ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

যাঁরা ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত তাঁদের আমরা কি বলবো? বা যাঁরা ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে, রাজপথ কাঁপিয়ে দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে দাবী আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছেন, জেল-জুলুম সহ্য করে একটা সময় নির্বাচিত হয়েছেন বা হননি অথবা প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত রয়েছেন, তাঁদের আমরা কি বলব- জননেতা, সংগ্রামী নেতা, রাজনীতিবিদ নাকি জনতার প্রতিনিধি?

আর যাঁরা কোন কালেই রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল না, কিন্তু পরবর্তীতে অর্থের দাপটে মনোনয়ন পেয়ে ক্ষমতায় বসেছেন প্রকৃত অর্থে যাঁরা ব্যবসায়ী তাঁদের আমরা কি বলবো? ইনিরা কি রাজনীতিবিদ?

তৃণমূল পর্যায় থেকে যাঁরা সংগ্রাম করে, নির্যাতন সহ্য করে রাজনীতিবিদ হয়েছেন আর যাঁরা ব্যবসা করে অগাধ অর্থের মালিক হয়ে রাজনীতিবিদ হয়েছেন- এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য কি থাকলো?

রাজনীতিবিদ কাকে বলে তা আমরা কিছুটা হলেও জানি। কিন্তু ব্যবসায়ীদের রাজনীতিবিদ বলতে আমার সমস্যা আছে। আপনাদের সমস্যা আছে কিনা আমার জানা নেই। ব্যবসায়ী+রাজনীতি= ব য়ে একার তালিবশ য়ে যফলা + নীতিবিদ= …..নীতিবিদ বলে আখ্যায়িত করলে মনে হয় ভুল বলা হবে না। কারণ এরা ব্যবসায়ীক স্বার্থে দেশ বিক্রি করতে দ্বিধাবোধ করবেন না। হিসেব করে দেখুন, ভেবে দেখুন। দূর্ণীতি ক্যামনে কমবে? কমবে না বরং বাড়বে। এককোটি টাকা বিনিয়োগ করে ১০০কোটি টাকা কামানোর জন্যই তাঁদের রাজনীতিতে আসা। এদেশে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ নয়। কিন্তু কেন ব্যবসায়ীদের রাজনীতিবিদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে দলগুলো আগ্রহী হচ্ছে? উৎসাহিত করছে?

যাঁরা তৃণমূল পর্যায় থেকে জেল-জুলুম, নির্যাতন সহ্য করে জনগণের নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন, তাঁরা কি বিত্তবানদের কাছে পরাজিত হবেন? তাঁদের কি কোনই মূল্য নেই? যাঁরা দলের জন্য, দেশের মানুষের জন্য রক্ত দিতে কার্পণ্য করেন না, তাঁদের কি মূল্যায়ন করা হবে না?

উনারা জেল-জুলুম সহ্য করেননি। রাজপথে নামেননি। জনগণের দাবী নিয়ে কথা বলেননি। বরং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুমে বসে শ্রমিকের ঘাম ঝরানো অর্থ লুটেছে, সম্পদ বৃদ্ধিতে বেআইনি কাজে জড়িয়েছে আরো কত ঘটনা আছে যা আমরা সবাই কমবেশী জানি। আর এরাই পায় নমিনেশন, সমর্থন। দলীয় তকমা গায়ে সেটে রাতারাতি জনগণের প্রতিনিধি হয়ে যায়, রাজনীতিবিদ হয়ে যায়। সত্যি আমরা বিচিত্র একটা দেশের নাগরিক। তাই ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলতে ইচ্ছে হয়- খামোখা পড়াশোনা নষ্ট না করে, সময় নষ্ট না করে, নিজের জীবনকে বিপন্ন না করে কোন দলের মিথ্যে প্রলোভনের ফাঁদে পা না দিয়ে নিজেকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলো। কারণ- দেশ সেবা করতে চাইলে, রাজনীতিবিদ হতে চাইলে, ক্ষমতায় বসতে চাইলে “কাড়িকাড়ি অর্থের প্রয়োজন”।