ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

কিছুদিন আগে ভারতীয় সংগীত শিল্পী সনু নিগম এর ফজরের আযান বিষয়ক এক টুইটে প্রচুর শোরগোল শুরু হয়েছিল। ওই ইস্যু আমার কোন ভাবান্তর ঘটায়নি। কেন ঘটায়নি ঠিক বলতে পারিনা। সনু নিগম ইন্ডিয়ার ঠিক কোন এলাকায় থাকেন, আমি জানিনা। এটাও জানিনা তিনি কয়টায় ঘুমান, কতক্ষণ ঘুমান, ওই এলাকায় কয়টা মসজিদ আছে, আর তার বাড়ির ঠিক পাশেই মসজিদ কিনা। আমি যেখানে থাকি, সেই এলাকায় হাতের কাছে একটা ভালো ফার্মেসি নেই, ভালো লন্ড্রি নেই, সাইবার ক্যাফে তো দূরস্ত, ৫০ টাকা রিকশাভাড়ার দূরত্বের মধ্যে কোন প্রিন্টিং-ফটোকপির দোকান নেই অথচ প্রতি ৫০ হাত পরপর একটা মসজিদ!

সেহ্‌রি খেতে উঠবার জন্য পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে, চিৎকার করে মানুষকে ঘুম থেকে তোলার একটা প্রক্রিয়া প্রচলিত আছে। এটা কতটুকু দরকারি-উচিত সেটা নিয়া কথা বলবার আগেই প্রক্রিয়াটি চলে গেছে মসজিদের এখতিয়ারে। অনেকদিন থেকেই মসজিদের মাইক ব্যবহার করে কাজটি সারা হয়। আমাদের বাসার পেছন পাশটা খোলা। প্রচুর আলো-বাতাসের সাথে প্রচুর ধুলা যেমন ঢুকে, তেমনি প্রচুর শোরগোলও ঢুকে! হ্যাঁ, অসম্ভব ত্যাক্ত, বিষাক্ত হওয়ার পর নিজ কম্যুনিটির একটি আপাত স্বাভাবিক কিন্তু বস্তুত অপ্রয়োজনীয় একটি প্র্যাকটিসকে শোরগোল বলছি।

এই ভর গ্রীষ্মে ফজরের আযানের সময় হয় ০৩:৩০ এর একটু পরেই। সুতরাং রোজাদারদের সেহরটিা খেতে হয় অবশ্যই সাড়ে তিনটার আগে। রাত দুইটা থেকে – হ্যাঁ, বরাবর দুইটা থেকে আশেপাশে ৫-৬টা মসজিদের মাইকে সমস্বরে উঠুন উঠুন করে কী ধরণের চিৎকার শুরু হয়, সেটা যে না শুনেছে সে বুঝবে না। এটা লিটারেলি এমন এক ভয় ধরানো স্বর, যা শুনে মনে হবে কোথাও আগুন লেগেছে, ভূমিকম্পে মানুষ মরেছে কিংবা কোন ডাকাত দল ধেয়ে আসছে! অথবা আমি কারো বাপের বিছানা দখল করে ঘুমিয়ে আছি, আমার এখনই উঠে যাওয়া উচিত নইলে আমার নিজের বাপের বিছানা ছিনিয়ে নেয়া হবে টাইপ কোন ব্যাপার!

রমজান মাসে সেহ্‌রি খাওয়াটা আমার কম্যুনিটির একটি ধর্মীয় প্রথা। আমাদের ধর্মীয় প্রথাগুলোর কিছু ভাগ আছে। একরকম আছে ’না করলেই নয়’, আরেকরকম আছে ’না করলেও হয়’। আরো এক রকম আছে- আমাদের ধর্ম প্রবর্তকের কিছু ব্যক্তিগত প্র্যাকটিসকে আমরা নিজেরাও পালন করি। শেষোক্ত প্র্যাকটিসটা অনেকরকম ভাগে ভাগ আছে ’করতেই হবে’, ’বেশি অসুবিধা না হলে করলে ভালো’, ’না করলেও চলে তবে সময় থাকলে করো’, ’তিনি করতেন তবে আমাদের জন্যে জবরদস্তি নেই’- এমন অনেক রকম ভাগ!

এই সেহ্‌রি খাওয়ার নিয়মটা আমরা আমাদের প্রবর্তককে অনুসরণ করে পালন করি যেটা ’জবরদস্তি নেই’ শ্রেণীর অন্তর্গত। একটা কম জরুরি, কম বাধ্যবাধকতার রিচুয়ালের জন্য মধ্যরাতে তারস্বরে চ্যাঁচাতে আরম্ভ করা কতটা দরকারি? একটা এলাকায় যেখানে মসজিদের এত ঘনত্ব, সেখানে এই মধ্যরাতকে বিবেচনায় এনে যে কোন একটা মসজিদ থেকে কি এই সেহরির ঘোষণা দেয়া যায়না? ৫-৬টা মসজিদ একসাথে মাইক বাজালে সেটা যে আক্ষরিক অর্থে গোলমালে পরিণত হয়, এই স্বাভাবিক বুদ্ধিটা কি একবিংশ শতাব্দীর মুমিনদের থাকা উচিত না? এটা ২০১৭ সাল তো!

গ্রামে গ্রামে নিতান্ত ক্ষেতমজুরের হাতেও একটা ১০০০ টাকা দামের মোবাইল আছে। সে মোবাইলগুলোতে আছে এলার্ম দেবার ব্যবস্থা আর এফএম রেডিও। আজকের সময়ে বসে কেউ কোন ওয়াক্ত মিস করবে এটা সম্ভব না। আর কেউ যদি সেহরির সময়ে বা ফজরের আযানের সময়ে ঘুমিয়ে থাকতে চায়, তাকে রীতিমত মসজিদের মাইক থেকে ধমকায়ে সেহরি খাওয়ানোর বা নামায পড়ানোর কী দরকার এটা আমার মাথায় ঢুকেনা!

ধর্মীয় রিচুয়াল পালনটাকে আমি সবসময় আমি কোন সাবজেক্ট পড়বো, কোন রঙের বা ডিজাইনের কাপড় পরবো, কোন সাবান মাখবো, হার্ডরক শুনবো নাকি রবীন্দ্রসংগীত শুনবো – এ ধরণের ব্যক্তিগত ইস্যুর মত ডিল করি এবং আসলেও বিষয়টা তো তাই থাকাই উচিত। বিরক্ত, ক্ষোভ আর ক্লান্তি মিশায়ে আমি দেখতে পাই আমার কম্যুনিটি একটা আস্ত হিংস্র জানোয়ারের পালে পরিণত হচ্ছে- যাকে দেখলেই সবার আগে পালানোর চিন্তা মাথায় আসে!

একটা গল্প বলি। আমি তখন থ্রি-ফোরে পড়ি। বড় ফুফুর বাসায় ইফতারের দাওয়াতে গিয়েছিলাম। আমার বড় ফুফুরা একটা সরকারি কলোনিতে থাকে। কলোনিতে বেশ কিছু হিন্দু পরিবার আছে। সরকারি চাকুরেদের কোয়ার্টার বলেই বোধহয়, নইলে আজকাল বা তখনও মুসলিম অধ্যুষিত কোন এলাকায় পাশাপাশি এত হিন্দু পরিবার থাকতে দেখা যায় না। তো আমরা ইফতার নিয়ে বসে আছি। একটু পরেই মাগরিবের আযান পড়বে, হয়ত কয়েক মিনিটের দেরি মাত্র। এমন সময় পাশের কোন একটা বিল্ডিং এর কোন ঘর থেকে কাঁসার ঘন্টা আর শাঁখের আওয়াজ শোনা গেল। কেউ সান্ধ্যপূজা দিচ্ছিল। আমার ফুপা বিরক্তিসূচক শব্দ করে আস্তাগফিরুল্লা কয়েকবার জপলেন। আমার ফুপাতো ভাইবোনদের কপাল কুঁচকে গেল। আমার সমবয়সী ফুপাতো বোনটা বলল, একদম বিরক্তিকর। এ আওয়াজগুলো সবসময় আসে, ফালতু আস্তা! আমি হা করে দেখছিলাম। কাজিনের কথার জবাবে মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসলো, তো ওদের পূজার টাইমে ওরা পূজা করবে না ? আমার কথা শেষ হবার আগে আম্মু ধমকে উঠলেন, এই চুপ কর। বেশি কথা বলিস! ইফতার সামনে নিয়ে দোয়া দরুদ পড়। আমার ফুফা আম্মুর দিকে তাকিয়ে কাষ্ঠ হাসি দিয়ে বললেন, আরে ও ছোট, ও কী বুঝে! হে হে.. এরপর আমার কপাল কুঁচকে গিয়েছিল, কাজিনরা আমার দিকে তাকিয়ে দাঁত বের করে হাসছিল। অনেক অনেক দিন পরে বুঝতে পেরেছিলাম বিষবৃক্ষের বীজ কোন নার্সারিতে পাওয়া যায়।

