ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

এশিয়া কাপ ক্রিকেটের গ্রুপ পর্বের ৪র্থ ম্যাচে আগামীকাল শুক্রবার স্বাগতিক বাংলাদেশ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের মোকাবেলা করবে। বাংলাদেশের জন্য এটি ডু অর ডাই ম্যাচ। শচীন মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেও স্বাগতিকরা শচীন ও ভারতীয়দের স্বপ্নকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করে এ ম্যাচে জয়লাভ করতে চায়। উল্লেখ্য, নিজেদের ১ম ম্যাচে ভারত জিতলেও বাংলাদেশ পরাজিত হয়। দিবারাত্রির এ খেলাটি মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২:০০ টায় শুরু হবে।

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জিতে ভারত ফাইনাল নিশ্চিত করতে চায়। বাংলাদেশকে যথেস্ট সমীহের চোখে দেখা ভারতের চিন্তা তাদের বোলিং ডিপার্টমেন্ট নিয়ে। তবে লঙ্কানদের বিপক্ষে জিতে তারা অনেক নির্ভার। অগণিত ক্রিকেট ভক্তদের প্রত্যাশা লিটল মাস্টার এ ম্যাচে কাঙ্খিত শতক পাবেন। প্রত্যাশার চাপ সাভলাতে পারবেন কী লিটল মাস্টার? এ ম্যাচে ভারতীয় একাদশে রবীন্দ্র জাদেজার পরিবর্তে অলরাউণ্ডার ইউসুফ পাঠান অন্তর্ভূক্ত হতে পারেন।

সম্ভাব্য ভারতীয় দল: ১। শচীন টেণ্ডুলকার ২। গৌতম গাম্ভীর ৩। বিরাট কোহলি ৪। রোহিত শর্মা ৫। সুরেশ রায়না ৬। মহেন্দ্র সিং ধোনি (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক) ৭। রবীন্দ্র জাদেজা/ইউসুফ পাঠান ৮। ইরফান পাঠান ৯। রবিচন্দ্র আশ্বিন ১০। প্রাভিন কুমার ১১। বিনয় কুমার

স্পটলাইটে: বিরাট কোহলি সাম্প্রতিক ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম আলোচিত নাম। দূর্দান্ত ব্যাটিং ফর্মে থাকা এ ব্যাটসম্যান এরই মাঝে ওয়ানডেতে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ভারতীয় সহ-অধিনায়ক কী আগামী দিন আরেকটি সেঞ্চুরী করে জহির আব্বাস, সাঈদ আনোয়ার, হার্শেল গিবস, এবি ডি ভিলিয়ার্সের বিশ্বরেকর্ডের পাশে নিজের নাম লেখাবেন?

নজর রাখুন: ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে রোহিত শর্মা বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিভাবান তরুণ ব্যাটসম্যান। ৩৩.১৪ ক্যারিয়ার গড়ের বিপরীতে বাংলাদেশের বিপক্ষে তার গড় মাত্র ১৬.০০। বড় ইনিংস খেলে তিনি চাইবেন দলে স্থায়ী জায়গা করে নিতে।

তারকা খেলোয়াড়: একসময় কিংবদন্তী পেস বোলার ওয়াসিম আকরাম ইরফান পাঠানের মধ্যে তার ছায়া দেখতে পেয়েছিলেন। কিন্তু বিখ্যাত গ্রেগ চ্যাপেল তত্ত্ব, ফর্মহীনতা ও ইনজুরির কারণে তিনি হারিয়ে যেতে বসেছিলেন। তবে ইরফান সম্প্রতি ওয়ানডেতে ভালো পারফরম্যান্স করে ফর্মে ফিরার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। প্রতিশ্রুতিশীল এই অলরাউণ্ডার দলের হয়ে দীর্ঘদিন খেলতে চান। কাল কী পারবেন নিজেকে মেলে ধরতে?

ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও ক্লোজ ম্যাচে পরিণত ব্যাটিংয়ের অভিজ্ঞতার অভাবে স্বাগতিক বাংলাদেশ পাকিস্তানের নিকট ২১ রানে পরাজিত হয়। টূর্ণামেন্টে টিকে থাকলে হলে স্বাগতিকদের জন্য এ ম্যাচ জয়ের কোন বিকল্প নেই। বাংলাদেশ দলে আছেন সাকিব, তামিম, মাশরাফির মত বিশ্বমানের খেলোয়াড়। এছাড়াও আছেন অধিনায়ক মুশফিক, অভিজ্ঞ রাজ্জাক ও তরুণ নাসিরের মত প্রতিভাবান ক্রিকেটাররা। এদের উপর ক্রিকেটপাগল সমর্থকদের অনেক প্রত্যাশা। পারবে কী তারা এ প্রত্যাশা মিটাতে? এ ম্যাচে বাংলাদেশ দল আগের ম্যাচের একাদশ নিয়েই মাঠে নামতে পারে। তবে দলে শফিউলের পরিবর্তে নাজমুলকে দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছুই নেই।

