ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

(পূর্ব প্রকাশের পর)

বাংলাদেশের পাকিস্তান সফরের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বিসিবি প্রেসিডেণ্টকে বাঁচিয়ে দিলেন আদালত! স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলল ক্রীড়াঙ্গনের সবাই। এ থেকেও যদি আ হ ম মুস্তফা কামালের শিক্ষা না হয় তাহলে উনার সামনে ভয়াবহ আগামী অপেক্ষা করবে। এবার দৃষ্টি দিই টি টুয়েণ্টি স্কোয়াডের দিকে।

গত পর্বে দুই ওপেনার হিসেবে তামিম ও নাজিমের সম্ভাবনার কথাই বলেছি। তবে আইপিএলে সাকিব কয়েকটি ম্যাচ খেললেও তামিম এখনো পর্যন্ত কোন ম্যাচ খেলতে পারেন নি। স্কোয়াডে পাঁচজন স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান খেললে দুই ওপেনারের পর আর বাকি থাকে তিনটি স্থান। এর জন্য লড়াই হবে জহুরুল, নাসির, আশরাফুল, রিয়াদ এমনকি জুনায়েদ, ইমরুলও বিবেচনায় আসতে পারেন যদি ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন আসে।

জাতীয় দলে জায়গা পেয়ে অতি অল্প সময়ে যে তরুণ তার নজরকাড়া নৈপূন্য দিয়ে দর্শক ও ক্রিকেটবোদ্ধাদের মন জয় করেছেন তিনি হলেন নাসির হোসেন। তার স্থান স্কোয়াডে নিশ্চিত। গত পর্বে নাসিরের বিপিএল ও এশিয়া কাপের পরিসংখ্যান দিয়েছি। এছাড়া, ২ টি আন্তর্জাতিক টি টুয়েণ্টি খেলে তিনি ১ ইনিংসে অপরাজিত থেকে ১০০ স্ট্রাইক রেটে, ৫৩ গড়ে ৫৩ রান করেছেন ও বোলিংয়ে ২ ওভারে ১৪ রান দিয়ে ১ উইকেট পেয়েছেন। তার মাঠে ফিল্ডিংয়ের সময় সপ্রতিভ উপস্থিতি ও ব্রেক থ্রু এনে দেওয়ার ক্ষমতা ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম এ ভার্সনে তাকে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের মর্যাদায় আসীন করেছে।

এরপরেই দলে স্থান পাওয়ার কথা সাবেক অধিনায়ক আশরাফুলের। অনেকে চমকে উঠছেন এই ভেবে যে আশরাফুল তো এশিয়া কাপের স্কোয়াডেই ছিলেন না। কিন্তু অনেকেরই হয়তো জানা নেই এ ফরম্যাটের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে যে বাংলাদেশীর রান সবচেয়ে বেশী সে এই আশরাফুলেরই। ১৬ ম্যাচে ১৬ ইনিংসে ১৮.০৪ গড়ে ২ টি অর্ধশতসহ ১৪১.৬৬ স্ট্রাইক রেটে ২৮৯ রান করেছেন। তার স্ট্রাইক রেট জুনায়েদ ছাড়া অন্য সকল স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যানের চেয়ে ভাল। আন্তর্জাতিক টি টুয়েণ্টিতে ইমরুলের স্ট্রাইক রেট ৬৪.৮৬, জহুরুলের ১৫০.০০ (মোট সংগ্রহ ১৮ রান), মাহমুদ উল্লাহর ৬২.৭৯। আশরাফুল বোলিংয়েও ৮ টি ঊইকেট লাভ করেছেন। বিপিএলেও ১১ ইনিংসে ২৮.৬৬ গড়ে ২৫৮ রান করে দেশীয়দের মধ্যে ২য় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন। আর তার দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ম্যচ খেলার অভিজ্ঞতা তো আছেই।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে অলরাউণ্ডার বিবেচনা করলে বাকি স্থানের জন্য লড়াইটা সীমিত হয়ে যায় জহুরুল ও জুনায়েদের মধ্যে। জহুরুল ও জুনায়েদ যেহেতু মূলত ব্যাটসম্যান তাই রিয়াদের ব্যাটিংটাই শুধুমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে স্থান পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিক বিবেচনায় রাখা উচিত। জহুরুলের ক্ষেত্রে বোনাস পয়েন্ট হল তিনি কিপিংও করে থাকেন। নির্বাচকরা হয়তো এ বিষয়টি প্রাধান্য দিবেন। বিপিএলে জহুরুল ১০ ইনিংসে ১৪.৪০ গড়ে ১৪৪ রান করেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রিয়াদের ব্যাটিংয়ে স্ট্রাইক রেট কম। তবে ২০১১ সালে ওয়ানডেতে ভাল ব্যাটিং, বিপিএলে ৯ ইনিংসে ২৫.৭১ গড়ে ১৮০ রান ও তার বোলিং, ফিল্ডিং তার হয়ে কথা বলবে। আর জুনায়েদ সম্পর্কে গত পর্বে পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে। রিয়াদকে অলরাউণ্ডার কোটায় বিবেচনা করে আমি সব দিক বিবেচনা করে জুনায়েদকে দলে নেওয়ার পক্ষপাতী। আবার যদি ওপেনার হিসেবে তিনি তামিমের সাথে স্থান পান সেক্ষেত্রে জহুরুলই দলে ঢুকবেন বলে আমার ধারণা। মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে আমার পছন্দ আশরাফুল, জুনায়েদ, নাসির হোসেন।

দলের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান ও অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের আন্তর্জাতিক টি টুয়েণ্টি রেকর্ড খুব বেশি সমৃদ্ধ নয়। তিনি ১৭ ম্যাচে ১৫ ইনিংসে ৫ বার অপরাজিত থেকে ১৩৬ রান করেছেন। ১৩.৬০ গড়ে ও ৯৫.৭৭ স্ট্রাইক রেটে তার এ অবদান। তবে বিপিএলে তিনি ৯ ইনিংসে ৩৯ গড়ে ২৩৪ রান করেছেন। দলের অধিনায়ক হিসেবে তাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। আর তা হয়ে উঠলে দ্বিতীয় পর্বে যাওয়ার আশা করতে পারে বাংলাদেশ।

(চলবে)

মোঃ মুজিব উল্লাহ: mdmujib_ullah@yahoo.com

পূর্ববর্তী পর্বগুলোর লিংক:
ক্রিকেট বিশ্বে নতুন পরাশক্তি বাংলাদেশ! (১ম পর্ব)
ক্রিকেট বিশ্বে নতুন পরাশক্তি বাংলাদেশ! (২য় পর্ব)
ক্রিকেট বিশ্বে নতুন পরাশক্তি বাংলাদেশ! (৩য় পর্ব)
ক্রিকেট বিশ্বে নতুন পরাশক্তি বাংলাদেশ! (৪র্থ পর্ব)