ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

গনপ্রজাতন্ত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে a2i কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় সর্বস্তরের প্রশাসনের সহযোগীতায় ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের প্রয়াসে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যার ফলশ্রুতিতে আমারা দেখতে পাচ্ছি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রনালয় তাদের নিজস্ব ওয়েব সাইড তৈরী করেছেন স্বচ্চতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করনের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারন জনগনের দৌড় গড়ায় তথ্য ও সেবা পৌছে দেবার জন্য। আবার কখনো কখনো সময়ের প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের চাহিদা অনুসারে প্রশাসনের নির্দেশনা ছাড়ায় স্থানীয় প্রশাসন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় প্রত্যাশায় ডিজিটাল গঠনের সময় উপযোগী নিজস্ব দিক নিদের্শনা প্রদান করছেন। যা ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে মাইল ফলক হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। এমনি একটা নির্দেশনার কথা না বললে নয় নোয়াখালী জেলা প্রশাসন থেকে লিখিত একটি নিদের্শনা প্রদান কর হয়। যাতে নিদের্শনা প্রদান করা হয় জেলার সকল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে,এনজিও ও সকল সরকারী প্রতিষ্ঠান সকল কাজ কর্ম তথ্য ও সেবাকেন্দ্র থেকে বাধ্যতামূলক ভাবে করতে হবে। যার ফলশ্রুতিতে জেলার সকল ইউআইএসসি গুলি যেমন প্রাণ ফিরে পেয়েছে তেমনি এ সকল প্রতিষ্ঠানের সকলের মধ্যে ডিজিটাল শব্দটি বলতে কি কি বিষয় বুঝায় তার একটা ধারনা তৈরী হয়েছে।

আমরা ইংল্যাল্ডের সংবিধানের কথা উল্লেখ করতে পারি। বৃটেনের সংবিধান কোন লিখিত সংবিধান নয়। কালের বিবর্তনে মানুষের প্রয়োজনে পূর্ব পুরুষদের প্রচলিত প্রথা, রীতি নীতি আচার আচরন সভ্য সমাজ গঠনে উপযোগী হওয়ায় পরবর্তীতে জনগনের কাছে আইনে পরিণীত হয়েছে।

আমাদের উপর মহলের লিখিত নির্দেশনার অপেক্ষা না করে দেশের সকল ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজড পদ্ধতি সম্প্রসারণের জন্য বৃটেনের জনগনের মত সময়ের চাহিদা অনুসারে স্ব-স্ব স্থান থেকে নির্দেশনা প্রদান করতে পারি বা ভালো কিছু কাজ শুরু করতে পারাই হবে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

পাঠক বৃন্দ উপরের বিষয় গুলির সাথে শিরোনামের মিল না থাকলেও আমি উক্ত বিষয়টি এই জন্য উপস্থাপন করেছি যে, প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা ছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সহায়ক নিজস্ব লিখিত নির্দেশনা প্রদান করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যায় সেটি তুলে ধরার জন্য।

এবার আসি মুল বিষয় সাধারন ডায়েরি করার প্রসঙ্গে। গ্রামের খেটে খাওয়া সাধারন জনগন কোন না কোন সমস্যায় পড়ে । আর তখনই স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে সমাধান, সুবিচার পাবার আশায় ঘুরতে থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে সুবিচার পায় আবার কোন কোন ক্ষেত্রে সুবিচার পায় না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় প্রায় ক্ষেত্রে সঠিক সমাধান, সঠিক বিচার পায়না । যার কারনে এক প্রকার নিরুপায় হয়ে প্রশাসনের সহযোগীতা নিতে যায়।

এই অতি সহজ সরল ব্যক্তিরা থানায় একটা জিডি/ অভিযোগ দায়ের করতে গেলে পথিমধ্যে আমরা দেখতে পায় এক শ্রেনীর টাউট বাটপার থানা ডায়েরি/ অভিযোগ করিয়ে দিবেন বলে মোটা অংকের কষ্টে অর্জিত অর্থ হাতিয়ে নেয়। এমনি নানা ধরনের কথা আমারা শুনতে পায় তথ্য সেবাকেন্দ্র আসা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে।

সরকারী অনেক নীতি রীতি মধ্যে থানায় সাধারন ডায়েরির বিষয়টি বাধ্যতামূলক যেমন- ভোটার আইডি কার্ড, সার্টিফিকেট, ব্যাংকের চেক বই, পাসবই হারিয়ে গেলে ইত্যাদি ইত্যাদি।

গতকাল ৭০ উর্দ্ধ বয়স্ক এক মহিলা ভাতা গ্রহনের পাশ বই হারিয়ে ফেলার কারনে ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে না পেরে ফিরে আসে। ব্যাংক ম্যানেজার বলেছে তাকে থানাই একটা সাধারন ডায়েরি করতে। তিনি তথ্য কেন্দ্রে এসে আমাকে বলেন বাবা তুমি তো আমার ব্যাংক একাউন্টের হিসাব খুলতে সবকিছু করেছিলে তো আমার থানায় ডয়েরিটা একটু করে দাও না। আমি তাকে বললাম, এখান থেকে ডায়েরি করা যায় না ভবিষ্যতে হতে পারে। তিনি আমাকে ছাড়লেন না। বাধ্য হয়ে থানা গিয়ে বইটি হারানো গিয়েছে বলে একটা সাধারন ডায়েরি করে কপি তাকে দিয়ে দিই।

আমাদের প্রশ্ন হলো, অনলাইনে কেন সাধারন ডায়েরি করতে পারবো না?

প্রস্তাবনাঃ

প্রশাসনে উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনার অপেক্ষা না করে নিজস্ব স্থায়ীত্ব ও কর্তব্যের সঠিক সুবিবেচনা করে জনকল্যাণকর নিম্ন লিখিত সিদ্ধান্ত গুলি নেওয়া যেতে পারে।

১. প্রতিটি থানায় নেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। (প্রতিটি থানায় কম পক্ষে একটি করে কম্পিউটার ও প্রিন্টার আছে। কোথাও মডেম ব্যবহৃত হয়)।

২. প্রতিটি থানার অফিসার্স ইনচার্জ এর ইমেল আইডি সর্বত্র প্রচার করতে হবে।

৩. ডায়েরির কপি ই-মেইলের মাধ্যমে থানা অফিসার্স ইনচার্জ বরাবর পাঠানো যেতে পারে এবং থানা কপিটির রিসিভ কপি ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো যেতে পারে।

স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রনালয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিবেদন আমরা কি পারি না নিজস্ব উদ্যোগ গ্রহন করতে। পুলিশ প্রশাসন ভাইয়েরা আপনারা কি পারেন না স্ব উদ্যোগ গ্রহন করে সাধারন জনগনের ভোগান্তি কমাতে। তাহলে আপনাদের অপবাদ যেমন ঘুচাবে তেমনি গ্রামের সাধারন মানুষ সহজে সেবাটি পাবে এবং স্বচ্চতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। এগিয়ে যাবে দেশ। গড়তে সহজ হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ।