ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ব্লগ সংকলন: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

 

গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও তার স্ত্রী এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি।তিন মাসের বেশি সময়েও এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় গত ১৮ এপ্রিল মামলা তদন্তের দায়িত্ব র‌্যাবকে দেওয়ার জন্য গোয়েন্দা পুলিশকে নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। খুন হওয়ার পরও রক্ষা নেই, গত ২৬ এপ্রিল ভিসেরা ও রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য কবর থেকে সাগর-রুনির লাশ তোলে র‌্যাব।

টানা তিন মাস ধরে চলছে এ ঘটনার ফলোআপ প্রতিবেদন। তবে ঘটনার তিন মাস পার হয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পত্রিকা পাঠকদের নজরে আসেনি।

ঘটনার পর থেকেই সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও সংবাদকর্মীরা আন্দোলন করে যাচ্ছেন, রাজপথ বন্ধ করে আন্দোলন এবং ঘেরাও করা হল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়। হয়ত সাধারণ মানুষরা ভাবছে সাংবাদিকরা শুধু আন্দোলন করতেই পারে, এ বাহিরে কিছু না। সাংবাদিকরাও যে অনুসন্ধান করে মূল ঘটনার নেপথ্য বের করে নিয়ে আসতে পারে তা হয়ত সাংবাদিকরাই ভুলে গেছেন।

সাংবাদিকদের নিয়ে সাধারণ মানুষের একটি উচ্চ ধারণা থাকে, সমাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিভিন্ন তথ্য অনুসন্ধানের মাধ্যমে সবার কাছে তুলে ধরেন। অনিয়ম ও দুর্নীতি থেকে পুরো সমাজকে রক্ষা করেন।কিন্তু সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোন অনুসন্ধানী মূলক প্রতিবেদন নেই কেন? হয়ত প্রতিদিনের খবর দিয়েই গণমাধ্যম ও সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

প্রতিটি ঘটনার জন্য সাংবাদিকরা পুলিশ বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় নির্ভর হবেন কেন, কেনই বা তারা ঘটনার পেছনের ঘটনার জন্য অন্যর নির্ভর করছেন। কোন ঘটনা স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে বা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে কি উপরের কোন মহল থেকে চাপ আসছে? না সাংবাদিক মহল নিজে থেকেই এ দায় এড়াতে চাইছেন?

সাংবাদিক নেতারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ঘেরাও কর্মসূচীর পর পরবর্তী কর্মসূচী দিয়েছেন ২০ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সাংবাদিক নেতাদের বৈঠক, সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় আইন প্রণয়নের জন্য ৫ জুন স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, ২৬ জুন সব পত্রিকার সম্পাদক, টেলিভিশনের প্রধান ও প্রবীণ সাংবাদিকসহ গণমাধ্যমকর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা।

ঘেরাও কর্মসূচীতে ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নু বলেন, “পুলিশের বাধা অনভিপ্রেত। খুনিরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথেই থাকব।”

মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নু কি ঘোষণা দিতে পারতেন না এ ঘটনার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে, ফাঁস করে দেয়া হবে সব গোপন তথ্য। অবশ্য টেলিভিশন চ্যানেল বৈশাখীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেছেন, “আমরা এ হত্যাকাণ্ডের পৃথক অনুসন্ধান করব।”

সাধারণ জনগন আশা করে মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল তার কথায় ঠিক থাকবেন, পৃথক অনুসন্ধান করে ঘটনার প্রকৃত তথ্য সবার সামনে উপস্থাপন করবেন। আর এর সাথে সংবাদপত্রের সাধারন পাঠক হিসেবে আমরা এও আশা করছি দেশের নামকরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদকরা ঘুম থেকে উঠে সবাইকে জানাবেন তারা ঘুমিয়ে ছিলেন কিন্তু এখন জেগে উঠেছেন।