ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে উজ্জীবিত স্বাগতিক বাংলাদেশ একাদশতম এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে আগামীকাল বৃহস্পতিবার শক্তিশালী পাকিস্তানের সাথে লড়বে। দিবারাত্রির এ খেলাটি মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২:০০ টায় শুরু হবে। বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট ভারত ও শ্রীলংকাকে হারিয়ে ফাইনালে আসা স্বাগতিকরা শিরোপা স্বপ্নে বিভোর। তাদের সামনে একদিকে পাকিস্তানি বাধা, সমর্থকদের প্রত্যাশার পাহাড়সম চাপ আর অন্যদিকে নতুন ইতিহাস রচনার হাতছানি। অপর ফাইনালিস্ট পাকিস্তান গ্রুপ পর্বের ১ম দুই ম্যাচ জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করে। এ ম্যাচ সফরকারীদের জন্য শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশন। উল্লেখ্য, গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছে ২১ রানে পরাজিত হয়। পাকিস্তানের শক্তিশালী বোলিংয়ের বিপক্ষে দুর্বার বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরা! রোমাঞ্চকর ফাইনালের পূর্বাভাস। পারবে তো সব বাধা জয় করে ইতিহাস গড়তে বাংলার আত্মবিশ্বাসী ক্রিকেটাররা? হোম অব ক্রিকেটও যে প্রস্তুত স্বাগতিকদের সাথে উৎসবে শামিল হতে!

দূর্দান্ত পারফরম্যান্সে ফাইনালে উঠা স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রধান শক্তি ব্যাটিং। ব্যাট হাতে দুরন্ত ফর্মে আছেন বিধ্বংসী তামিম, ম্যাচ উইনার সাকিব ও তরুণ তুর্কি নাসির। ভারতের বিপক্ষে দায়িত্বশীল ইনিংস খেলা অধিনায়ক মুশফিকের মনোবলও চাঙ্গা। রিয়াদও ফর্মে ফেরার পথে। নাজিম, জহুরুলও নিজেদের প্রমাণের অপেক্ষায়। ঐদিকে মাশরাফির চমৎকার কৃপন বোলিং, নাজমুলের দূর্দান্ত কামব্যাক, অভিজ্ঞ রাজ্জাক, সাকিবের চমৎকার স্পিনে ২৩২ রানেই অলআউট হয়েছিল লঙ্কানরা। শাহাদাতও জ্বলে উঠতে প্রস্তুত। টিম বাংলাদেশে এখন ম্যাচ উইনারদের ছড়াছড়ি! স্বপ্নযাত্রার বাস্তবায়ন হবে মাঠে এমনই দৃঢ়প্রত্যয় সাকিব, মুশফিকের। ফাইনালে খুব সম্ভবত শ্রীলংকার বিপক্ষে খেলা একাদশ নিয়েই মাঠে নামবে টাইগাররা।

সম্ভাব্য বাংলাদেশ দল: ১। তামিম ইকবাল ২। নাজিম উদ্দিন ৩। মাহমুদউল্লাহ ৪। সাকিব আল হাসান ৫। মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক) ৬। জহুরুল ইসলাম ৭। নাসির হোসেন ৮। মাশরাফি বিন মুর্তজা ৯। আবদুর রাজ্জাক ১০। নাজমুল হোসেন ১১। শাহাদাত হোসেন।

ফাইনালের পথে:
১ম ম্যাচ: ১১ ই মার্চ, প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। ফলাফল: পাকিস্তান ২১ রানে জয়ী।
টস: বাংলাদেশ জয়ী। ম্যান অব দ্যা ম্যাচ: মোহাম্মদ হাফিজ (পাকিস্তান)।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ২৬২/৮ (৫০ ওভারে; হাফিজ ৮৯,জামসেদ ৫৪, শাহাদাত ৩/৫৩, সাকিব ২/৪১)
বাংলাদেশ: ২৪১/১০ (৪৮.১ ওভারে; তামিম ৬৪, সাকিব ৬৪, গুল ৩/৫৮, হাফিজ ২/৪০)

