জন্য যারা মরিয়া হইয়া আছেন, তাদের জানা উচিত আমজনতারা সব বোঝেন, সব জানেন। আজ ১১ হাজার পুলিশ। পরবর্তী সরকারের সময় থাকবে ২২ হাজার পুলিশ। এভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। মজার বিষয় হইলো যে, নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে যেয়ে- নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে আমজনতা। বোনাস নিরাপত্তা পাইবো আমজনতা। বোনাস ফায়দা লইয়াও কি কম চিল্লাফাল্লা হইব? গলা ফাটাইয়া চিক্কুর দিবো। যে দলই হরতাল ডাকুক না কেন- হরতালের পক্ষে আমজনতা নয়। হরতালের পক্ষে রাজনৈতিক দলগুলো। কারণ নিজেদের স্বার্থসিদ্বির জন্য এই টনিক বড়ই কার্যকর।

একদল বলিতেছে- তেল, গ্যাসের জন্য। আরেক দল বলিতেছে- যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য। ভাল কথা মনে করাই দিলেন। যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা কি খুব ছোট? তাহলে এই কয়টারে নিয়ে টানা হেঁচড়া কেন। আরগুলোকে কবে গ্রেফতার করা হবে? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমাদের সবার চাওয়া। বীরমুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণের দাবী। তবে কেন এমন প্রহসন? এখনো কোন দল থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বহিস্কার করা হয়নি। শীর্ষ দলগুলোতে যুদ্ধাপরাধীরা আছে। দলের সমর্থক বলে কি তারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকবে? তিন বছর গেল গেল অবস্থা। আর রাজাকারগুলো কই? তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করুন। আমরা চাই- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে যেন কোন প্রহসনমূলক বিচার বা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের স্বার্থরক্ষা না হয়। কালক্ষেপণ না করে প্রতিটি দলের উচিত হবে নিজ নিজ দল থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বহিস্কার করে আইনের হাতে তুলে দেওয়া। এতে অন্তত আমজনতা বিশ্বাস করবে যে, প্রতিটি দলই চায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। আর মহান নেতাদের উদ্দেশ্যে বিনীত নিবেদন- দয়া করিয়া ক্ষমতায় যাওনের জন্য রাজাকার বা রাজাকার সমর্থিত দলগুলোর সাথে হাত মেলাবেন না। যদিও আপনারাই বলেন- রাজনীতিতে শেষ কথা বলিয়া কিছুই নাই।