ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

“মোকুসাৎসু” -জাপানী ভাষার এই একটিমাত্র শব্দের জন্য ধুলোয় মিশে গিয়েছিল জাপানের দুই বিশাল জনপদ-হিরোশিমা ও নাগাসাকি। জুলাই ২৩, ১৯৪৫ সাল। মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পনের জন্য ক্লান্ত, নাস্তানুবুদ জাপানকে চরমপত্র দেয়া হয়। জবাবে প্রেস কনফারেন্সে জাপানী প্রধানমন্ত্রী কানতারা সুজুকি জানিয়ে দেন, ‘মোকুসাৎসু’- যার অর্থ মন্তব্য থেকে বিরত থাকা বা আপাতত সিদ্ধান্ত নাই। যার আরেকটা অর্থ হলো ‘ইগনোর’ । জাপান নিউজ এজেন্সি দ্বিতীয়টাই বেছে নেয়। পরের দিন লণ্ডন টাইমসের শিরোনাম হয় “টোকিও টু ইগনোরড…ডিটারমাইন টু ফাইট অন” এর সপ্তাহখানেক পরেই ‘লিটলবয়’ ও ‘ফ্যাটম্যান’ লন্ডভন্ড করে দেয় দুই সমৃদ্ধ নগরী।

“বাংলাদেশ ব্যাংক”- বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা মনিটরি অথরিটি। বাংলাদেশের বিজয়ের দিনে জন্ম নেয়া জনপ্রিয় এ প্রতিষ্ঠানটি এখন এক ক্রান্তিলগ্নে দাড়িয়ে। বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদের ভাষায় বাংলাদেশের অর্থনীতির উড়ন্ত সূচনার প্লাটফর্ম করে দিতে সাধারন জনগনের পর এককভাবে কোন প্রতিষ্ঠানকে সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দিলে তা সন্দেহাতীতভাবেই পাবে বাংলাদেশ ব্যাংক। হতদরিদ্র বাংলাদেশকে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করায় বিরাট অবদান রাখা, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান এশিয়ার সেরা গভর্নরের সম্মান অর্জনের পাশাপাশি মানবিক ব্যাংকিং,ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন, গ্রীন ফাইন্যান্স ও সর্বোপরি উন্নয়নের অর্থনীতিতে বাংলাদেশে ব্যাংকের কার্যক্রম বিশ্বব্যাংক,আইএমএফ এর কাছে রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এ অবস্থায় ৮ম পে-স্কেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মর্যাদাহানিকে বাংলাদেশকে কুঁড়ে-কুঁড়ে খাওয়া চলমান আমলাতান্ত্রিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই দেখা যায়। স্বার্থন্বেষী মহল গ্রেড নামিয়ে দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি মূর্খতা অথবা র্ধূততার প্রমান দিয়ে বিগত পে-স্কেলে পরিবর্তন এনে বাংলাদেশ ব্যাংককে সাধারণ বিশেষায়িত ব্যাংকের কাতারে নামিয়ে এনেছে। তাই এই ষড়যন্ত্রর বিরুদ্ধে আজ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ রুখে দাড়িয়েছেন। মর্যাদার প্রশ্নে কোন ছাড় নয়…এ জন্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবিঃ

#‎দাবি‬ নং-১ঃ ” ৮ম জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ এর গেজেটে বাংলাদেশ ব্যাংক-কে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের ‘নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ/কেন্দ্রীয় ব্যাংক’ এর মর্যাদায় পৃথকভাবে উল্লেখ করতে হবে”। কাজের গুরুত্ব ও আওতা বিবেচনায় পাকিস্তান আমলেও স্বতন্ত্র পে-স্কেল ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের। ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তা হতে তারা বেশি বেতন পেতেন। আন্তর্জাতিক মানের একটি নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এখানে আসে বাংলাদেশের সেরা প্রতিষ্ঠানসমূহের সেরা মেধাবীরা। কোন পর্যায়ে তৃতীয় শ্রেনী ছাড়া অন্তত দুটি প্রথম শ্রেনী প্রয়োজন এখানে পরীক্ষা দিতেই যা বিসিএস এ নেই উপরন্তু বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে বিসিএস এর পরীক্ষা পদ্ধতিও বিতর্কিত । এক সাক্ষাৎকারে পে কমিশনের চেয়ারম্যান মহোদয়ের যুক্তি ছিল উন্মূক্ত পরিক্ষায় যিনি জিতবেন তিনি ক্যাডার হিসেবে অষ্টম গ্রেড আর যারা পেছনে থাকবেন তারা নন ক্যাডার হিসেবে নবম গ্রেড পাবেন। ভাল যুক্তি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পিএসসি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরীক্ষা নেয় না এবং বিসিএস এর চেয়ে নিশ্চিতভাবেই আরো বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ন (সাংখ্যিক,গুনগত,স্বচ্ছতা সব মানদন্ডেই) মেধার পরীক্ষায় বিজয়ীরা কোন যুক্তিতে নিচের নবম গ্রেডে থাকবে? সময়ের প্রয়োজনেই আজ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবার দাবি- “মর্যাদার প্রশ্নে কোন আপোষ নয়”।

#‎দাবি‬ নং-২ঃ “কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ পদ ‘নির্বাহী পরিচালক’ পদকে জাতীয় বেতন স্কেলে ১ম গ্রেডে উন্নীতকরণ এবং পরবর্তী অন্যান্য পদসমূহের বেতন গ্রেড সে মোতাবেক সমন্বয়”। কাজের পরিধি ও গুরুত্ব বিবেচনায় পকিস্তান আমলের মতো বা বিশ্বের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ন্যায় সরকারি আমলাদের তুলনায় বেশি মর্যাদার দাবি করা উচিত ছিল কিন্তু নিন্মশ্রেনীর আমলাতান্ত্রিক ষড়যন্ত্রের কারণে তাদের করতে হচ্ছে সমান মর্যাদার জন্য লড়াই। দেশের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রনকারী প্রতিষ্ঠানের চারহাজার প্রথম শ্রেনীর নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্যে কেন গ্রেড ১ এর কর্মকর্তা নেই। -এ এক বিরাট বিস্ময়! তাই আজ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবার দাবীঃ “মর্যাদার প্রশ্নে কোন আপোষ নয়”।

#দাবি নং- ৩ঃ “কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সহকারী পরিচালক হিসেবে প্রবেশ পদ জাতীয় বেতন স্কেলে ৯ম গ্রেডের পরিবর্তে ৮ম গ্রেডে ন কেন্দ্রীয় ির্ধারণ”। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগন কোনভাবেই মেনে নেবে না যে, বাংলাদেশ ব্যাংক দ্বিতীয় সারির মেধাবীদের জায়গা হোক।সার্বিক জাতীয় উন্নয়নকে টিকিয়ে রাখতেই দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের দেশসেরা মেধাবীদের প্রিয় যায়গা হয়ে থাকুক সেন্ট্রাল ব্যাংক- তাদের প্রানের ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’।যথাযথ কারণেই আজ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবার দাবীঃ “মর্যাদার প্রশ্নে কোন আপোষ নয়”।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক -কে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে অবনমনের প্রচেষ্টাকারী সকল কুচক্রিমহল সহ সংশ্লিষ্টদের আজ জানা প্রয়োজন সে জাপানী শব্দ ‘মোকুসাৎসু” -ব্যবহারের দৃষ্টান্ত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবার কাছে যার একটাই অর্থ “We Ignore”. এভাবে চলতে থাকলে তার পরিণতি শুভ না হওয়াটাই স্বাভাবিক। মহাবিজ্ঞানী নিউটনের বিখ্যাত ৩য় গতিসূত্রের ব্যবহারিক প্রয়োগের দৃষ্টিকোন থেকে এই “Ignore” -এর কারণে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়াসমূহের দায়ভার সে “কুচক্রীমহল” -কে ই নিতে হবে। কারণ ইতোমধ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হৃদয়ে প্রোথিত হয়ে গিয়েছে- “মর্যাদার প্রশ্নে কোন আপোষ নয়”।

কৃতজ্ঞতাঃ হাসান শাহরিয়ার পলক