২য় ম্যাচ: ১৬ ই মার্চ, প্রতিপক্ষ ভারত। ফলাফল: বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী।
টস: বাংলাদেশ জয়ী। ম্যান অব দ্যা ম্যাচ: সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ)।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২৮৯/৫ (৫০ ওভারে; শচীন ১১৪, রায়না ৫১, মাশরাফি ২/৪৪, রাজ্জাক ১/৪১)
বাংলাদেশ: ২৯৩/৫ (৪৯.২ ওভারে; তামিম ৭০, নাসির ৫৪, প্রাভিন ৩/৫৬, জাদেজা ১/৩২)

৩য় ম্যাচ: ২০ ই মার্চ, প্রতিপক্ষ শ্রীলংকা। ফলাফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।
টস: বাংলাদেশ জয়ী। ম্যান অব দ্যা ম্যাচ: সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ)।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলংকা: ২৩২/১০ (৪৯.৫ ওভারে; কাপুগেদারা ৬২, থারাঙ্গা ৪৮, নাজমুল ৩/৩২, রাজ্জাক ২/৪৪)
বাংলাদেশ: ২১২/৫ (৩৭.১ ওভারে, টার্গেট ২১২ রান ৪০ ওভারে; তামিম ৫৯, সাকিব ৫৬, কুলাসেকারা ২/৩০, সেনানায়েকে ২/৩৮)

স্পটলাইটে: বিশ্বসেরা অলরাউণ্ডার ও বর্তমানে বাংলাদেশ দলের মেরুদণ্ড সাকিব আল হাসানের বিচক্ষণ ব্যাটিং, ঘূর্ণি বোলিং ও অসাধারণ ফিল্ডিং নৈপূণ্যে ইতিহাস গড়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে টাইগাররা। বাংলাদেশের শেষ ৩০ জয়ের ৮ টিতেই ম্যাচসেরা এ অলরাউণ্ডারের এশিয়া কাপের পারফরম্যান্স: (২/৪১,৬৪), (০/৬৩, ৪৯) ও (২/৫৬, ৫৬)। ভারত ও লঙ্কানদের বিরুদ্ধে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হওয়া এ তারকা খেলোয়াড় ক্যারিয়ারে ১২৫ ম্যাচ খেলে ৩৫.৩১ গড়ে ৩৫৬৭ রান ও ২৮.৯৭ গড়ে ১৫৮ উইকেট লাভ করেন। ব্যাটিংয়ে ও বোলিংয়ে যথাক্রমে তিনি বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ও ২য় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে তার ১০ ম্যাচে ৩৩.৯০ গড়ে ৩৩৯ রান ও ৩২.৩৮ গড়ে পাওয়া ১৩ উইকেট ক্যারিয়ার রেকর্ডের তুলনায় একটু ম্রিয়মান। প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী সাকিবের সামনে ফাইনালে আরেকটি অলরাউণ্ড পারফরম্যান্স করে সত্যিকারের সুপার স্টার হওয়ার হাতছানি। পারবেন তিনি সে সুযোগ কাজে লাগাতে?

নজর রাখুন: নাসির হোসেন এবারের এশিয়া কাপের অন্যতম ধারাবাহিক পারফর্মার। প্রতিভাবান এ ব্যাটসম্যান পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪৭ রান করে দলকে জিতাতে না পারলেও ডু অর ডাই ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে ৩৮ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। ভারতের বিপক্ষেও ৫৪ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলে দলের জয়ে ভূমিকা রাখেন। ধারাবাহিক রানের মধ্যে থাকা নাসির একজন ভালো ব্যাটসম্যান, স্পিন বোলার ও চৌকস ফিল্ডার। ১৩ ম্যাচের ছোট্ট ক্যারিয়ারে তিনি ১ শতক ও ৩ অর্ধশতকে ৪৩.৪৪ গড়ে ৩৯১ রান ও ৫৪.৩৩ গড়ে ৩ উইকেট লাভ করে দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন। ঐতিহাসিক ফাইনাল ম্যাচে আগামীকাল চাইবেন নিজেকে উজাড় করে দিতে। টূর্ণামেন্ট জুড়ে পার্শ্বনায়ক হয়ে থাকা নাসির কী হতে পারবেন ফাইনাল ম্যাচের নায়ক?

