ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

বিষয়টা অনেকটা খাল কেটে কুমির শুধু নয়, হাঙ্গর, তিমি, জেলিফিশ এক সঙ্গে আনার মতো। হঠাৎ করে পাকিস্তানকে মিত্র করতে চেয়েছিলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। অবশ্য আগ্রহটা বেশি ছিলো বোর্ড প্রেসিডেন্ট আহম মোস্তফা কামালের। এতে দেশের ক্রিকেটের কি লাভ হতে পারে, তা নিয়ে সংশয় সন্দেহ থাকতে পারে। তবে মোস্তফা কামালের লাভটা ছিলো নগদ নারায়নে।

রোটেশন প্রথা অনুযায়ী আইসিসির সহ-সভাপতির পদটা পেতে ( যা ২ বছর পর সভাপতি হবে) পাকিস্তানের সমর্থন প্রয়োজন ছিলো তার। আর এর বিনিময়ে পাকিস্তানের পাতা ফাদে পা দেন তিনি। সওদা করেন জাতীয় ক্রিকেট দলকে। পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিলো ২০০৯ এর পর নিজ দেশ থেকে নির্বাসিত ক্রিকেটকে ঘরে ফেরানো। কামালকে সমর্থন দেয়ার বিনিময়ে তারা্ও পাকিস্তানে জাতীয় দলের একটা সফরের প্রতিশ্রুতি আদায় করে নেয়।

এরপর সব কিছু চলছিলো পরিকল্পনা মাফিক। মার্চ-এ ৯ সদস্যের দল নিয়ে পাকিস্তানের নিরাপত্তা দেখতে গিয়ে একরকম গ্রীন সিগন্যালই দিয়ে আসেন কামাল। তবে গোল বাধে দেশে ফেরার পরই। ঘরে বাইরে চাপের মুখে ইউটার্ন নেয় বিসিবি।

পাকিস্তানকে বুকে নেয়ায় এমনিতেই ক্ষেপে ছিলো তাদের শত্রু দেশ ভারত। বিপিএলে খেলতে ভারতীয় ক্রিকেটারদের অনুমতি দেয়নি দেশটি। আনন্দবাজার পত্রিকার খবর: এমনকি সৌরভ গাঙ্গুলিকেও আসতে নিষেধ করে তারা। ( ভারত বাংলাদেশ ক্রিকেটের বন্ধু কখনোই ছিলো না। এফটিপিতে ২০২০ সাল পর্যন্ত তাদের দেশে বাংলাদেশের সফর না রাখা, তারই প্রমান।)

কিন্তু সমস্যা বেধেছে এবার পাকিস্তানের সাথেও শত্রুটা জমেছে বাংলাদেশের। ভাইয়ে-ভাইয়ে যে গলায় গলায় পিরিতের আভাষ দিয়েছিলেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট, তা এখন বুমেরাং।
বাংলাদেশ যাচ্ছেনা, এমন আভাষ পেয়ে ঢাকায় ছুটে এসেছিলেন পিসিবি প্রেসিডেন্ট জাকা আশরাফ। কিন্তু তাতেও বরফ গলেনি। শূন্য হাতেই ফিরতে হয়েছে তাকে। পায়ে পা লাগিয়ে অজুহাত তৈরী করার মতো এশিয়া কাপ শেষে বিসিবি হাস্যকরভাবে এসিসির কাছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ফাইনালের শেষ ওভার নিয়ে বিচারও দিলো। এসিসি তা খারিজ করে দেয়ায় পাকিস্তান হেভ্ভি ক্ষেপেছে বিসিবির উপর।

পিসিবির সিইও’র পর এবার বাংলাদেশের সমালোচনা করেছেন সাবেক কর্মকর্তা এহসান মানিও। পিসিবি প্রেসিডেন্টও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন: তারা বাংলাদেশের বিকল্প খুজছেন।

আর শেষ খবরটা হলো: পিসিবি এবার হুমকি দিয়েছে, বাংলাদেশ তাদের দেশে খেলতে না গেলে আগামী বিপিএলে পাকিস্তানীদের খেলতে অনুমতি দেবে না বোর্ড। বুঝো ঠ্যালা।

প্রশ্নগুলো উঠছে তাই স্বাভাবিকভাবে। পেশাদারিত্বের পথে হাটা বিসিবির কি প্রয়োজন ছিলো পিসিবিকে প্রতিশ্রুতি দেয়া। অহেতুক শত্রু বাড়িয়ে নিজের পায়েই কি বিসিবি নিজে কুড়াল মারছে না?