ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

আমি জানি সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।
কড়কড়ে রৌদ্র আর গোলগাল পূর্ণিমার রাত
নদীরে পাগল করা ভাটিয়ালী খড়ের গম্বুজ
শ্রাবণের সব বৃষ্টি নষ্টদের অধিকারে যাবে। – সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে : হুমায়ুন আজাদ

স্যার, আজ শ্রাবণেরই রাত। অনেক কিছু নষ্টদের অধিকারে চলে যাচ্ছে ক্রমাগত। আমরা বর্তমান ও আগামী প্রজন্ম নৈতিক অবক্ষয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে। দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত করার জন্য ছদ্মবেশী ষড়যন্ত্রকারীরা আজো আমাদের আশেপাশেই ঘোরাফেরা করছে। ইলেকট্রনিক্স ও প্রিস্ট মিডিয়াগুলো তথাকথিত বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, সুশীল সমাজকে অর্থের বিনিময়ে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। শিক্ষাক্ষেত্রে আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় আসার পরে প্রথমদিকে যে আশার আলো দেখতে পেয়েছিলাম তা ধীরে ধীরে নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে ফিকে হয়ে যাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের এ দুর্নীতি ও সে দুর্নীতির চাপে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ভাবমূর্তির গ্রাফ নিম্নমুখী! ঐদিকে বিরোধী শিবির জামাত-শিবির চক্রের ত্রাণকর্তারূপে আবির্ভূত হয়েছে। দেশের আগামী নিয়ে আমরা আবারও সন্দিহান। রাজনৈতিক ইঁদুর বিড়ালের খেলা শুরু হতে খুব বেশি বাকি নেই। ঘুরে ফিরে একই বৃত্তে আমরা ঘুরপাক খাচ্ছি। আমাদের নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকে নিয়ে (উনি নিজেও নানা ইস্যুতে বিতর্কিত) রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অভিপ্রায়ে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বশক্তি ও স্বদেশী কিছু চক্র দুষ্ট খেলায় মেতে উঠেছে। অপরিকল্পিত বাজেটের কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও আশানুরুপ হবে না বলেই মনে হচ্ছে। সবকিছু ছাপিয়ে রেল, যোগাযোগ খাতের দুরাবস্থা। `পদ্মা সেতু` এখন টক শো গুলোর অন্যতম এজেণ্ডা। তবে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে আবির্ভূত শিক্ষাক্ষেত্রের বিভিন্ন বিভাগে অস্থিরতা ও নানা সমস্যাগুলোই আমার কাছে সবচেয়ে বড় হুমকি মনে হচ্ছে। এর শেষ কোথায়? আমরা কি আবারো পুরনো পথে? পূর্বাভাস ও অতীত অভিজ্ঞতা তাই বলছে। টুইস্ট হিসেবে যদি ভাল কিছু হয় তবেই রক্ষে! না হলে এ সর্বনাশের দায়ভার আমাদের অগ্রজ প্রজন্মকেই নিতে হবে বিশেষ করে মোড়লদের, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবীদের।

রাত ০১:৩০ মিনিট, ১৩.০৮.২০১২ ইং, পোর্ট কলোনী, চট্টগ্রাম।