তারকা খেলোয়াড়: তামিম ইকবাল দলের নির্ভরযোগ্য ড্যাশিং ব্যাটসম্যান। ২০১১ সালের উইজডেন ক্রিকেটার অব দ্যা ইয়ার হওয়া এ ওপেনার এশিয়া কাপ শুরুর আগে থেকেই আলোচনার প্রধান অংশ জুড়ে। ফর্মহীনতার অজুহাতে নির্বাচকদের দলে থেকেও বোর্ড সভাপতির নগ্ন হস্তক্ষেপে তার দল থেকে বাদ পড়া, এ ইস্যুতে প্রধান নির্বাচকের পদত্যাগ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে আকরামের প্রত্যাবর্তনের সাথে তার দলে অন্তর্ভূক্তি; সব মিলিয়ে তামিমের প্রমাণ করার ছিল অনেক কিছু। এশিয়া কাপে ৬৪,৭০,৫৯ রানের তিনটি ধারাবাহিক অর্ধশতক করে তিনি সব সমালোচনার যথার্থ জবাব দিয়েছেন। ফর্মে ফেরা এ ব্যাটসম্যানের সামনে এখন নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ। সমর্থকদের প্রত্যাশা মিটিয়ে আগামীকাল ঝলসে উঠবে তার ব্যাট!

ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে আনপ্রেডিক্টেবল দল পাকিস্তান। তারা বাংলাদেশকে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে কোনমতে হারিয়েছে। শ্রীলংকার বিপক্ষে সহজ জয় পেলেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ৩২৯ রান করেও পরিজিত হয়। দলের দুই ওপেনার আছেন দুরন্ত ফর্মে। মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা নিয়মিত রান পাচ্ছেন না। তবে অভিজ্ঞ ইউনিস, অধিনায়ক মিসবাহ, মারমুখী উমর যে কোন সময় ম্যাচের ভাগ্য ঘুরিয়ে দিতে পারেন। বুমবুমের (আফ্রিদি) ব্যাটে তেমন রান নেই। উইকেটের পেছনে অনিয়মিত উইকেটকিপার উমরের চোখে পড়ার মত ব্যর্থতাই ভারতের কাছে হারের কারণ বলে অনেকের ধারণা। সেদিক থেকে পাকিস্তানের বোলিং অনেক শক্তিশালী যদিও কোহলির অনবদ্য ব্যাটিংয়ে শেষ ম্যাচে তাদের বোলিং এ্যাটাককে নড়বড়ে মনে হয়েছে। অভিজ্ঞ গুলের সাথে তরুণ এজাজ, বিশ্বসেরা স্পিনার আজমলের সাথে আফ্রিদি, হাফিজ; সব মিলিয়ে বৈচিত্র্যময় বোলিং ইউনিট। গুল ৭ টি, আজমল ৬ টি ও চিমার ৫ টি করে উইকেট লাভ করে এখন পর্যন্ত টূর্ণামেন্টের সেরা তিন উইকেট শিকারী। ভারতের বিপক্ষে ব্যর্থতা ভুলে তারাও প্রস্তুত শিরোপা তাদের ঘরে নিতে। পারবে তারা স্বাগতিকদের ডিঙ্গাতে? উইকেটরক্ষক সরফরাজ আহমেদ এ ম্যাচের একাদশে নিশ্চিতভাবে ফিরছেন। ওয়াহাব রিয়াজের বাদ পড়ার সম্ভাবনা বেশী। এছাড়া হাম্মাদ আযমের জায়গায় আসাদ সফিক খেলতে পারেন।

