ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

মটর শ্রমিকরা কি ভিন গ্রহের? তারাতো আমাদেরই ভাই, আত্বীয়, বন্ধু, আপনজনদের একজন। ওরাও আমাদের মতো রক্তে মাংসে তৈরী। আমরা কি কখনো বলেছি যে, চালক বলতেই ঘাতক? আমরা কি কথায় কথায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকি? সঠিক পথে চলতে উদ্বুদ্ধ না করে ঘোলাটে পরিবেশ তৈরী করা কি উচিত? জনগণ যখন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে স্বতস্ফুর্তভাবে নিজেদের জড়াচ্ছে, ঠিক তখনি এদেশের জনগণের একটি অংশকে আপনি সহিংতার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। তাদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে, নিয়ন্ত্রনের মধ্যে গাড়ি চালাতে সর্বোপরি দূর্ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকটি মাথায় রেখে পেশাগত দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ করতে পারতেন। আমরা কখন চালককে ঘাতক বলি? আমরা কখন প্রতিবাদী হয়ে উঠি? নিশ্চয় জানা আছে। সুন্দর সমাধানের পথ তৈরী না করে সহিংসতার পথ তৈরী করা কি গ্রহণযোগ্য? ইতিহাস নিয়ে ব্যাণিজ্য করে, প্রজন্মকে পথভ্রষ্ট করে, মানবতাকে পদদলিত করে ক্ষমতা আসার দৌড়ে আপনারা ব্যস্ত। আর যাঁরা ইতিহাসকে সঠিক রুপে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে বহু ত্যাগ স্বীকার করে স্বপ্ন নিয়ে ছুটে চলেছেন, তাঁদের অকালে হারানোর ব্যথা কোন সুস্থ্য মানুষই সহ্য করবে না। একজন তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীর বছরে বছরে জন্ম নেয় না। এমনকি ইচ্ছে করলে তৈরী করাও যায় না। পক্ষান্তরে একজন নেতা তৈরী করা বা নেতা হওয়া বর্তমান প্রেক্ষাপটে একদম সহজ। চাই অর্থ, বিত্ত। তাই বলল- নির্ধারিত সময়ের অতিথীদের জন্য আমাদের কোন দরদ নেই। আবার সরাসরি নেই বলব না, কারণ সৎ অতিথীদের আমরা শ্রদ্ধা করতে জানি। তাঁদের হৃদয়ে ধরে রাখি। এমন কজনই বা আছেন? প্রতিবছর একটি কথা বারবার শুনি, আরেকটা ৭১ দরকার। হ্যাঁ, আমিও বলব- আরো একটা ৭১ দরকার।
বিখ্যাত উক্তি-একজন মুক্তিযোদ্ধা সবসময়ই মুক্তিযোদ্ধা নয়; কিন্তু একজন রাজাকার সবসময়ই রাজাকার!

স্বাধীনতা যুদ্ধের দীর্ঘ নয়মাস জীবনবাজি রেখে যাঁরা যুদ্ধ করেছেন, তাঁদের উদ্দেশ্য বলা হচ্ছে “ একজন মুক্তিযোদ্ধা সমসময়ই মুক্তিযোদ্ধা নয়”। কেন বলা হচ্ছে? বুঝতে সমস্যা হবার কথা নয়।

আর যারা স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধিতা করেছে, হানাদারদের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করে এদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষদের হত্যা করেছে, ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থেকেছে তারা সবসময়ই রাজাকার।

আমরা আজো যুদ্ধ করছি, বিচার চাইছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমাদের সবার কাম্য।

স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ তাঁদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আবার স্বাধীনতার সময় বা পরবর্তী সময়ে বিতর্কিত ভূমিকার জন্য তাঁদেরই আমরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করছি না।
স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা হত্যা, খুন, ধর্ষণ, ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, তাদের রাজাকার বলছি। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে তাদের কোন মহৎ ভূমিকার জন্য তাদের ক্ষমা করছি না। আর ক্ষমা করার প্রশ্নই উঠে না।
কিন্তু যারা স্বাধীনতা পরবর্তী এই দীর্ঘ সময়ে দেশের ক্ষতি করছে, দেশকে ক্ষত-বিক্ষত করছে, দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের কি বলে আখ্যায়িত করা যায়?

আরেকটা ৭১ দরকার। সেই ৭১ এ কোন রাজাকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে না। যুদ্ধ তাদের বিরুদ্ধে হবে যারা স্বাধীনতা পরবর্তী দীর্ঘ সময়ে এদেশকে ক্ষত-বিক্ষত করছে, জনতার দাবীকে পদদলিত করছে, দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

চলন্ত অবস্থায় মুঠোফোনে কথা বলা নিষিদ্ধ ঘোষিত হবার পর ভ্রাম্যমান আদালত যখন কয়েকজন চালকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চাইছিল, তখন এদেশের আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে কর্তব্যরত সরকারী কর্মকর্তাদের দিকে তেড়ে গিয়েছিল আপনার শিক্ষিত, প্রশিক্ষিত, যোগ্য শ্রমিক ভাইরা। তখন কোথায় ছিলেন? নাকি এদেশে আইন ব্যবস্থা দুই ভাবে বিভক্ত? শ্রমিকদের ৩টি ভোটের বিপরীতে আরো ১০টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ঐ ১০টি ভোটার শ্রমিক নন।

প্রতিটি শ্রমিকের প্রতি আমাদের দরদ আছে। কারণ তারা আমাদেরই একজন। তাদের প্রতি যত্ন নিন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শেখান। ট্রাফিক আইন মেনে চলতে, সঠিক নিয়মে গাড়ী চালাতে উদ্বুদ্ধ করুন। জনতার দাবীর বাস্তবায়নে এগিয়ে আসুন। দেখবেন তখন আর কেউ চালককে ঘাতক বলবে না। মামলা ঠুকবে না।

একবুক স্বপ্ন নিয়ে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা একটি সরকার নির্বাচিত করেছি। সেই স্বপ্নগুলো আজ প্রতিমুহূর্ত্বে মলিন হয়ে যাচ্ছে। যোগ্যদলকে নির্বাচিত করার সুফল হিসেবে আমরা কয়েকটা আমড়াকাঠের ঢেঁকি পেয়েছি। এবার ব্যালটের প্রতীকে সিল দিয়ে নয় …. ব্যবহার করে সিল দেব। যে সিলে অদৃশ্য কালিতে লেখা থাকবে ঘৃণা, প্রতিবাদ, অপবাদসহ কোটি জনতার আক্ষেপ। কাউকে নির্বাচিত করার জন্য ব্যালট বিপ্লব নয়। এবারের ব্যালট বিপ্লব হবে ঘৃণা প্রকাশের জন্য।