হিন্দুদের ধর্মীয় আচার পালনের শব্দে যদি মুসলমানের সমস্যা হয়, তাহলে মুসলমানের আচার পালনের গোলমালে অন্য ধর্মের মানুষের সমস্যা হবে না কেন? প্রশ্নটা কি অনেকটা ’ভাস্কর্য না থাকলে মসজিদ থাকবেনা’র মত শোনাচ্ছে? শোনালে থ্যাংকস। গ্রেট ম্যান থিংকস এলাইক!

হিন্দু-মুসলিম ইস্যুর বাইরে ব্যক্তিগত ইস্যু বলি। আমার ঘুমের সমস্যা আছে। সমস্যা এত প্রকট যে, আমার লাইফ টালমাটাল। আমি কেমন বেদিশা অবস্থায় আছি না বুঝবে হুজুর, না বুঝবে আমার শ্বশুর, না বুঝবে আমি বাদে দ্বিতীয় কোন ব্যক্তি! ঘুমের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করার পর ঘুম বিষয়ক যতরকম সদুপদেশ ইন্টারনেট ঘেঁটে পেয়েছি সেসব পালন করে অনেক আয়োজন করে যদি কোন রাতে সত্যিই বারোটার আগে ঘুমাতে পারি, রাত দুইটায় মুমিন বান্দাদের জন্য জেগে উঠতেই হয়। উনারা যে কত্ত কত্ত সোয়াব নিয়ে ওই পারে যাচ্ছেন শুধু আমার জন্য, তা আর কি বলব.. এই ঘুমের সমস্যাকে সিরিয়াসলি নেবার মত মানসিকতা এখনও তৈরী হয়নি। এটা একটা আহ্লাদী রোগ, বড়লোকি রোগ ইত্যাদি বলে এটাকে উড়িয়ে দেয়া হয়, সুতরাং নিজের পক্ষে আর জনমত তৈরীর অপচেষ্টা নাইবা করি। কিন্তু এলাকায় সত্যি সত্যি রোগের রোগীরাও তো থাকতে পারেন। হার্টের রোগী, শ্বাসের রোগী, প্যারালাইসিস থেকে শুরু করে শারীরিক মানসিক কত জাতের রোগি থাকতে পারেন। রোগের তো আর হিন্দু-মুসলমান, আস্তিক-নাস্তিক, মুমিন-মুরতাদ হয়না, রোগ ধর্মনিরপেক্ষ জিনিষ। আর রোগ ও রোগীর আদমশুমারি বাদ দিয়ে সুস্থ সবল মানুষের কথাও বলা যায়। আমি না হয় বড়লোকি রোগ বাঁধিয়ে বসে আছি। এমন অনেক মানুষ আছেন, যাদের রাতের বেলার নূ্ন্যতম নিশ্ছিদ্র ৬ ঘন্টা ঘুমের উপর সংসারের চাকা ঘোরা নির্ভর করে।

মজাটা কী জানেন?? এই যে আমি একটা সাধাসিধা নাগরিক অধিকার নিয়ে এতগুলা কথা বললাম (যে সময়ে আর যে দেশে বাস করি তার নিরিখে অত্যন্ত হাস্যকর), যাদের রেফারেন্স দিয়ে সমস্যাটা বোঝাতে চেয়েছি, তারাই আমার কথায় সায় দেবে না এবং হারে রে রে রে রে করে তেড়ে আসবে। এর কারণটা কি জানেন?

