ক্যাটেগরিঃ নাগরিক মত-অমত

খেলার মাঠ-আত্মীয়স্বজন-গাছগাছালি এমনকি পিতামাতার স্নেহরস থেকে বঞ্চিত বছর পনেরোর বুবুন দিনরাত ডুবে থাকে ডিজিটাল গেমে। সেখানে ডিজিটাল খুনোখুনি। শেষে বাস্তব ও অবাস্তবের সীমানা ভুলে গিয়ে খুন করে বাবা-মাকেই !

ভয় পেলেন? না। ভয়ের অতটা প্রয়োজন নেই। কারণ এটা গল্পই। আবার তা ‘গল্প হলেও সত্যি’। সত্যি, কারণ ঘরের শত্রু ‘টিভিসন’-কে বেমক্কা ফুটিয়ে দিয়েছে মোবাইল ফোন। তাতে হনু-কানু-রাণু আছে, আছে জিংগালালা পানুও ! তবে এসব এখন পানসে। আসলে নীল তিমির খপ্পরে এখনকার কিশোর-কিশোরীরা। ‘ব্লু হোয়েল’ এক ধরণের সুইসাইড গেম, আড়াল থেকে কেউ তাদের বীভৎস ‘টাস্ক’ দিচ্ছে, যার অন্তিম টাস্ক আত্মহত্যা ! এখানেই খেল খতম। জিতেও মরে যাওয়া। এবং মরছেও। আত্মহত্যা একশোর বেশি ছাড়িয়েছে গোটা পৃথিবীতে। থাবা বসিয়েছে ভারতেও। পাংচারের পর এবারে টায়ার ফাটা। তা ফাটবে। এবং ফাটছেও। এই ধরুন বুবুন-বুবুনিরা এখন আবার মেতেছে ‘রেপ গেম’-এ। ছেলেরা পাচ্ছে ভার্চুয়াল রেপ করার বীভৎস মজা, আর মেয়েরা পালাচ্ছে, ধরা পড়লেই গণধর্ষণ! আরে হ্যাঁ, আমার-আপনার নিরীহ অ্যানড্রয়েড ফোনেই হচ্ছে এসব। বাস্তব ও অবাস্তবের লড়াইতে বীভৎস অবাস্তব জিতে যাচ্ছে, হেরে যাচ্ছি আমি-আপনি ও আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম! যদি রাষ্ট্র না এগিয়ে আসে তবে এই ‘বিকার’ থেকে কীভাবে বাঁচাব ওদের?

SUICIDE-600x360

ছবিসূত্র: https://www.4bc.com.au/podcast/john-brogden/

ফোন তো খুবই জরুরি। শুধু রুখে দিতে হবে অপব্যবহার। কিন্তু কীভাবে? মোবাইল ক্যামেরায় ন্যুড ছবি বা ভিডিও তুলেও ব্ল্যাক-মেলিং হচ্ছে, পর্ন-সাইটে আপলোড হচ্ছে। সম্মান খুইয়ে আত্মহত্যাও করছে অনেকেই। এটাও কি কম বীভৎস? নাটক চলাকালীন মোবাইল-ফ্ল্যাশে বিরক্ত হয়ে গৌতম হালদার একদিন বললেন, ‘মোবাইলে গুলি করার অপশন থাকলে হয়তো সেটাও টেস্ট করে দেখতেন অনেকেই!’

‘বুবুন ঘরে ঢুকছে’ গল্পটি তিন বছর আগের। রবীন্দ্র ভারতীর সমাজবিদ্যা বিভাগের প্রধান বাসবী চক্রবর্তী, যিনি প্রাবন্ধিক ও অনুবাদকও বটে, প্রথম গল্পটির প্রশংসা করেন। হয়তো গল্পটি তাঁর চর্চিত জগতে পা ফেলেছিল। প্রশংসা এসেছিল পরে আরও। তবে ঘরে সে আজও ব্রাত্য, যেমন ব্রাত্য হয়েছিল একটি জনপ্রিয় ব্যবসায়িক পত্রিকায়, যেমনটা চেয়েছিলাম, ইচ্ছেটা মিটল তেমনই। উলটো পথে হাঁটার ব্যাপারটাই আলাদা ! ছোটবেলা বাবা বলতেন, ‘ঘরকা মুরগি দাল ( পড়ুন ‘ডাল’) বরাবর।’ আর আমি ভেতো নই, ডেলো বাঙালি। ঘরে-বাইরে তাই নো ফিকর, নো টেনশান। একটা ভাষাকেই ভালবেসে এ-জীবন উৎসর্গ করা, লেখা ছাপা কিংবা না-ছাপার দুঃখ-আনন্দে নয়, সেটা পোষা-ছাপোষাদের জন্য থাকুক আপাতত। বুঝতেই পারছেন, ওই গল্পটি এই অধমেরই। না, এভাবে নিজেকে ‘উত্তম’ ভাবছি না একটুও। কারণ ‘উত্তম’ একজনই, আর তিনি মহানায়ক ‘উত্তমকুমার’ !

এখন আমাদের চিন্তা কিংবা ঘোর দুশ্চিন্তা কীভাবে তরুণপ্রজন্মকে আলোর পথে নিয়ে যাওয়া যায়। ওরা হতাশ। ওরা পিতামাতার স্নেহরস থেকে বঞ্চিত। ওদের দাদুদিদা নেই, কাকুজেঠু নেই, মাঠঘাট-গাছ-পুকুর-কবিতা-নাটক নেই। আসুন আগে সেগুলো ফিরিয়ে দিই ওদের হাতে।