ক্যাটেগরিঃ আর্ত মানবতা

 

শপিং মল, মার্কেট আর বিপনি বিতানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় । মানুষ আর মানুষ। রাস্তায় যেমন গাড়ির জ্যাম বাঁধে, শপিং মল আর মার্কেটগুলোতে এখন মানুষের জ্যাম। অলিতে গলিতে হাঁটার যো নেই। ছেলে মেয়ে শিশু বৃদ্ধ সবাই শপিং এ বুঁদ । কেনাকাটা নিয়ে সবাই ব্যস্ত। সেই সাথে ম্যচিং এর ব্যাপার তো আছেই ।
নিউ মার্কেট, চাঁদনী চক, ধানমণ্ডি হকারস, গাউছিয়া, বসুন্ধারা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্কসহ রাজধানী জুড়ে শপিং মল আর বিপনি বিতানের হিসেব দেওয়া খুব কঠিন। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকার রাস্তার পাশের দোকান তো আছেই। সবখানেই ভিড়। সবাই কিনছে। কিনছে আর কিনছে । যেন কেনাকাটার কেয়ামত শুরু হয়ে গেছে। আশেপাশে দেখার সময় ই নেই ।

ঈদের নামাজের জন্য পাঞ্জাবি পায়জামা, নামাজের পর ঘুরতে বের হওয়ার জন্য শার্ট প্যান্ট, বিকেলের জন্য টি শার্ট জিন্স কিংবা পাশের বাসার ভাবি কিনেছেন পাঁচ হাজার টাকার শাড়ি আমার তো ছয় এর কমে শাড়ি না কিনলে ই না । বাবা এক সেট, মা এক সেট, মামা, চাচা, খালা সবাই এক সেট করে দিতে দিতে সোনামণির জামার সংখ্যা দশ ছাড়িয়েছে। আর দাদা তো বলেই দিয়েছে আমার দেওয়া জামা টা ঈদের দিন সকালেই অকে পড়িয়ে দিও। এই হচ্ছে হিসেব নিকেশ। যে যার সাধ্য মত কিনছে। এক সেট, দুই সেট, তিন সেট। কিন্তু যাদের সাধ্য ই নেই তারা কি কিনবে ? ওরা তো ঠিক মত খেতেই পারে না। ডাস্টবিনের পচা খাবার খেয়ে, রাস্তায় ফুল বেচে, ফুলের মালা বেচে ওরা বেঁচে থাকে। ওদের জন্য আবার ঈদ কিসের। ওরা তো পথশিশু। হত দরিদ্র। অভাগা। ঈদ তো ধনিদের, যাদের ন্যূনতম সামর্থ্য আছে তাদের । সত্যি ই কি তাই ?

শপিং শেষে যখন বের হচ্ছি তখন হয় তো শপিং ব্যাগ আমাদের হাতেই আঁটছে না। অনেকগুলো ব্যাগ। অনেক কিছুই তো কেন হয়েছে তাই হাতে না আটারই কথা । একজন পথশিশু এসে যখন হাত পেতে বলছে স্যার পাঁচটা টাকা দিবেন, স্যার একটা নতুন জামা দিবেন কিংবা কোন হতদরিদ্র মা তার সন্তানের একটা নতুন জামা চাইছেন তখন কি আমরা তার কথার, তার আবদারের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করি ? হয় তো করি না । আমরা চাইলেই কিন্তু তাদের ন্যূনতম একটা নতুন জামার আবদার পূরণ করতে পারি ।

নিজের পরিবারের জন্য তো আমরা কত টাকাই খরচ করছি। আজেবাজে অনেক কাজেই আমরা কত টাকাই তো বেহিসেবি খরচ করি। ঈদ উপলক্ষে একটা পথশিশুর জন্য অল্প কিছু টাকা বাঁচিয়ে আমরা চাইলেই কিন্তু তাকে একটা নতুন জামা কিনে দিতে পারি। মামা চাচা বা বড়দের কাছ থেকে দশ বিশ বা পঞ্চাশ টাকা চাঁদা তুলেও আমরা আমাদের আশেপাশের একটা পথ শিশুর মুখে হাঁসি ফুটাতে পারি ।
শুধু পথশিশুই নয় আমরা চাইলেই একজন দরিদ্র মানুষের ঈদ উদযাপনের সঙ্গি হতে পারি। ঈদ মানেই তো ধনি গরিবের মাঝে আনন্দ ভাগাভাগি। আমরা কি তাদের সাথে এতটুকু আনন্দ ভাগ করে নিতে পারি না ? চাইলেই পারি । পাঁচ টা পরিবার মিলেও যদি একটা পথশিশুর নতুন জামা কিনে দিতে পারি আমার বিশ্বাস আমাদের চারপাশের সব পথশিশুর মুখেই প্রশান্তির হাঁসি দেখা যাবে। তাদের মুখে হাঁসি ফুটানোর দায়িত্ব কিন্তু এই সমাজের, আমাদেরও ।