আমাদের ধর্মে বাই এনি হাউ বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুকে বেশি মহিমান্বিত করা হয়েছে! মৃত্যুই তো মানবজন্মের সর্বশেষ সীমা, একে কথায় কথায় গ্রহণ করে ফেলা, সবসময় প্রায়োরিটি দেয়ার একটা ইন্ধন সবখানে আছে। যেন বেঁচে থাকাটা নিতান্তই ফালতু একটা কাজ, এটার কোন মূল্যই নাই।
এখন এই যে মৃত্যুকে এত প্রায়োরিটি, এত মহৎ ভাবা, এটা লিড করে কষ্ট ভোগ করে হলেও কোনকিছু হাসিল করতে রাজি হওয়াকে। মুসলিম কমিউনিটির এই স্পিরিট, আমার জন্মের পর থেকে আমি অন্তত ধ্বংসমুলক কাজ ছাড়া আর কিছুতে দেখি নাই। এ কারণেই হেফাজতের ঢাকা ঘেরাও সমাবেশে যে কচি মাদ্রাসার ছাত্ররা না খেয়ে ছিল বলে প্রধানমন্ত্রী আফসোস করেন, সে ছাত্রগুলা ( হোক মিসলিড) কিন্তু বড়হুজুরের কথায় নাস্তিকদের হাত থেকে ইসলাম বাঁচাতে নেমে পড়েছিল “মরণ পণ” করেই! শুধুমাত্র মৃত্যু এবং মৃত্যুর পরে বেহেশত ধারণার উপর ভিত্তি করে তাই এদেরকে দিয়ে যা খুশী করানো সম্ভব। এবং এই একই কারণেই সাধারণ গেরস্তি মুসলমানের জন্য রমজানের মাহাত্ব্যের কাছে সেহরি খাওয়া বিষয়ক পাবলিক নুইসেন্সটি বোঝা প্রায় অসম্ভব!! যত অসুস্থই হোক, যত সমস্যাই হোক। যে ধর্ম প্রবর্তকের মহব্বতে মুমিনরা রোজার মাসসহ অন্যান্য সময়েও দিশাহারা হয়ে থাকে, সেই মানুষটা যে সহনশীলতার চর্চা করার ব্যাপারে বড়সড় আদেশ রেখে গেছেন, সেটা মুমিনরা প্রাণপণে ভুলে থাকার চেষ্টায় মত্ত্ব।

আমার এসব কথা একদম অর্থহীন, বোগাস মনে হচ্ছে অনেকের। অনেকের মনে হচ্ছে সহীহ্ প্রগতিশীলতা নয়- উগ্রতার জবাবে উগ্রতা কেন…এটা যে উগ্রতা নয়, এটা যে একটা সাধারণ পাবলিক নুইসেন্স নিয়ে দরকারী কথা বললাম, যেমনটা বলি কেউ দিনভর মাইকে ঘোষণা বাজালে, গান বাজালে, যেমনটা বলি রাতভর কেউ গায়ে হলুদে তিন পেয়ারের স্পীকার তুঙ্গে তুলে দিলে বা নিশীরাতে মাইক অন করে শুরু হওয়া কাওয়ালির আসরের ক্ষেত্রেও; সেটা কেউ ভাববেন না। তাদের এই সুশীলতা, যুদ্ধটা জেনে বুঝেও ফ্রন্ট ছেড়ে ফেসবুকের পাতায় আশ্রয় নেয়া বিপরীত ফ্রন্টে নীরবতা নয় বরং উৎসাহ ছড়াচ্ছে! কেউ বুঝতে চাইবেন না যে, একটা নুইসেন্স, একটা সহিংসতা, আরেকটা নুইসেন্স, আরেকটা সহিংসতাকেকে ট্রিগার করবে, করতে বাধ্য!

