ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগের অন্যতম পূর্ব শর্ত হচ্ছে ডিপার্টমেন্টে সেমিস্টার বা ইয়ারে প্রথম স্থান অধিকার করা। ডিপার্টমেন্টে প্রথম স্থান অর্জনকারী ছাত্র বা ছাত্রীকেই শুন্য স্থান পূরণের ভিত্তিতে খণ্ডকালিন অথবা পূর্ণ শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় । শিক্ষক হওয়ার জন্য সে কতটুকু যোগ্য, সামনে দাড়িয়ে কথা বলা, লেকচার ডেলিভারি সক্ষমতা, আচার আচরণ, নম্রতা ভদ্রতা ছাড়াও শিক্ষক হওয়ার জন্য তার আরও যে সকল যোগ্যতা থাকা আবশ্যক তা আছে কি না সেটা মোটেও বিবেচ্য বিষয় নয় । সবচেয়ে বড় কথা যে সে মেধাবী স্টুডেন্ট আর মেধাবী বলেই সে প্রথম স্থান অর্জন করতে পেরেছে । সুতরাং সেই শিক্ষক হওয়ার জন্য বেশি যোগ্য ।

সূর্যালোকের মত এ কথা সত্য যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত অধিকাংশ শিক্ষকই ক্লাস লেকচারে খুব বেশি বিরক্তিকর । তারা ঠিক মত ক্লাস নিতে সক্ষম নন । প্রায়ই তারা অপ্রস্তুত। ছাত্র ছাত্রীদের সাথে কেমন আচরণ করা উচিত, কোন পরিস্থিতিতে কি বলা উচিত, কি করা উচত এই সব ব্যাপারে তারা একেবারেই ওয়াকিফহাল না । শিক্ষার্থীদের কে বোঝার যে ক্ষমতা তা তাদের মাঝে বিন্দু মাত্রও থাকে না ।

নতুন শিক্ষকরা শুরুতেই হয়ে ওঠেন খুব দাপুটে । শিক্ষার্থীদের সামান্য অপরাধে তারা কঠোর হয়ে উঠেন । অপরাধ করা স্টুডেন্টের পরিক্ষার খাতায় তিনি তার শিক্ষক হওয়ার একটা ছাপ রেখে দেন। একজন প্রফেসর বা সিনিয়র শিক্ষক যেমন বন্ধু সুলভ আচরণ করেন অধিকাংশ নতুন শিক্ষকরা সম্পূর্ণই এর বিপরীত ।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি যুদ্ধে জয়ী হয়েই একজন সাধারণ স্টুডেন্ট হয়ে ওঠেন অসাধারণ । ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সর্ব ক্ষেত্রেই তিনি হয়ে উঠেন অনেক টা দাপুটে । এই দাপুটে হওয়া মোটেও খারাপ নয় যদি সেটা ভাল ক্ষেত্রে হয়। এক্ষেত্রে স্টুডেন্টের তুলনায় নতুন শিক্ষক কতটা দাপুটে হতে পারে তা কিন্তু সহজেই অনুমেয় ।

দুই দিন আগে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ছিল এখন সে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ই শিক্ষক । স্টুডেন্ট এর অনেক আচরণ ই তার মাঝে বর্তমান থাকে । থাকবে । এটাই স্বাভাবিক । তাই নতুন শিক্ষকদের জন্য যথার্থ প্রশিক্ষণ আবশ্যক। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণের কোন ব্যবস্থাই নেই । ক্লাসে নতুন শিক্ষক সঠিকভাবে লেকচার ডেলিভারি করতে পারছেন কি না , শিক্ষার্থীদের চাহিদা কতটুকু পূরণ করতে পারছেন সে ব্যাপারে ডিপার্টমেন্ট বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনই নজরদারী থাকে না ।

নতুন শিক্ষকদের ক্লাসে খুব বিরক্ত হয়ে ক্লাস করার ইচ্ছে পায় শেষ। জানতে ইচ্ছে হল এই সমস্যা কি আমার ডিপার্টমেন্ট ই না অন্যান্য ডিপার্টমেন্ট বা অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা একই । ছোট খাট একটা জরিপ করলাম। নিজের অভিজ্ঞতা হুবহু মিলে গেল । শিক্ষার্থীদের সহজ উত্তর ” ক্লাসে তারা বিরক্তিকর”।

 

নতুন শিক্ষকরা একটা সময় সিনিয়র শিক্ষক হন । প্রফেসর হন । কিন্তু এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় কতজন যে ভিক্তিম হতে হয়, কত কাঠ খড়ি জলাঞ্জলি দিতে হয় তা ভুক্তভোগীরাই ভাল জানেন ।