সম্ভাব্য পাকিস্তান দল: ১। মোহাম্মদ হাফিজ ২। নাসির জামসেদ ৩। ইউনিস খান ৪। উমর আকমল ৫। মিসবাহ-উল-হক (অধিনায়ক) ৬। আসাদ সফিক/হাম্মাদ আযম ৭। শাহিদ আফ্রিদি ৮। সরফরাজ আহমেদ (উইকেটরক্ষক) ৯। উমর গুল ১০। সাঈদ আজমল ১১। এজাজ চিমা

ফাইনালের পথে:
১ম ম্যাচ: ১১ ই মার্চ, প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। ফলাফল: পাকিস্তান ২১ রানে জয়ী।
টস: বাংলাদেশ জয়ী। ম্যান অব দ্যা ম্যাচ: মোহাম্মদ হাফিজ (পাকিস্তান)।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ২৬২/৮ (৫০ ওভারে; হাফিজ ৮৯,জামসেদ ৫৪, শাহাদাত ৩/৫৩, সাকিব ২/৪১)
বাংলাদেশ: ২৪১/১০ (৪৮.১ ওভারে; তামিম ৬৪, সাকিব ৬৪, গুল ৩/৫৮, হাফিজ ২/৪০)

২য় ম্যাচ: ১৫ ই মার্চ, প্রতিপক্ষ শ্রীলংকা। ফলাফল: পাকিস্তান ৬ উইকেটে জয়ী।
টস: শ্রীলংকা জয়ী। ম্যান অব দ্যা ম্যাচ: এজাজ চিমা (পাকিস্তান)।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলংকা: ১৮৮/১০ (৪৫.৪ ওভারে; সাঙ্গাকারা ৭১, থারাঙ্গা ৫৭, চিমা ৪/৪৬, আজমল ৩/২৭)
পাকিস্তান: ১৮৯/৪ (৩৯.৫ ওভারে; উমর আকমল ৭৭, মিসবাহ-উল-হক ৭২*, লাকমাল ২/৩৭, মাহারুফ ১/২৩)

৩য় ম্যাচ: ১৮ ই মার্চ, প্রতিপক্ষ ভারত। ফলাফল: ভারত ৬ উইকেটে জয়ী।
টস: পাকিস্তান জয়ী। ম্যান অব দ্যা ম্যাচ: বিরাট কোহলি (ভারত)।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ৩২৯/৬ (৫০ ওভারে; জামসেদ ১১২, হাফিজ ১০৫, দিন্দা ২/৪৭, প্রাভীন ২/৭৭)
ভারত: ৩৩০/৪ (৪৭.৫ ওভারে; কোহলি ১৮৩, রোহিত ৬৮, গুল ২/৬৫, হাফিজ ১/৪২)

স্পটলাইটে: মোহাম্মদ হাফিজ পুরো এশিয়া কাপ জুড়ে ব্যাটে, বলে, ফিল্ডিংয়ে চমৎকার পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন। ইনফর্ম এ অলরাউণ্ডার টাইগারদের বিপক্ষে ৮৯ ও ভারতের সাথে ১০৫ রান করেন। বল হাতেও বাংলাদেশের বিপক্ষে ২ উইকেট পান। সে ম্যাচে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হওয়া হাফিজের ক্যারিয়ার ব্যাটিং গড় ও টাইগারদের বিপক্ষে ব্যাটিং গড় প্রায় কাছাকাছি। তবে বোলিংয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে মাত্র ১৮.৭৬ গড়ে ৯ ম্যাচে ১৩ উইকেট লাভ করেন যেখানে তার ক্যারিয়ার রেকর্ড ৯৮ ম্যাচে ৩৩.৪০ গড়ে ৮০ উইকেট! আরেকটি ম্যাচ জয়ী নৈপূণ্যতা প্রদর্শন করে তিনি কী পারবেন বিগ ম্যাচে সব আলোয় নিজেকে আলোকিত করতে?

