ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

কেন এমন হল ? এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। তুমি তো জামাত-শিবির করতে না । রাজাকার কিংবা যুদ্ধাপরাধের তালিকায় তো তোমার নাম ছিল না। তুমি কি বিএনপি করতে বিশ্বজিৎ? মনে হয় না । তুমি জীবিকার তাগিদে ঢাকায় এসেছিলে। পেরেছিলেও তুমি । তোমার মা কল্পনা দাস বলেছেন তুমি রাজনীতি করতে না । অর্থাভাবে তোমার বাবা অনন্ত দাস তোমাকে লেখা পড়া করাতে পারেন নি । তাই ছোট বেলা থেকেই তোমাকে সংসারের হাল ধরতে হয়েছিলো ।

বাবা-মায়ের কলিজার টুকরা ছিলে তুমি । ছিলে তাদের স্বপ্নভরা রঙ্গিন পৃথিবী । ঘাস ফড়িঙের মত সারাক্ষণ উড়ে বেড়াতে তাদের মনের আঙ্গিনায় । তোমাকে হারিয়ে তারা এখন বিধ্বস্ত । এলোমেলো তাদের সবকিছু । তারা এখন নীরব , নিস্তব্ধ , নির্বাক । দুঃখ আর ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে বেদনার অথৈ জলে হাবুডুবু খাচ্ছেন তারা । তোমার বন চন্দনা ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে । আর কখনই সে তোমাকে দাদা বলে ডাকতে পারবে না । কখনই না ।

তোমাকে যারা চাপাতি দিয়ে কুপিয়েছে , রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে , শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কারাগারে আজীবনের জন্য বন্দি করেছে , তাদের পরিচয় জানো তুমি বিশ্বজিৎ ? ওদের ভিতরে মায়া দয়া বলতে কিছুই নেই ।

ছাত্রলীগ, শিবির , ছাত্রদল এরা ভাই ভাই । এরা তোমাকে আমাকে পিটিয়ে মারবে । নষ্ট রাজনীতির পচা ডাস্টবিন থেকে যারা দূরে আছি , তাদেরকেই এরা শিকার হিসেবে বেছে নিবে ।তুমি কিছুই জানো না বিশ্বজিৎ । কিছুই না । তোমার নিস্প্রান সেই নিথর দেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব । আসলে উনি গিয়েছিলেন সহানুভূতির বাইস্কোপ প্রদর্শন করতে ।

যাদের ডাকা অবরোধে তোমার মায়ের কোল শূন্য হল , তোমাকে নির্মমভাবে প্রাণটা হারাতে হল,তারা আগামীকাল হরতাল ডেকেছে । তাদের আরও লাশ চাই । আরও লাশ । তুমি চলে গেছো বেঁচে গেছো । সত্যিই বেঁচে গেছো । তোমাকে যারা হত্যা করেছে , এদেশের মাটিতে তাদের বিচার হবে কোন দিনই । দোয়া করি ওদের মৃত্যু যেন আর করুণভাবে হয় । আর কিছুই বলার নেই । ভালো থেকো তুমি । অনেক ভালো ।