ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

আমি আশাবাদী মানুষ।শত হতাশার মাঝেও বাংলাদেশকে নিয়ে আমার অনেক আশা।চারদিকে হতাশার গল্প শোনার পরেও আশা হারাতে চাইনি, বেশী বেশী করে সফলতার গল্পগুলোয় চোখ বুলাতাম। যেদেশের মানুষ ভাষার জন্য রক্ত দিতে পারে, আরবি হরফে বাংলা লিখার প্রতিবাদ করতে পারে; যে দেশের মানুষ “একটি ফুলকে বাঁচাব” বলে যুদ্ধ করার চিন্তা করতে পারে, যে দেশের অর্ধেকের বেশী জনসংখ্যা নারী ও তার একটা বড় অংশ কর্মজীবি, যে দেশে পাখির ডাকে ভোর হয় আর পাখির ডাকে সন্ধ্যা নামে, যে দেশের মানুষ নিজে না খেয়ে অতিথিকে আপ্যায়ন করে, যে দেশের মানুষ পেটে ভাত না থাকলেও গায়ে ভালো কাপড় পরতে চায়, যে দেশের মানুষ দেশের বাইরে গেলে বুক পকেটে করে দেশের মাটি নিয়ে যায়, যে দেশের মানুষ শত ঐশ্বর্যের মাঝেও বিদেশ বিভূইয়ে শুধু মা আর মাটির জন্য কাদে, যে দেশের হিন্দু-মুসলমান নিজেদেরকে ভাই ভাই বলে জানে, যে দেশে হিন্দুর উৎসবে মুসলমান অতিথি আর মুসলমানের ঈদে হিন্দু অতিথি, যে দেশে মন্দির আর মসজিদ পাশাপাশি, যে দেশের মানুষ জ্যোৎস্না দেখবে বলে খোলা আকাশের নিচে মাদুর পেতে খালি গায়ে চাদের আলো মেখে ঘুমায়, যে দেশের মানুষ ভরা পূর্ণীমায় গান গায়, অঝর বর্ষায় গলা ছেড়ে গান ধরে, ফসল তোলার আনন্দে নেচে গেয়ে উৎসব করে,নৌকার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে নেচে গেয়ে উঠে, যে দেশের মানুষ ভীন দেশী অতিথি পাখিদের পর্যন্ত আপ্যায়ন করতে ভূলেনা; সেদেশের মানুষ আর যাই হউক ঠান্ডা মাথায় তাদের অতিথি বিদেশীদের খুন করতে পারে না, ঠান্ডা মাথায় শুধু ধর্মের কারণে অন্যজনের উপর বোমা মারতে পারে না, মতের মিল হল না বলে চাপাতি দিয়ে কোপাতে পারেনা।আমার খুব গর্ব ছিল সেই বাংলাদেশকে নিয়ে। গর্ব করে বলতাম, “আমার মাটি, আমার মা; আফগানিস্তান হবে না”।কিন্তু আমার অগোচরেই সেই বাংলাদেশ, এই বাংলাদেশ হয়ে গেছে। আমি ও আমরা যখন ঘুমিয়ে ছিলাম প্রগাড় শান্তির ঘুমে, তখন অন্য অনেকজন চির শান্তির ঘুমে চলে গেছেন।আমাদের এই ঘুম ভাঙ্গতে হবে, জেগে উঠতে হবে।ঘাতকদের টুটি চেপে ধরে বলতে হবে,”আমার সোনার বাংলা, শ্মশান হবে না”।নচেৎ এর পর অন্য আরেকদল ঘাতকের হাতে আমার বা আপনার ঠিকানা লিখা থাকবে নিশ্চিত।