ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

পহেলা জুলাই ২০১৬ এর পর থেকে বাংলাদেশে দৈনন্দিন কার্যবিবরণীর সাথে যুক্ত হয়েছে ‘জঙ্গি হামলা’ নামক মরণাত্মক আক্রমনে আক্রান্ত হওয়ার দুশ্চিন্তা। এটা এখন বাঙালির তিনবেলা খাওয়া, ঘুম, অফিস যাওয়া, ছেলে মেয়েদের স্কুলে আনা-নেওয়া, হাটবাজার করার মতো নিত্যদিনের একটা বাড়তি উত্তেজনার মতো বিরাজ করছে সবার মনে।

ঘটনার পরদিন থেকেই চারিদিকে আলাপ আলোচনা, খবর, গল্প, আড্ডা, স্বাভাবিক চলাফেরা সবকিছুর মধ্যেই জঙ্গি অন্যতম একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইদানীং যেন জঙ্গি হামলার খবরগুলো আরও বেশী করে সংবাদে, টিভিতে বেশী প্রচার হচ্ছে। এবং দেশে-বিদেশে ঘটছেও অঘটন প্রায় প্রতিদিনই। মানুষ আজকাল জঙ্গি নিয়ে বেশী উদ্বিগ্ন তাই এজাতীয় খবর বেশী নজরে আসছে।

এটা সত্যি যে, গুলশান অঘটনের পরথেকে সবার সচেতনতা বৃদ্ধির কারনেই হোক আর ভয়েই হোক মানুষের মনে একটা গভীর রেখাপাত হয়েছে। রাস্তায় চলাফেরার সময়ে অনেকের চোখেই একটা আতঙ্কের ছাপ দেখা গেছে, যেন কখন কি হয় এরকম একটা দৃষ্টিভঙ্গি। এবার ঈদে অনেকে ঘরের বাইরে বের হয় নাই। ঈদের নামাজ পড়তে মসজিদে, ঈদগাহে যেতেও প্রতিবন্ধকতা, অনেকের অনেক ভয় কাজ করেছে। ঈদের ছুটিতে অনেকের সিনেমা হলে যাওয়ার প্রোগ্রাম থাকলেও ভয়তে যায় নাই। খাবার দোকান গুলোতে দেখা গেছে রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়ার চেয়ে পার্সেল নিয়ে বাসায় অথবা বাইরে চলে এসেছে। আসলে এইসব আলামত ভালো না। সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর।

photo 1

হালে জঙ্গি হামলা নিয়ে যেসব তোড়জোড় চলছে সেগুলো নিতান্তই প্রি-প্রাইমারি লেভেলের। বেশিরভাগ আলাপ-আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকছে ইংলিশ মিডিয়াম, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, কার কে, কি হয়, ক্যামনে গেলো, কবে গেলো, কোমলমতি তরুন সমাজ, এইভাবে বিগড়ে গেলো, সমাজের অবক্ষয় ইত্যাদি ইত্যাদি। আমার ঘরে আগুন লেগেছে আমি কি আগে আগুনে পানি ঢালবো নাকি গবেষণা করবো কিভাবে আগুন লাগছে সেটা নিয়ে।

জঙ্গি তৈরি হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে তারা অপারেশনে নেমে গেছে। মানুষ মারা শুরু করে দিয়েছে। গলায় ছুঁড়ি চালাচ্ছে, কচুকাটা করতেছে। আবারও হুমকি ধামকি দিচ্ছে আরও হামলা করবে। একজন নিরাপরাধ মানুষ কেন মরবে অন্যায় ভাবে? জঙ্গিদের আর একটা অপারেশনও যেন না হতে পারে, একজন মানুষও যেন না মরে সেই প্রোটেকশন কই?

হামলা মোকাবেলার জন্য যুতসই টেকনিক চাই। সেগুলো জনগণকে শেখান। জঙ্গি সমূলে উৎপাটন করার উপায়গুলো বাতলাতে হবে। বাহিনীগুলোকে আরও দ্রুত একশনে যেতে হবে ও যুগোপযোগী করে তুলতে হবে। প্রয়োজনে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি আরও ঘেঁটে দেখতে হবে আমাদের কোন বৈদেশিক সম্পর্কের ঘাটতি আছে কিনা। কিংবা আরও কোন কোন ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র সম্পর্ক জোরদার করা বাকি আছে।

আমাদেরকে বাঁচতে দিন। আমাদের অনাগত সন্তানদের বাঁচতে দিন একটি সহনশীল পরিবেশে। এই পরিবেশ এখন দিন দিন বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। আর পারছি না, বাঁচতে। অনেক কষ্ট হচ্ছে নিশ্বাস নিতে। আর কতো? এই দেশে আমাদের বেশী কিছু চাহিদা নাই। তবুও কেন বাঁচতে পারছি না একটু নিশ্চিন্তে? প্রাণ আজ ওষ্ঠাগত! বুকের ধড়ফড়ানি তো বেড়েই চলছে। প্রাণোচ্ছল এই জাতি দিনদিন একটি উচ্চ রক্তচাপ ও বক্ষব্যাধিতে আক্রান্ত জাতিতে ধুকেধুকে মরার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। অথচ আমাদের দেখান হচ্ছে জিডিপির গ্রোথ রেট আর উন্নয়নের হাতছানি! জীবন যেখানে ঝুলছে কার্নিশে বাদুরের ডানায়, সেখানে কি আর ফুলের সুবাশ শোভা পায়?