ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

পরীক্ষা ছাড়া চালকদের লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ ও দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং পরিবহন খাতে দুর্নীতি বন্ধের দাবিতে আন্দোলন-শহীদ মিনারে ঈদ আরো কতো কি।

ঘটনা বেশীদিন আগের নয়, গত বছরের আগস্টের।

পুরো আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সৈয়দ আবুল মকসুদ, আর হয়ত এর মূল উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেনের পদত্যাগ।

অবশেষে মন্ত্রী আবুল কুপোকাত হলেন, নতুন মন্ত্রী হলেন ওবায়দুল কাদের। আবুল মকসুদদের আন্দোলন সফল।

আবুলকে সরিয়ে ফেলার মাধ্যমেই কি আবুল মকসুদদের সফলতা ছিল? নাকি এর সাথে পরীক্ষা ছাড়া চালকদের লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ ও দেশের গণপরিবহনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং পরিবহন খাতে দুর্নীতি বন্ধের প্রয়াসও ছিল?

যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে বলতে হবে গণপরিবহনের সব অরাজকতা শেষ হয়ে গেছে, সেই সাথে বন্ধ হয়ে গেছে আবুল মকসুদের প্রতিবাদি ভাষা।

তবে সাধারণ মানুষ এখন ভাবছেন, আবুল হোসেনের পদত্যাগের মাধ্যমে একটি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেই হয়ত এরা তাদের দায়িত্ব শেষ করেছেন, আসল উদ্দেশ্য এরা এখনো পৌছাতে পারেননি।

কালের কণ্ঠের সাংবাদিক নিখিল ভদ্রের পঙ্গুত্ব বরণ, আমাদের সময়ের দীনেশ দাসের মৃত্যু এবং সর্বশেষ ইংরেজি দৈনিক ইনডিপেন্ডেন্টের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বিভাস চন্দ্র সাহার মৃত্যুর পর আবুল মকসুদরা চুপ মেরে আছেন। তাদের নেই কোন আন্দোলন, নেই কোন দাবি-দাওয়া।

অদক্ষ ও ভূয়া চালকদের যে মন্ত্রী সহযোগীতা করে যাচ্ছে, নৌ পরিবহণ মন্ত্রী শাজাহান খানের বিরুদ্ধে আবুল মকসুদরা কেন কথা বলছেন না?

আবুল মকসুদরা কি পারেন না সত্যকে সবার সামনে তুলে ধরতে, আবুল হোসেনকে গতিচুত্য করতে তারা যে আন্দোলন করেছিলেন, সেই আন্দোলন কি নিরাপদ সড়ক ও ভূয়া চালকদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে করা যায় না।

আবুল মকসুদরা শুনুন-সবাই চায় আপনারা কোন এজেন্ডা বাস্তবায়ন না করে সাধারণের জন্য কাজ করুন, হয়ত আপনাদের দিয়েই স্বাভাবিক মুত্যুর নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে।