ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

কলা ভবনের নিচতলা । ১২২ নাম্বর রুম । ক্লাস শেষ করে কলা ভবনের মেইন গেটের সামনে এসেছি মাত্র । দেখলাম ক্যাম্পাসে ছুটাছুটি করছে শিক্ষার্থীরা । যে যার মত দৌড়াচ্ছে । ভাবলাম হয় তো কোন সংগঠন দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে । কিন্তু সবাই কলা ভবনে ঢুকছে । দোতোলায় উঠে যাচ্ছে অনেকেই । ডিপার্টমেনটের অফিস আর ক্লাস রুমে পাল্লা দিয়ে ঢুকছে সবাই । বুঝলাম কিছু একটা হয়েছে । আমিও আমার ডিপার্টমেনট এর অফিসে আশ্রয় নিলাম ।

সকালে ক্যাম্পাসে এসে যখন কলা ভাবনের সামনে ভার্সিটির বাস থেকে নামলাম , তখনই দেখলাম চারপাশে অনেক পুলিশ । চায়ের কাপে ” ক্যাম্পাসে পুলিশ ” এই আলোচনা উঠলেও খুব একটা লম্বা হয় নি ।

কলা ভবন থেকে বের হতেই দেখলাম ছাত্রলীগের মিছিল । সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে দাঁড়ালাম আমি , মিলন আর জুবায়ের । সিঙ্গারা , চপ আর মাশরুম নিলাম আবুলের দোকান থেকে । কেমন যেন বারুদ পোড়া গন্ধ । শুনলাম সমাজবিজ্ঞান ভবনের আশপাশে পরপর চারটি এবং কলাভবনের পাশে দুটি হাতবোমা বিস্ফোরিত হয়েছে এই কিছুক্ষন আগেই । সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এনেক্স ভবনের সামনে প্রথম ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে । কার্জন হলের সামনে , টিএসসিতে , মহসিন হলের সামনে , জহুরুল হক হল গেটের উল্টো দিকে , লাইব্রেরির পেছনে পুরো ক্যাম্পাসে মোট ১১ টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে । আজ নাকি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের আসার কথা ছিল । ছাত্রলীগের বাধার মুখে পড়ে ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পেরেই নাকি তারা এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে ।

হাকিম চত্বরে চায়ের কাপে চুমুক দিতেই মোবাইল বেজে উঠল । বাবার কল । তুমি কোথায় ? বললাম ক্যাম্পাসে । ক্লাস আছে ? বললাম , না । তাড়াতাড়ি বাসায় চলে যাও । পরিস্থিতি খুব একটা ভাল না । মতিঝিলে পুলিশের সাথে শিবিরের ব্যাপক সংঘর্ষ হচ্ছে । তোমাদের ক্যাম্পাসে ও নাকি অনেক ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে । খবরে দেখাল । আমি বললাম । হুম । শুনলাম । এই তো ১ , ৩০ এর বাস ধরে বাসায় চলে আসব ।

আজকের এই ককটেল বিস্ফোরণে আতঙ্কিত সাধারন শিক্ষার্থীরা । আতঙ্কিত অবিভাকরাও । বিশেষ করে এই বছরে ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থীদের চেহারায় এখন আতঙ্কের ছাপ । দেশের অন্যান্য ভার্সিটির ক্যাম্পাসের তুলনায় এত দিন বেশ শান্তই ছিল আমাদের প্রিয় ঢাবি ক্যাম্পাস । আশা করছি এই সরকারের আমলে বিগত চার বছরের মত বাকি দিন গুলতেও ক্যাম্পাস শান্ত থাকবে । পড়া লেখার ভাল একটা পরিবেশ বজায় থাকবে ।