আর বুঝতে চাইবেন না বলেই খবরে প্রকাশ:- রাজধানীর কল্যাণপুরে রোজার মাসে দিনের বেলা খাবারের দোকান বন্ধ রাখার জন্য “রমজানের পবিত্রতা রক্ষা কমিটি” নামক এক কমিটির উদ্ভব হয়েছে। তারা ভাত-তরকারীতে পানি ঢেলে দিচ্ছে, চায়ের কেতলীতে বালি ঢেলে দিচ্ছে, দোকানে করছে ভাংচুর আর দোকানের লোকদের গালাগালি, হুমকী-ধামকী। চ্যানেলের লোক দেখে স্রেফ ধমক দিয়ে গাড়িরে ভেতর ঢুকিয়ে দরজা লাগিয়ে দিল! মিডিয়াও বলিহারী! রিপোর্টার এরপর বাইতুল মোকাররম ছুটলো “এই কাজটি সহীহ্ নয়” এই বক্তব্য আদায় করতে! এতটুকু সাহস ধ্বজভঙ্গ মিডিয়ার নাই যে বলে, “একটা ভূঁইফোঁড় কমিটি পাবলিক নুইসেন্স ক্রিয়েট করছে। সাধারণ জনজীবনে ইন্টারফেয়ার তারা করতে পারেনা। খাবার নষ্ট করে ফেলা, ভাংচুর করা আর হুমকী দেয়ার মত সহিংসতার কাজ শাস্তিযোগ্য!” আমার কমিউনিটিরি মুমিনগণ ব্যক্তিগত সিয়াম সাধনাকে কেমন গৌরবোজ্জ্বল সামষ্টিক সিয়াম সাধনায় রূপান্তর করলো, তা দেখে আমার স্রেফ চান্দিতে আগুন ধরে গেছে। কোন যুক্তি, কোন ধর্ম, কোন বিধান, কোন প্রথার আওতায় একে জাস্টিফাই করা যায়?? আমাকে কেউ এসে বুঝিয়ে দিয়ে যাক, আমি তার চেহারা চিনে রাখি।

আমার এইসব কথা ফালতু, হুজুগে বা আরো অনেক কিছু (প্রগতিশীলদের থেকে খাওয়া গালিগুলা কিন্তু খুব কঠিন, ইঙ্গ-বঙ্গ, মনে রাখতে কষ্ট হয়) কিন্তু এইসব কমিটির যে জন্ম হচ্ছে, চেনা শত্র‍ু যে নবজীবন লাভ করছে সে খবরটা অন্তত রাখেন! তারা ফীল্ডে নেমে পড়ে। হাড্ডি-মাংস আলাদা করে দেবার ঘোষণা দেয়। আর আমরা? এই গোত্র, সেই গোত্রতে ভাগ হয়ে গালাগলি করতে পারলে বাঁচি। এই যে লেখার ভেতর নিজের ধর্ম পালনের কথা বলেছি, এতেও প্রগতিশীল শিবির থেকে আমি খারিজ হয়ে গেছি। আবার যে ইস্যু নিয়ে এতসব কথার অবতারণা, তার ফলে আমার কম্যুনিটির গোঁয়ার ধর্মান্ধ গুলো আমার হাড্ডি-মাংস আলাদা করে ফেলার ঘোষণা দিবে। আমার আপনজনেরা আমাকে বেয়াদপ হয়ে গেছি, পাংখা গাজায়ে গেছে টাইপের খড়গ উন্মোচিত করবেন। আমার বা আমাদের মতদের আসলে যাওয়ার যায়গা নাই কোথাও!

সেই ২০১৩ থেকে মোটামোটি স্পষ্টভাবে দুইটি ফ্রন্ট আলাদা হবার পর থেকে আমরা একরকম ঘরছাড়া কুকুরের মত আছি। প্রগতিশীল ফ্রন্ট আমাদের গালি দিতে বাধ রাখেনা, অথচ নিজেরা শতটা ভাগে ভাগ হয়ে আলাদা আলাদা শিবির গেঁড়ে মিথ্যা প্রগতিশীল আন্দোলনের অভিনয় করছে এবং নিজেরাই নিজেদের অর্ধেক শক্তি ক্ষয় করছে। আর অপরদিকে এক জান্তব শক্তি ক্রমাগত শক্তি বৃদ্ধি করছে। যুদ্ধটা ওরা বুঝেছে, চিনেছে শত্র‍ু , ছড়িয়ে পড়ছে বিষ পিঁপড়ার মত! আমাদের মতরা না পারছি তাদের বিষ সইতে,না পারছি পালাতে, না পারছি নিজেদের সুসংগঠিত করে পূর্ণ শক্তি নিয়ে ফ্রন্টকে আগাতে! কী ভীষণ দমবন্ধ সময়! কী আশ্চর্য কালোরাত!