নজর রাখুন: মিসবাহ-উল-হক পাকিস্তান দলের অধিনায়ক। ঠাণ্ডা মাথায় খেলতে পারেন বলে তার সুনাম আছে। লঙ্কানদের বিপক্ষে ৭৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলের সহজ জয় নিশ্চিত করেন। ক্যারিয়ারে ৯৭ ম্যাচে ৪২.৯৬ গড়ে ২৭৫০ রান করলেও টাইগারদের বিপক্ষে ১১ ম্যাচে ৩২.৮৫ গড়ে ২৩০ রান করেন। কোন অর্ধশতকও নেই। দলের নেতা হিসেবে আগামীকাল বড় ইনিংস খেলে পারবেন সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে!

তারকা খেলোয়াড়: বিশ্বের সেরা স্পিনার সাঈদ আজমল। এবারের এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে প্রতিটি দলের ব্যাটসম্যানরাই তার বল খেলতে সমস্যায় পড়েছেন। বল হাতে অসাধারণ ফর্মে থাকা এ বোলারের টাইগারদের বিপক্ষে রেকর্ডও ইর্ষণীয়। স্বাগতিকদের বিপক্ষে তার ৫ ম্যাচে মাত্র ১৪.৫০ গড়ে ১১ টি উইকেট শিকার। তিনি ঘূর্ণি জাদুতে ফর্মে থাকা টাইগারদের লাগাম টেনে ধরতে পারলেই শিরোপা পাকিস্তানের!

টসজয়ী দল রান চেজ করতে চাইবে। পুরো টূর্ণামেন্ট জুড়ে প্রচুর রান এসেছে এ ভেন্যুতে। মিরপুরের ব্যাটিং উইকেটে ২৮০-২৯০ হল চ্যালেন্জিং স্কোর।

ওয়ানডেতে এ পর্যন্ত খেলা ২৬১ ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৭২ টিতে ও হেরেছে ১৮৭ টিতে।অপরদিকে পাকিস্তান ৭৬৮ ম্যাচে ৪১৪ টিতে জয় পেয়েছে ও ৩৩২ টিতে হেরেছে। হেড টু হেডে এ দু দল ৩০ টি ম্যাচ খেলেছে। বাংলাদেশের জয় ১ পাকিস্তানের ২৯। বাংলাদেশের একমাত্র জয়টি ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে পাওয়া। ৩১ শে মে নর্দাম্পটনের সেই অবিস্মরণীয় ম্যাচে বাংলাদেশ ৬২ রানে জয়লাভ করে।

পরিসংখ্যান ও ইতিহাস পাকিস্তানের পক্ষে থাকলেও উজ্জীবিত এ বাংলাদেশ কোন অংশে কম নয়। দূর্দান্ত খেলে ফাইনালে উঠে আসা এ দলের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা ক্রিকেটপ্রেমী বিপুল দর্শক। স্বাধীনতা যুদ্ধের এ মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রতিশোধের বাড়তি স্পৃহাতো আছেই। ইতিহাস গড়ে ফাইনালে উঠা টাইগাররা নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাল মাঠে নামবে। গুল, আজমল, আফ্রদিদের বিরুদ্ধে স্বরূপে ফিরবেন সাকিব, তামিম, মুশফিকরা এবং মাশরাফি, রাজ্জাক, সাকিবের বলে ব্যর্থ হবেন হাফিজ, ইউনিস, মিসবাহরা; এমন প্রার্থনায় দেশবাসী। ক্রিকেট যুদ্ধে স্বপ্নের শিরোপা থেকে এক কদম দূরে দাড়িয়ে থাকা বাংলার দামাল ছেলেরা আবারো ঝলসে উঠুক। নিশ্চিত করুক আরেকটি বিজয়। শিরোপা তবেই না আমাদের ঘরে!

মোঃ মুজিব উল্লাহ
mdmujib_ullah@yahoo.com
২১।০৩।২০১২ ইং

***
ফিচার ছবি: http://bangla.bdnews.com থেকে সংগৃহিত