ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

Pic

১৯৯১ সালের পর থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু। লক্ষটা কিন্তু শিক্ষার প্রসারই ছিল, এখনও আছে এবং থাকবেও। আমাদের একশ্রেণীর মানুষের (খুবই কম, এবং সবাই না) কাছে এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টা একটা ভয়াবহ যন্ত্রণার কারন। এই শ্রেণীর সবাই অবশ্যই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অথবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের। তাদের চিন্তা-ভাবনাটা হচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মানেই “এর কোন যোগ্যতা নাই, ভাল ছাত্র না, ব্লা ব্লা”। দেখুন, আমরা নজরুলের প্রবন্ধে পড়েছিলাম, “মানুষের প্রৌঢ়তা আসে মনে, শরীরে না”। নতুনকে যারা দেখতে পারেন না, না দেখেন। একসময় “কর্মী” থাকতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা, এখন কর্মদক্ষতা আর শিক্ষার মানের উৎকর্ষতায় এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রচুর “কর্মকর্তা” ও আসছে। আর খারাপ ছাত্র? এমন কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নাই যেখানে খারাপ ছাত্র নাই। দোষটা শুধু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের খারাপ ছাত্রদেরই হয়।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় না থাকলে ৪ লক্ষ শিক্ষার্থীকে সরকার কোথায় শিক্ষা দিত? বটতলায়? নাহ, “কিছুতো” একটা করেই ফেলত। আসলে এই কিছুটাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। যতগুলা এ+ আসছে ততগুলা সিট কি সরকার সবগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দিতে পারবে? তারমানে কী? যে ছাত্র গুলো এ+ পেল কিন্তু পাবলিকে পড়ার চান্স পেলো না এরা ভুয়া?

কিছু বামপন্থী ছাত্র সংঘটন অনেক আগে থেকেই বলে আসছে “শিক্ষা কোন পন্য নয়, শিক্ষা আমার অধিকার”, নতুন করে পুরানো স্লোগান শুনতে খারাপ লাগে না। কিন্তু হায়, আসল জায়গা থেকেই সরে যাচ্ছি আমরা বারবার।

ভ্যাট যদি দেই, এটা আমারই কাজে লাগবে। কিন্তু আমি ছাত্র, আমি ভ্যাট দেব কেন? বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অবশ্যই ভাল শিক্ষা দিচ্ছে, কিন্তু এর বিনিময়ে যে পরিমান টাকা নিচ্ছে, সেদিকে কারোরই দৃষ্টি নেই! এক একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বাৎসরিক ন্যূনতম ৩০০ থেকে ১০০০ কোটি টাকা আয় করছে (খরচ বাদে)। এখান থেকে ভ্যাট না নিলে সরকার ভ্যাট নিবে কোথা থেকে !

এখন, আসুন দেখি বর্তমান পরিস্থিতি। তিনটা চরিত্র, ছাত্র, সরকার (মন্ত্রী) আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

১। ছাত্র আন্দোলন করছে ভ্যাটের বিপক্ষে (ভ্যাট দিবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ)। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষেরই যদি ভ্যাট দেয়ার কথা থাকে, তাহলে এই “বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ” ভ্যাটটা ছাত্রদের উপরে চাপিয়ে দেবে। আর আমরা কথাও বলতে পারব না এর বিরুদ্ধে কারন আমরা যেহেতু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, সুতরাং “অফ যাও, কারন তোমার ছাত্রত্ত আমার হাতে, বেশি কথা বললে ভার্সিটি থেকে বের করে দেব”।

২। সরকারও নির্বাক ! ভ্যাট আজ নয়তো কাল তোমাকে দিতেই হবে! যেখানে আন্দোলনটা হওয়া উচিৎ ছিল ” সাধারন ছাত্রের আন্দোলন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের টিওশন ফী বাড়ানোর বিরুদ্ধে, সেখানে এটা হয়ে গেল “সাধারন ছাত্রের আন্দোলন, সরকারের ভ্যাটের বিরুদ্ধে” ! আমি যদি কোন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক হতাম তাহলে আমার চেয়ে মজায় পৃথিবীতে আর কেউ থাকতো না। আমার জন্য এত্তগুলা ” কামলা ” এত্তমজা করে খাটতেসে। ওয়াও !!! আমি সফল মালিক!!!

৩। সমস্যাঃ
ক। সাধারন ছাত্ররা ভ্যাট দিবে না।
খ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে আয়-ব্যয়ের হিসাবসহ ভ্যাট দিতে হবে।
গ। প্রতি সেমিস্টারে ক্রমবর্ধমান টিওশন ফী নির্ধারণ করে দিতে হবে।

সমাধান একটাই, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে সক্রিয় করে সবগুলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম তত্ত্বাবধায়নের মাধ্যমে সরকারের নিশ্চিত করতে হবে,

ক। কোন সাধারন ছাত্রের পকেট থেকে যেন ভ্যাটের টাকা আদায় করা না হয়।
খ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ কেন কতটাকা একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নিচ্ছে তার যুক্তিযুক্ত হিসাব।
গ। প্রতি সেমিস্টারে টিওশন ফী নির্ধারণ করে দিতে হবে।(শিক্ষা কাঁচাবাজারের তরকারি না যে আজকে ২০০০ টাকা ক্রেডিট, পরের সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া ছাত্রের জন্য ২২০০ টাকা ক্রেডিট)।

সরকার, মন্ত্রী সবারই দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, দেখুন আমরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা সবাই কিন্তু গাড়ি কিংবা বাইক নিয়ে ক্লাস করতে আসি না। একটা মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার অনেক ইচ্ছা, তার এই ইচ্ছাটাকে গলাটিপে হত্যা করবেন না। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন, আপনাদের ঢের আছে, দিন না কিছু টাকা সরকারের কোষে, আর সরকারের কাছে আবেদন, আমরা আপনাদেরই সন্তান, আপনার সন্তানদের দেখভাল করার দায়িত্ব আপনাদের, আমাদের পকেট থেকে ভ্যাট যেন না নেয়া হয় সেটাও নিশ্চিত করার দায়িত্ব আপনাদের।