সম্ভাব্য বাংলাদেশ দল: ১। তামিম ইকবাল ২। নাজিম উদ্দিন ৩। মাহমুদউল্লাহ ৪। সাকিব আল হাসান ৫। মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক) ৬। জহুরুল ইসলাম ৭। নাসির হোসেন ৮। মাশরাফি বিন মুর্তজা ৯। আবদুর রাজ্জাক ১০। শফিউল ইসলাম/নাজমুল হোসেন ১১। শাহাদাত হোসেন।

স্পটলাইটে: ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের পাওয়া ২ টি জয়ী ম্যাচেরই নায়ক ও ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হলেন সদ্যই ইনজুরি থেকে ফেরা মাশরাফি বিন মুর্তজা। ২০০৪ সালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের জয়ী ম্যাচে তার অবদান ছিল ৩১ রান ও ২ উইকেট। ২০০৭ সালে স্মরণীয় বিশ্বকাপের বি গ্রুপের ১ম ম্যাচে প্রিয় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মাত্র ৩৮ রানে ৪ উইকেট লাভ করে তথাকথিত বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইন আপ গুঁড়িয়ে দিয়ে দলের জয়ে মূখ্য অবদান রাখেন। ক্যরিয়ারে তিনি ১২১ ম্যাচে ১৫.২৯ গড়ে ১১৭৮ রান এবং ৩১.০১ গড়ে ১৫২ উইকেট লাভ করেন। এর মধ্যে ভারতের বিপক্ষে ৭ ম্যাচে ৪১.৬৬ গড়ে ১২৫ রান ও ৩৫.১১ গড়ে ৯ উইকেট লাভ করেন। এবারের এশিয়া কাপের ১ম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে স্বরুপে ফেরার ইঙ্গিত দেন দেশসেরা এ পেসার। এ ম্যাচে কী তিনি প্রিয় প্রতিপক্ষকে সামনে পেয়ে ঝলসে উঠবেন?

নজর রাখুন: বাংলাদেশ দলের সহ-অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ একজন ভালো ব্যাটসম্যান, কার্যকরী অফ স্পিনার ও ক্ষীপ্রগতির ফিল্ডার। পাকিস্তানের বিপক্ষে সম্পূর্ণ ব্যর্থ রিয়াদ নিজেকে প্রমাণ করার অপেক্ষায় আছেন।

তারকা খেলোয়াড়: মুশফিকুর রহিম বর্তমানে দলের অধিনায়ক। তিনি ৫৬ রানে অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে দলের বিজয় নিশ্চিত করেন। দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার এটি এক বিরাট সুযোগ তরুণ মুশফিকের সামনে।

টসজয়ী দল রান চেজ করতে চাইবে। এ ম্যাচের উইকেটে টার্ণ থাকতে পারে। মিরপুরের আদর্শ ক্রিকেটীয় উইকেটে ২৪৫-২৬৫ হল চ্যালেন্জিং স্কোর।

হেড টু হেডে এ দু দল ২৩ টি ম্যাচ খেলেছে। ভারতের জয় ২১ বাংলাদেশের ২। বাংলাদেশ ২০০৪ সালের ২৬ ডিসম্বরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়া দু দলের মধ্যকার ওয়ানডে সিরিজের ২য় ম্যাচে ১৫ রানে এবং ১৭ ই মার্চে বিশ্বকাপে কইন্স পার্ক ওভাল, পোর্ট অব স্পেনে গ্রুপ বি এর ম্যাচে ৫ উইকেটে ভারতকে পরাজিত করে। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে ভারত গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় ও বাংলাদেশ সুপার এইটে উঠে। সব দিক দিয়ে ভারত এগিয়ে। তবে নিজেদের পরিচিত মাঠ ও স্টেডিয়াম ভর্তি দর্শকদের বিপুল সমর্থনে টাইগাররাও তাদের মরণ কামড় লড়াই করবে এমন আশায় স্বাগতিক সমর্থকেরা। হবে কী তবে পোর্ট অব স্পেনের পুনরাবৃত্তি?

১৫।০৩।২০১২ ইং