ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

পুরনো ইতিহাস বদলে দিয়ে নতুনভাবে গড়ার সোনালী পূর্বাভাস। বাঁধভাঙ্গা আবেগ আর প্রত্যাশায় ক্রিকেটীয় জাগরণের উচ্ছ্বাস। সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে রানার্সআপ হয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল তারই জানান দিল। তবুও ঘুরে ফিরে মাত্র ২ টি রান! কত অল্প না পাওয়ার কাব্যিক গল্প। স্বপ্নরথে চড়ে পাড়ি দেয়া হল না ইতিহাস। ঐদিকে মুশফিকের যে দৃপ্ত ঘোষণা “ এটা কেবল শুরু ইনশাল্লাহ। আপনাদের জন্য ভবিষ্যতে আরো অনেক রেজাল্ট আসবে ইনশাল্লাহ।“

একাদশতম এশিয়া কাপ ক্রিকেটে টাইগারদের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। তবে কেউই বাংলাদেশ দলের এ ধারাবাহিক ভালো খেলাকে কাকতালীয় বলার সুযোগ পাচ্ছেন না। আর সেখানেই আগামীর সম্ভাবনার ভিত্তিপ্রস্তর নির্মিত। যার কেন্দ্রে আছেন সাকিব আল হাসানের মত আগামীর সুপারস্টার! তাহলে বলার সময় এসেছে ক্রিকেট বিশ্বে নতুন পরাশক্তি বাংলাদেশ?

এবারের এশিয়া কাপ থেকে আমাদের অর্জনের তালিকাটা বিশাল। প্রথমবারের মত এশিয়া কাপের রানার্স আপ হওয়া, টানা ৪ টি ম্যাচে ধারাবাহিক খেলা, প্রথম কোন টূর্ণামেন্টে একই সাথে ভারত ও শ্রীলংকাকে হারানো, মিঃ কনসিসটেন্ট সাকিবের দূর্দান্ত অলরাউণ্ড পারফরম্যান্স, ব্যটিংয়ের নিউক্লিয়াস তামিমের রেকর্ড টানা চারটি অর্ধশতক, তরুণ নাসিরের বৃহৎ মঞ্চে সাফল্য লাভ, দেশসেরা পেসার মাশরাফির স্বরুপে ফিরে আসা, রাজ্জাকের বোলিং ফর্ম, ফিল্ডিংয়ে লক্ষণীয় উন্নতি, সাফল্য পাওয়ার দৃঢ় আকাঙ্খা ইত্যাদি। এতসব অর্জনের পর আমাদের পেছনে তাকানোর কোন মানেই হয় না। এশিয়া কাপ ক্রিকেটে খেলা টাইগারদের গড় বয়স ছিল ২৫ বছর। উঠতি বয়সের ক্রিকেটারদের প্রতিভা নিয়ে কোন সংশয় নেই। তবে প্রতিভার যথার্থ বিকাশই হল আসল চ্যালেঞ্জ। ব্যক্তিগত ঝলকের চেয়ে এ খেলায় দলীয় প্রচেস্টাই হল সাফল্য লাভের জন্য অধিক গুরূত্বপূর্ণ। আর সেটাই দেখিয়েছে `টিম বাংলাদেশ`।

আমরা কিভাবে বিশ্বসেরা ক্রিকেটের পরাশক্তি হতে পারি চলুন সেদিকে নজর দেই। আমাদের ক্রিকেটে বিশাল সম্ভাবনা যেমন আছে তেমনি আছে প্রশাসনিক বাধা। এশিয়া কাপের দল নির্বাচন নিয়ে যা হয়ে গেল তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার সময় এসেছে। যাকে নিয়ে সমস্যা ছিল সেই তামিম এর দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছেন তার ব্যাটেই। দল নির্বাচনে বোর্ড কর্তাদের নগ্ন হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। দল নির্বাচনে নির্বাচকদের পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। আর নির্বাচকদেরও মনে রাখতে হবে পারফরম্যান্সই যে কোন খেলোয়াড়ের দলে জায়গা পাওয়ার প্রধান বিবেচ্য বিষয়। তাদের স্বজনপ্রীতি ও কারো প্রতি দূর্বলতার অভ্যাস পরিহার করতে হবে। এক্ষেত্রে তাদের পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে হবে। ক্রিকেট ঢাকা ও চট্টগ্রামের বৃত্তে আবদ্ধ না রেখে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। বগুড়া, খুলনায়ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করতে হবে। ক্রিকেটীয় ক্যালেণ্ডার ঢেলে সাজাতে হবে। উপমহাদেশের বাইরে ভালো খেলতে হলে ম্যাড়ম্যাড়ে ব্যাটিং উইকেট না বানিয়ে স্পোর্টিং বানাতে হবে। ঘরোয়া লীগে ঘাসের উইকেটে খেলোয়াড়দর খেলার ব্যবস্থা করতে হবে। ঘরোয়া টূর্ণামেন্টগুলোকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশ এগোতে পারে। দলে ঘন ঘন পরিবর্তন না এনে রোটেশন পলিসি মেনে চলা যেতে পারে।

(চলবে)

মোঃ মুজিব উল্লাহ: mdmujib_ullah@yahoo.com